রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ, ফার্মেসিতেই চিকিৎসা  » «   ৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত  » «   এবার স্পেনও ছাড়ালো চীনকে, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩৮ মৃত্যু  » «   সিলেট বিভাগে বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন বন্ধ  » «   করোনা মোকাবিলায় দেশে দেশে লকডাউন  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি, করোনা বদলে দিচ্ছে রাজনীতি  » «   খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্র  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখছেন ড. কামাল  » «   করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গ্রিসে লকডাউন  » «   বান্দরবানের ৩ উপজেলা লকডাউন  » «   ইতালিতে একদিনে ৭৪৩ জনের মৃত্যু  » «   ফ্রান্সে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮৬ মৃত্যু  » «   নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত ২০ হাজার ছাড়াল  » «   সাধারণ ছুটিতে চালু থাকবে ব্যাংক  » «   করোনাভাইরাস: উৎকণ্ঠিত সিলেট, উদ্বিগ্ন মানুষ  » «  

সিলেটের বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম



নিউজ ডেস্ক:: সিলেটের বাজারে কমছে পেঁয়াজের দাম। গত একদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা। এর আগে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় গত ৩ দিনে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল ৫০ টাকার অধিক। অর্থাৎ গত রোববার সকাল পর্যন্ত যে পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি হয়েছিল, রাতেই সেই পেঁয়াজের দাম উঠে ১০০ টাকায়। সময়ে সময়ে বেড়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১১০ টাকা দামেও তা বিক্রি হয়েছে।

কেবল তাই নয়, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মজুদ করা শুরু করেন পেঁয়াজ। কিন্তু মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে সাথে সাথেই পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। দেশের অন্যান্য জায়গার মতো সিলেটেও কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের মূল্য।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে সিলেটের পাইকারি বাজার কালীঘাট পেঁয়াজের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ কেজি প্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বিক্রি হওয়া সবগুলো পেঁয়াজই ভারতীয় পেঁয়াজ। মান আর ধরণের উপর ভিত্তি করে এসব পেঁয়াজই গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সর্বনিম্ন ৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তের ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলেও গতকাল রাতেই সিলেটের কালিঘাটে বেশ কয়েক ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। রপ্তানি বন্ধ করার পরও ভারতীয় পেঁয়াজ এলো কী করে- এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ভারত রপ্তানি বন্ধ করার খবর প্রচার হওয়ায় সাথে সাথে বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় পেঁয়াজ মজুদ করা শুরু করেন। এতে দাম যতটা বাড়ার কথা, তার থেকে দ্বিগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে এখন লাভের বদলে লোকসান হতে পারে ভেবে তড়িঘড়ি করেই মজুদ করা পেঁয়াজগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন বাজারে।

তবে গতকাল মঙ্গলবার রাতে কয়েক ট্রাক পেঁয়াজ সিলেটের বাজারে আসায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন কালীঘাটের পেঁয়াজের আড়ৎ ব্যবসায়ী নীলাঞ্জন দাশ টুকু। আলাপকালে তিনি জানান, গতকাল রাত পর্যন্ত যে পেঁয়াজ ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, আজ সেই পেঁয়াজ ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার মান ভেদে ৭০ টাকায়ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে সিলেটের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও খুচরা বাজারে এখনও পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বগামী। কোথাও কোথাও স্থিতিশীল। বিশেষ করে মুদি দোকানিরা পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমূল্যকে কাজে লাগিয়ে আদায় করছেন বাড়তি মুনাফা। খুচরা বাজারে আজও সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নগরীর রিকাবিবাজার, লামাবাজার, সুবিদবাজার ও জিন্দাবাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে দেখা গেছে লাগামহীন দামের ছড়াছড়ি। দাম বাড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামতো দাম আদায়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

স্কুল শিক্ষিকা ফাহমদা নাসরিন পেঁয়াজ কিনছেন সুবিদবাজারের একটি দোকান থেকে। তিনি অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেঁয়াজের দাম সারা দেশেই বেড়েছে। এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এসব দোকানে ইচ্ছামতো দাম আদায় করা হচ্ছে। ১৩০ টাকা দিয়ে কিনলাম ১ কেজি পেঁয়াজ।

এদিকে, বাংলাদেশে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয় হিলি, বুমরা, সোনা মসজিদ- এই তিন সীমান্ত দিয়ে। কিন্তু ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় এই তিন সীমান্ত দিয়ে এখন কোনো পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এসব সীমান্ত থেকে সিলেটের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহকারী আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, আপাতত কোনো পেঁয়াজ এই তিন বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে না। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার লোভে পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন। তারাই এখন এসব পেঁয়াজ বাজারে ছেড়েছেন। তবে মিয়ানমার থেকে নৌপথে কিছু পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।

কিন্তু যা আমদানি হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করলে পেঁয়াজের দাম মুহূর্তেই কেজি প্রতি আবার ২০ টাকায় চলে আসবে।

অপরদিকে বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারা দেশে দু’একদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে ৪৮৩ টন পেঁয়াজ এসেছে। আরও ৪০০-৫০০ টন আজ আসবে। ফলে কাল বা পরশুর মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৬০-৭০ টাকায় চলে আসবে। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: