মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পর্নোগ্রাফির মামলা নিয়ে ভাবছেন না কুসুম শিকদার  » «   ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আশরাফুল  » «   ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী  » «   মানববন্ধনে রিজভীচাল নেই: সরকারি গোডাউনে ইঁদুর খেলা করছে  » «   নতুন বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন ময়ূরী  » «   ‘যৌন নিপীড়ন বন্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে’  » «   মৌলভীবাজারে অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ  » «   ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়াদের অভিভাবকের নাম অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট  » «   পদ্মায় নিখোঁজ কনস্টেবলের মরদেহ ২৪ ঘন্টায় উদ্ধার হয়নি  » «   রাজধানীর পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন  » «   উপজেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ওএমএস  » «   ‘মধ্যরাতে আমাকে ঘিরে ধরে মাতালেরা, এরপর শুরু করে…’  » «   ভদ্র চালকদের জন্য পুরস্কার  » «   শাহজালালে সিগারেটসহ ৬ ভারতীয় নাগরিক আটক  » «   ৮ সন্তানকে আনতে পেরেছি আরেকজন জেলে  » «  

সাপাহারে শাওন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ভুল অপারেশনের অভিযোগ!



মনিরুল ইনসলাম,সাপাহার(নওগাঁ)প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার অন্তর্গত সাপাহার উপজেলা সদরে অবস্থিত শাওন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল ও সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ মঞ্জুর কবির(লিটন) এর ভুল অপারেশনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি করেছেন ভুক্তভোগী রোগী মালা খাতুনের বাবা শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১১জুন উপজেলার করমুডাঙ্গা উত্তরপাড়া গ্রামের শফিকুলের মেয়ে মালা খাতুনের প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে শাওন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোর্শেদ মঞ্জুর কবির (লিটন) অস্ত্রপাচার করে বাচ্চা প্রসব করায়। পরে কিনিকের নিয়ম অনুযায়ী এক সপ্তাহ পর রোগীকে ছাড়পত্র প্রদান করে তার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ীতে যাওয়ার পরেও রোগীর কোনরূপ অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়না। যার ফলে নিরুপায় হয়ে রোগীর বাবা শফিকুল তার মেয়েকে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা গ্রহনের জন্য রাজশাহী প্রেরণ করে। পরবর্তী সময়ে রোগীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর পূর্ববর্তী অপারেশনে তার বাচ্চা নালীতে ফুলের একাংশ থেকে যায় বলে জানান চিকিৎসকরা। পরবর্তী সময়ে পূনরায় আবার দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে মালার অস্ত্রপাচার করে পুরো বাচ্চা নালী কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে । এবং পরে পেটে ক্যন্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান কর্তব্যরত চিকৎসকরা। বর্তমানে পরবর্তী অপারেশনের পর মালা সারাজীবনের জন্য বাচ্চাধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ পাওয়া যায় ।
এ ব্যপারে শাওন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালের পরিচালক সৈবুর রহমান (বকুল)’র সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন ‘অপারেশনের পর কোন অবস্থাতেই ফুল ভিতরে থাকতে পারেনা। আমি আমার ও ডাক্তার নিয়োগের ব্যপারে সকল কাগজ পত্রাদী ঠিক রেখেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যে কোন দপ্তরে আমাকে তলব করা হলে আমি যে কোন সময়ের জন্য প্রস্তুত আছি’।
এ ব্যপারে ডা. মোর্শেদ মঞ্জুর কবির (লিটন)’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,‘অপারেশনের সময় রোগীর বাচ্চাদানীতে একটি রক্ত জাতীয় টিউমার ছিল যা রোগীর অবিভাবকদেরকে দেখানো হয়েছে। এবং সেসময় সেটা অপারেশন যোগ্য নয় মর্মেও জানিয়ে দিয়েছি’। আর ফুলের ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘অপারেশনের সময় পুরো ফুল বাইরে ফেলে দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ভিতরে ফুল থাকার কোন প্রশ্নই আসেনা’।
এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মুমিনুল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান,‘এ বিষয়ে আমি আমার মেডিক্যাল অফিসার মোর্শেদের সাথে কথা বলেছি সে জানিয়েছে সেখানে রক্তজনিত একটি টিউমার ছিল। কিন্তু রোগীর অবিভাবকরা হয়তবা ভয়ে অন্য কোন কিনিকে অপারেশন করিয়েছে’।
উল্লেখ্য যে, উক্ত কিনিকের এহেন ভুল অপারেশন করায় ব্যপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে এলাকার সচেতন মহলে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: