শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শহীদদের স্মরণে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন  » «   ইসি সংবিধান লঙ্ঘণ  করছে : মোমিন মেহেদী  » «   সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ পাসের হার ৯৫.৩১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩৭ জন  » «   চিঠিতে হত্যার হুমকি‘আপনার মৃত্যু অনিবার্য, সাবধান হয়ে যান’  » «   তামিল অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   রবিবার স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ  » «   স্বর্ণের দাম ভরিতে কমলো ১১৬৬ টাকা  » «   স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটার জন্য লোক ভাড়া করেন স্ত্রী, এরপর…  » «   ইসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মীদের অসন্তোষ  » «   এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন কবে থেকে শুরু?  » «   বিয়ে করতে না পেরে কিশোরের এ কেমন পাগলামি!  » «   বন্ধুর মুখে বন্ধুকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা!  » «   ব্রাজিল ছেড়ে পর্তুগালে যোগ দিবেন কুতিনহো?  » «   ‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি এদেশে রাজনীতি করতে পারবে না’  » «   ৯০ দিন বাড়ল কোটা পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ  » «  

সিলেটে হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড



নিউজ ডেস্ক ::সিলেটে হত্যা মামলায় আটজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থ দন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালতের বিচারক মফিজুর রহমান ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সিলেট সদর উপজেলার জৈনকারকান্দি গ্রামের মৃত তাজুল্লার ছেলে ইশরাদ আলী (৪৫), তেরা মিয়া (৩০), বাবুল মিয়া (৩৮), কামাল মিয়া (৩৫), একই গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২৫), পার্শ্ববর্তী জালালাবাদ ইউনিয়নের সতর টেকার বাড়ি গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে সমছু মিয়া (২৭), নন্দিরগাও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (২৫), ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম সিরাজ নগর গ্রামের মৃত আঙ্গর আলীর ছেলে আকবর আলী (৩০)। সে বর্তমানে এসএমপি’র কোতয়ালি থানার বাগবাড়ি এলাকর ১৪৭ নম্বর বাসার বাসিন্দা। এছাড়া মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন জৈনকার কান্দি গ্রামের মৃত তাজুল্লার স্ত্রী ফুলবানু বেগম।

আদালত সূত্র জানায়, সিলেটের সদর উপজেলার জৈনকার কান্দি গ্রামের ইরশাদ আলীদের সাথে জায়গা জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল একই গ্রামের ফয়জুর রহমান ও তার ভাইদের। এ সকল বিষয় নিয়ে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষের জের ধরে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী কামাল মিয়ার বোন বাদি হয়ে এসএমপি’র জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর উভয় পক্ষকে নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা করে উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজন ও এলাকার মুরব্বিয়ানগণ। এর মধ্যে ফয়জুর রহমান তার স্ত্রী ও দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যান। সেখান থেকে তিনি তার বউ বাচ্চাদের সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরেন ৬ সেপ্টেম্বর। বাড়ি ফেরার সময় তার বউ বাচ্চাকে নৌকা যোগে বাড়ি পাঠান। তার স্ত্রী বাড়িতে আসার পর রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ি ফিরেননি ফয়জুল। স্ত্রী তার বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৬ টায় ফয়জুরের স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেন তার মেঝো ঝা। এসময় তিনি বলেন ঘরের দরজা খোলা কেন। তখন ফয়জুরের স্ত্রীকে তার ঘরে গিয়ে দেখেন তার স্বামীর মৃতদেহ তার দ্বারা গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় ফয়জুরের স্ত্রী হাফসা বেগম বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা (০৭(৯)১১) দায়ের করেন।

এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার এসআই এনামুল হক চৌধুরী ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মামলার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচারকার্য শুরু হয়। আদালতে দীর্ঘ শুনাণী ও ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ৯ আসামির মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে দোষী সাব্যস্থ করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। তাছাড়া একমাত্র নারী আসামিকে খালাস দেন আদালতের বিচারক বিচারক।
সিলেট মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মফুর আলী জানান, সিলেট সদর উপজেলায় ফয়জুর রহমান হত্যা ঘটনায় ৮ জনের বিরুদ্ধে যাব্বজীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বাবুল ও বিল্লাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। এছাড়া মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন নন্দিরগাওয়ের ফুলবানু বেগম।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: