সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
শুধুমাত্র আইন দিয়ে দুর্নীতি দমন করা যায় না: আইনমন্ত্রী  » «   জামায়াতের সবারই রাজ্জাকের মতো ভুল ভাঙা উচিত: ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ  » «   সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জা‌নি‌য়ে মোদিকে শেখ হাসিনার বার্তা  » «   গুগলে ‘টয়লেট পেপার’ লিখলে আসছে পাকিস্তানের পতাকা  » «   পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে ভারত?  » «   সাত বছরে ৬৩ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন  » «   তিন দিনের সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে  » «   বড় রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়া ইসির জন্য হতাশাজনক: সিইসি  » «   পাকিস্তানকে কী করতে পারবে ভারত?  » «   বঙ্গবীর ওসমানীর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি  » «   দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সা’দপন্থীদের ইজতেমা শুরু  » «   মোদির স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না, পাল্টা হুঙ্কার পাকিস্তানের  » «   চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার খবরটি ‘টোটালি ফলস’  » «   শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী  » «   জামায়াত নতুন নামে পুরনো চরিত্রে ফিরে আসে কিনা তা ভাবনার বিষয়  » «  

সাগরে ৪৯দিন ভেসে থেকেও যেভাবে বেঁচে গেলেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: গভীর সাগরে ভেসে ছিলেন টানা ৪৯ দিন। তিনি বেঁচে ছিলেন সমুদ্রের নোনাপানি এবং লাফিয়ে ওঠা মাছ খেয়ে। সম্প্রতি তাকে সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আলদি নোভেল আদিলাং নামের এই তরুণের বয়স ১৮ বছর, বাড়ি ইন্দোনেশিয়ায়।

ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১৪ জুলাই মাছ ধরার জন্য কাঠ দিয়ে তৈরি ভেলায় অবস্থায় করছিলেন এই তরুণ। কিন্তু ঝড়ের মুখে ভেলাসমেত ভেসে যানন সাগরে।

ইন্দোনেশিয়ায় গভীর সমুদ্র এবং উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার স্থানীয় একটি পদ্ধতি হল ‘রমপং’। এই পদ্ধতিতে কাঠ দিয়ে একটি ভেলা তৈরি করার পর তার উপর কুঁড়ে ঘরের মতো একটি ছোট কক্ষ বানানো হয়। সেই কক্ষে একজন বা দু’জন মানুষ থাকতে পারেন। এই ভেলায় আলো জ্বালানো হয়। সাগরে ঢেউয়ের তালে তালে ভেসে থাকা ভেলার সাথে আলো দুলতে থাকে।

এই রমপং পদ্ধতি হচ্ছে মাছ ধরতে আলোর ফাঁদ। পানিতে ঢেউয়ের তালে যখন ভেলার সাথে আলো দুলতে থাকে, তখন সেই ভেলার ওপর মাছ লাফিয়ে ওঠে।

জাকার্তা পোস্ট পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সুলাবেসি দ্বীপের বাসিন্দা আলদি নোভেল আদিলাং এর কাজ ছিল রমপং বা ভেলায় আলো জ্বালানো। ভেলাটি ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে সাগরের ১২৫ কিলোমিটার গভীরে বাঁধা ছিল। এ ধরণের ভেলায় কোন ইঞ্জিন বা বা বৈঠা ব্যবহার করা হয় না। অন্য নৌযান দিয়ে ভেলাটিকে গভীর সমুদ্রে নেয়া হয়।

হঠাৎ ঝড়ে দড়ি ছিঁড়ে ভেলাটি সমুদ্রের কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ অঞ্চল গুয়ামের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকে পানামার একটি জাহাজ ঐ তরুণ আলদি নোভেল আদিলাংকে দেখতে পায় এবং তাকে উদ্ধার করে।

গত ১৪ জুলাই সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় হয়। সেই ঝড়ে ভেলাটির দড়ি ছিঁড়ে ভেসে যায়। সাগরে ৪৯ দিন তার কেটেছে শঙ্কায়। সাগরে অসহায় অবস্থায় এই তরুণ চিৎকার করে কাঁদত।আলদি নোভেল আদিলাং যে ভেলায় থাকতেন, তাকে নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে খাবার পৌঁছে দেয়া হতো। ফলে তার সাথে থাকা খাবার এবং পানি ফুরিয়ে গিয়েছিল। তখন সাগরের নোনা পানিই তাকে পান করতে হয়েছে। আর ভেলায় মাছ লাফিয়ে উঠলে, সেটি ধরে তিনি খেতেন।

জাপানে ইন্দোনেশিয়ার একজন কূটনীতিক ফাজার ফেরদৌস জাকার্তা পোস্টকে বলেছেন, আলদি নোভেল আদিলাং মৃত্যুভয়ে ভীত থাকতেন এবং বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করতেন।আলদি দেখতে পেতেন, বড় জাহাজ সমুদ্রে যাচ্ছে। তিনি জাহাজ দেখলেই চিৎকার করে সাহায্য চাইতেন। ১০টিরও বেশি জাহাজ তার ভেলার পাশ দিয়ে গেছে। কিন্তু জাহাজগুলো থামেনি বা তাকে দেখত হয়তো পায়নি।”

আলদির মা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছে বলে তার কর্মস্থল থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছিল। ফলে তারা তখন শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতেন। তারা সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার মাইল ভেসে আলদি পৌঁছায় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে গুয়ামের কাছে। সেখান থেকে ৩১ আগস্ট জাপানগামী পানামার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আরপিগিও তাকে উদ্ধার করে তারা গুয়াম কোস্টগার্ডের সাথে যোগাযোগ করে।

গুয়াম কোস্টগার্ডের তাকে জাপানে নিয়ে যেতে বললে জাহাজের কর্মকর্তা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। ঐ জাহাজে আলদি গত ৬ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছান। দু’দিন পর ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস আলদিকে জাপান থেকে বিমানে করে নিজ দেশে পাঠায়। আলদি এখন ইন্দোনেশিয়ায় তার পরিবারের সাথে আছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: