সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

সান্তা ক্লজ কোথায় শায়িত?



নিউজ ডেস্ক:: সান্তা ক্লজ বলতেই কল্পনায় হাজির হয় সফেদ চুল-দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধের সিগ্ধ অবয়ব। পরনে লাল আলখেল্লা, মাথায় লম্বা চোঙা টুপি।সেইন্ট নিকোলাস কীভাবে এমন আকর্ষণীয় এক চরিত্র হয়ে উঠলেন- সে এক রহস্যই বটে।পবিত্র এই মানুষটিকে নিয়ে প্রচলিত গল্পের চূড়ান্ত অধ্যায়টি যেমন বিভ্রান্তিকর তেমনি বিতর্কিতও।

বিশ্বজুড়ে তাঁকে বিশেষ সম্মানের আসনে বসানো হলেও চিরনিদ্রায় তিনি কোথায় শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন- তা অনেকেরই অজানা। প্রাথমিক ও মধ্যযুগীয় খ্রিষ্টান ঐতিহ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয় খ্রিষ্টীয় ব্যক্তিত্বদের দেহাবশেষ বিভিন্ন জায়গার গির্জায় ছড়িয়ে দেওয়া হতো।

বিজ্ঞানীরা সান্তা ক্লজ নামে পরিচিত সেইন্ট নিকোলাসের দেহাবশেষের টুকরোগুলো একত্রিত করে এর ডিএনএ পরীক্ষা চালাতে পারেন।২০১৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এর প্রথম পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়স স্টেটে অবস্থিত মর্টন গ্রোভের বেথানি চার্চের সেন্ট মার্থায় রক্ষিত একটি হাড়কে দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হচ্ছে এটি সেইন্ট নিকোলাসের।হাড়টির রেডিওকার্বন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি যে শরীরের তাঁর মৃত্যুর সময়ের সঙ্গে নিকোলাসের মৃত্যুর সময়ের মিল রয়েছে।

একই মত পোষণ করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিক সময় নির্ধারণ বিশেষজ্ঞ টম হাইয়াম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘হাড়টি সম্ভবত সেন্ট নিকোলাসেরই।’ এখানে আরো কয়েকটি জায়গার উল্লেখ করা হলো যেখানে নিকোলাসের দেহাবশেষ রয়েছে বলে মনে করা হয়:বারি, ইতালি

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকার লিটার্জিকাল স্টাডিজের অধ্যাপক রেভারেন্ড মাইকেল উইটকজাকের মতে, ১০৮৭ সালে সেন্ট নিকোলাসের দেহাবশেষ বা এর বেশিরভাগ অংশ আজকের তুরস্ক থেকে ইতালির অ্যাড্রিটিক পোর্ট সিটি বারিতে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ক্রুসেডের সময়, যখন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে, ইতালিয়ানদের একটি দল তাঁর (সেন্ট নিকোলাস) দেহাবশেষ কিংবা এর বড় অংশ মিরা থেকে বারিতে নিয়ে যায়। তুর্কিদের কাছ থেকে দেহাবশেষ রক্ষার জন্যই এটি করা হয়েছিল কারণ তুর্কিদের খ্রিষ্টীয় সন্তদের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ ছিল না।’

সেই হিসেবে দেহাবশেষ এখনো সেন্ট নিকোলাসের বেসিলিকাতে অবস্থিত, যা অর্থডক্স খ্রিষ্টান আর রোমান ক্যাথলিক উভয়ের কাছে একটি তীর্থস্থান। এখানে প্রতিবছর মে মাসে উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ভেনিস, ইতালি
লিডোর সেন্ট নিকোলাসের ভেনিস’স চার্চে এক বিশপের এক টুকরো অস্থি রয়েছে। এটি পরিত্যক্ত মিরা থেকে ১০৯৯ সালে ভেনিসের নাবিকরা এনেছিলেন বলে দাবি করা হয়।

এমন গল্পও প্রচলিত রয়েছে যে, বারি শহরের নাবিকরা তুরস্কের চার্চ থেকে এনেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, নিকোলাসের এই হাড় ডাকাতদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা, এটি শক্তিরও উৎস। সুতরাং, মনে হচ্ছে ডাকাতদের পরিত্যক্ত হাড়টি পরে ভেনিসবাসী কুড়িয়ে তা সংরক্ষণ করে।

ডিমরি, তুরস্ক
২০১৭ সালের অক্টোবরে তুর্কি কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করে যে, সেন্ট নিকোলাসের দেহাবশেষ এখনো ডিমরিতে রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ছবিসহ তাঁরা দাবি করেন, শহরের প্রাচীন সেন্ট নিকোলাস চার্চের মোজাইককৃত মেঝের নিচে একটি চেম্বার রয়েছে যেখানে থাকতে পারে তাঁর দেহাবশেষ। তুরস্কের প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেন চেম্বারটি সন্তর সমাধি।

এ ছাড়া, নিকোলাসের দেহাবশেষ অন্য কোথাও রয়েছে বলেও মনে করেন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। তবে, যা-ই হোক না কেন, এসবই কেবল ধারণা। এসব ধারণা স্বপক্ষে অনেক তথ্য প্রমাণও থাকতে পারে। কিন্তু সেসব তেমন জোরালো নয়। ফলে চূড়ান্ত বিচারে এখনো বিষয়টি অমীমাংসিত।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: