বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদ উপলক্ষে জালনোট ধরতে ব্যাংকগুলোকে ১১ নির্দেশনা  » «   গণঅভ্যুত্থানঃ লিবিয়ায় ৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড  » «   চার রিকশাকে চাপা দিয়ে পালালো কার চালক  » «   ১৫ আগস্ট কেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস?  » «   খালেদার জন্মদিনে ফখরুল‘প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করতে হবে’  » «   রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু  » «   ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট  » «   ঢাকায় ইলিশের কেজি মাত্র ৪০০ টাকা!  » «   অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী  » «   প্রধানমন্ত্রী নয়, ইসির নির্দেশনায় চলবে প্রশাসন : নাসিম  » «   সৌদি আরবে আরও ৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  » «   মৃত পুরুষকে বিয়ে করলেন নারী, এরপর…  » «   যা করবেন সন্তানকে বুদ্ধিমান ও চটপটে বানাতে  » «   নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার  » «   কুরবানির গোশত অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া যাবে?  » «  

সংসদে বাদলকে তুলোধুনো করলেন নৌমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক::চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর পদে নিয়োগ নিয়ে জাসদ একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদলের অভিযোগে চটেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। তাই তার অসত্য বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি নিয়োগের বিষয়ে স্বজন পোষন ও নিজ জেলাকে প্রাধান্য দেবার অভিযোগ অস্বীকার করে বাদলের অসত্য তথ্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে তুলোধুনো করেন।

সোমবার (২০ নভেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি প্রদানকালে মন্ত্রী একথা বলেন। এরআগে রোববার মঈনুদ্দিন খান বাদল চট্টগ্রামবন্দরে লস্কর পদে নিয়োগে দুইজন মাত্র চট্টগ্রামের এবং বাকীদের একটি মাত্র জেলা থেকে নিয়োগ দেয়া হলো কেন? এ প্রশ্ন রাখেন।

স্পিকারের উদ্দেশ্যে করে নৌমন্ত্রী বলেন, আমি গতকাল চট্টগ্রাম থাকায় কথার জবাব দিতে পারি নাই। গতকাল (১৯ নভেম্বর) চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল সংসদে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে একাংশে বলেছেন ‘এই বন্দরের সাথে চট্টগ্রামবাসী নানাভাবে যুক্ত। অথচ সেই বন্দরে একটি ছোট চাকরি হবে লস্করের, সেখানে দেখা যায় লস্করের চাকরিতে ৯২জন নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন মাত্র চট্টগ্রামের, আরবাকী ৯০ জন অন্য একটি জেলার। এখানে একটি জেলার কথা বলা হয়েছে। তিনি এও উল্লেখ করেছেন এটাই কী সময় হলো? চট্টগ্রামের মাত্র ২ জনকে চাকরি দেওয়া হবে, বাকীদের একটি জেলায় নয়, সারাদেশে ভাগ করে দেওয়া হবে। নির্বাচন আসন্ন এ সময় এটা করা প্রয়োজন ছিল।

এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদলের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর। কারণ সেখানে ৯২ জন নয় চাকরি দেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে। চাকরির বিধান মোতাবেক তাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।

এসময় চাকরির বিধান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণী বাদে অন্যান্য পদে লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর যিনি সর্বচ্চো নম্বর পান তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধুমাত্র ৪ শ্রেণীর বেলায় যারা মৌখিক পরীক্ষায় ভাল করে, যাদের স্বাস্থ্যগত দিক ভাল তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাছাড়া আমরা প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোট অনুসরণ করি। কোটা তালিকা উল্লেখ করে বলেন-মুক্তিযোদ্ধা কোটায়-৩০, মহিলা কোটা-১০, উপজাতি-৫ আনসার ভিডিপি-৫ , প্রতিবন্ধী-৫ এবং জেলা কোটায় ৪৫ জন। চাকরি দিলাম ৮৫ জনের বলা হলো ৯২ জন। আর কোটায় দিলে চট্টগ্রামে আগামী ৩০ বছরেরও চাকরি দেওয়ার কথা নয়। তবে যেহেতু বন্দরটি চট্টগ্রামে তাই তাদের ক্ষেত্রে জেলা কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা বিহত্তর চট্টগ্রামের ২৯ জনকে চাকরি দিয়েছি। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ২৩ জন, কক্সবাজারে ৪ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ২ জন। অন্যান্য জেলার মধ্যে নোয়াখালি, লক্ষ্মিপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর, কিশোরগঞ্জ নরসিংদী, পাবনা, বগুড়া, খুলনা, মাগুড়ার লোক রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারে আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ হাজার ১০০ জন লোকের চাকরি দেওয়া হয়েছে। কখনো কোন অভিযোগ উঠে নাই। এখন কেন এই অভিযোগ। অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল। তিনি সুপারিশ করেছিলেন মনসুর আলী, পিতা সিরাজুর রহমান। যার রোল নং-জে০১৪৩২। এই ছেলেটির চাকরি তার অনুরোধে দেওয়া হয়েছে। এখানে যেহেতু শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় তাই অন্য মন্ত্রী, এমপিদের অনুরোধ করলে সেটাও বিবেচনা করি। এখানে কারা কারা সুপারিশ করেছেন তালিকা আছে। তিনি কি করে এই অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের আরেক সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামের নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায় কেন নেওয়া হয়। আমাদের যে সংখ্যক চাকরী প্রার্থী থাকে তাদের চট্টগ্রামে পরীক্ষা নেওয়ার মত অবস্থা থাকে না। তাই ঢাকাতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। উনি কখনো সুপারিশ করেন নাই। তবে উনার পার্টির নেতা এইচএম এরশাদ সুপারিশ করেছিলেন তাকেও চাকুরী দেয়া হয়েছে। কাজেই মঈনুদ্দিন খান বাদল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য। এই অসত্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: