বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনে এজেন্ট পাওয়া নিয়ে চিন্তায় বিএনপি  » «   ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি  » «   ডিসিদেরকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট  » «   বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী  » «   নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে নতুন দুর্নীতির মামলা  » «   সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা বাতিল  » «   টাইম ম্যাগাজিনে বর্ষসেরায় খাসোগিসহ চার সাংবাদিক!  » «   সৌদির অনুমোদন নিয়ে আরাফাতকে হত্যা: বাসাম  » «   ফাইনালের আগেই থেমে গেল মোদির বিজয়রথ!  » «   ফখরুলের গাড়িবহরে হামলায় ইসি বিব্রত: সিইসি  » «   খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা: অনুলিপি না লেখায় সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত  » «   ‘নতুন বোতলে পুরাতন বিষ জামায়াত এখন ধানের শীষ’  » «   আজ সিলেট থেকে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার শুরু  » «   ঐক্যফ্রন্টের টার্গেট তরুণ ভোটার, সুশাসন ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ  » «   আজ থেকে নির্বাচনী প্রচারে নামছেন শেখ হাসিনা  » «  

সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে গ্রামীণফোন!



তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:: মিরপুরে ‘মোনাডিক্স বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা ৪২টি কোম্পানির নামে একদিনে ৮৮৬টি সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে।গ্রামীণফোন সেল সেন্টারের সহযোগিতায় একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করছে।ওই সিমগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,মিরপুরে অবস্থিত বিকাশ এজেন্ট ও সিম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘মোনাডিক্স বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা ৪২টি কোম্পানির নামে একদিনে ৮৮৬টি সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে।সব সিমই কর্পোরেট সিম হিসেবে বিক্রি দেখানো হয়েছে। অথচ ওইসব প্রতিষ্ঠান জানে না যে, তাদের নামে অবৈধভাবে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

সম্প্রতি শ্রীলংকান এক নাগরিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব অবৈধ সিমের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও ভাসানটেক থানা পুলিশ।এদিকে প্রতারণার অভিযোগে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতারিত প্রতিষ্ঠানগুলো।এরই মধ্যে প্রতারিতদের কেউ কেউ র‌্যাব-পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছে।অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ।

প্রতারিত স্বপ্ন এগ্রো ফার্মের প্রোপ্রাইটর মোহাম্মদ আমিনুল হাসান বলেন, ৩১ জানুয়ারি গ্রামীণফোনের ধানমণ্ডি সেল সেন্টার থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নামে ২০টি কর্পোরেট সিম কিনি।৫ অক্টোবর শুক্রবার র‌্যাব আমাদের জানায়, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে আরও অতিরিক্ত সিম অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন করে রেখেছে গ্রামীণফোন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমাদের নাম ব্যবহার করে ২০০ সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শনিবার র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।এ নিয়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মানহানি ও প্রতারণার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।গ্রামীণফোন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকারী মোনাডিক্স বাংলাদেশের কর্মকর্তা মুশফিকুল হাসান ওরফে হাসনাতের সঙ্গে পরিচয় গোপন করে কথা বলে জানা যায়,প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউটর তৌফিক ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানিয়া গ্রামীণফোন কর্মকর্তা তানভীনুর রহমানসহ অন্যদের যোগসাজশে ভুয়া নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণফোন ও মোনাডিক্স বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশন করছিলেন।স্বপ্ন এগ্রো ফার্মের নামে গত জুনে ২০০ সিম অবৈধভাবে অ্যাকটিভ করা হয়।হাসনাত বলেন, শুক্রবার র‌্যাব কর্মকর্তারা আমাদের অফিসে আসেন।তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর আমাকে র‌্যার-৪-এর কমান্ডিং অফিসার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের কাছে নিয়ে যায়।

আমি তাকে জানাই, তানিয়া নামের এক মেয়ে ভুয়া নামে সিম বেশি রেজিস্ট্রেশন করত। সে এখন চাকরি ছেড়ে একটি কলেজে যোগ দিয়েছে।আমিও চাকরি ছেড়ে দেব।চাকরি ছেড়ে দেয়ার আগে বিষয়টি আপনাদের ধরিয়ে দিয়ে যাই।হাসনাত জানান,কয়েকদিন আগে ভাসানটেক থানার এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ আমাদের অফিসে আসেন।তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান,গ্রামীণফোন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এখান থেকে ভুয়া নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।ওই সিম দিয়ে এক শ্রীলংকান নাগরিককে হুমকি দেয়া হয়েছে। তখন মোনাডিক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে তো অনেকে চাকরি করেছেন। তাদের মধ্যে হাসনাত নামের একজন ছিলেন।

তিনিও চাকরি ছেড়ে ৪-৫ মাস আগে নড়াইল চলে গেছেন।আমি তখন অফিসে ছিলাম।জানতে চাইলে র‌্যাব-৪-এর কমান্ডিং অফিসার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে ১৯ সেপ্টেম্বর এক শ্রীলংকান নাগরিক ভাসানটেক থানায় জিডি করেন।

ওই জিডির বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে গ্রামীণফোনের ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া গেছে।বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তাই তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ভাসানটেক থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ বলেন,ঘটনাস্থল ভাসানটেক থানার মধ্যে নয়।ওই স্থানটি ক্যান্টনমেন্ট থানার মধ্যে পড়েছে।তারপরও আমাদের থানায় জিডি হয়েছে।জিডির তদন্ত করছেন এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ।বিষয়টি নিয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ বলেন, জিডির বাদী শ্রীলংকান নাগরিক এএইচ নিশান্তা ইউকুম একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে ১০ কোটি টাকা দাবি করা হয়।অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি জিডি করেন। ইউকুমকে যখন হত্যার হুমকি দেয়া হয় তখন ওই সিমটির অবস্থান ছিল মাদারীপুরের রাজৈর এলাকায়।

এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ আরও বলেন, গ্রামীণফোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এভাবে সিম রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব নয়।জানতে চাইলে গ্রামীণফোন হেড অফিসের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) রাজিব হাসান বলেন, গ্রামীণফোন অনেক বড় প্রতিষ্ঠান।

এ প্রতিষ্ঠান কোন শাখা থেকে কে কী ধরনের অপকর্মে লিপ্ত তা সহজেই বলা সম্ভব না।তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে যেহেতু র‌্যাব ও পুলিশ তদন্ত করছে,তাই এ নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: