সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের ‘বিরোধিতায়’ ১১ জেলায় বাস চালানো বন্ধ  » «   নগরীতে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পিয়াজ, ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন  » «   বলিভিয়ার অশান্তির নেপথ্যে ‘সাদা সোনা’, যা পরবর্তী বিশ্বের আকাঙ্ক্ষিত বস্তু  » «   আবরার হত্যা: পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি  » «   ‘অপকর্মে’ সংকুচিত দ. কোরিয়ার শ্রমবাজার  » «   ৩০০ টাকার পিয়াজ সরকারের দিনবদলের সনদ: ডাকসু ভিপি নুর  » «   অযোধ্যা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করছে মুসলিমরা  » «   ভাঙছে শরিক দল সঙ্কটে ঐক্যফ্রন্ট  » «   হলি আর্টিসান হামলা: রায় ২৭ নভেম্বর  » «   চাকা ফেটেছে নভোএয়ারের, ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেন ৩৩ যাত্রী  » «   হাত-পা ছাড়াই মুখে ভর করে লিখে পিইসি দিচ্ছে লিতুন  » «   প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া বিএনপির চিঠিতে আবরার হত্যার বর্ণনা  » «   ১৫০ যাত্রী নিয়ে মাঝ আকাশে বিপাকে ভারতীয় বিমান, রক্ষা করল পাকিস্তান  » «   বিমান ছাড়াও ট্রেন, ট্রাক, বাসে করে আসছে পেঁয়াজ: সিলেটে পরিকল্পনামন্ত্রী  » «   চুক্তির তথ্য জানতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল বিএনপি  » «  

সংবিধান পড়ে শোনালেন আমান, পুলিশ বলল ‘গো ব্যাক’



নিউজ ডেস্ক:: পুলিশি বাধার মুখে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়িতে যেতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানসহ দলের কয়েকজন নেতা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা অংশের টোল প্লাজায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর গাড়ি ঘুরিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে যাওয়ার জন্য সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা দেন আমানউল্লাহ আমানসহ দলের কয়েকজন নেতা। আমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম। আবরারের পরিবারকে সমবেদনা ও কবর জিয়ারতের জন্য কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন তারা।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা অংশে বিএনপির প্রতিনিধি দল পৌঁছায়। সেখানে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) এস এম আল বেরুনী, ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আলীমসহ পুলিশ সদস্যরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করেন। একই সঙ্গে সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের বাধা দেয় পুলিশ।

এ অবস্থায় গাড়ি থেকে অন্য নেতাদের সঙ্গে নেমে পড়েন আমান। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে আবরাবের বাড়িতে যাওয়া হচ্ছে। আমরা তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলব। যেতে না দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেবেন না। এ সময় সংবিধান বের করে কয়েকটি লাইন পড়ে শোনান আমান। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের সামনে এগোতে দেয়নি পুলিশ।

সংবিধান পড়ে শোনানোর পর আমানউল্লাহর উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) এস এম আল বেরুনী বলেন, ‘সেফটি সিকিউরিটি পারপাসে আমরা আপনাকে অ্যালাও করছি না, সো গো ব্যাক।’

আমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি সোহরাব উদ্দিন।

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমান বলেন, নিহত আবরারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলাম। পুলিশি বাধার মাধ্যমে সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার অধিকার কেড়ে নিলো। সংবিধানের ৩৯ ধারা লঙ্ঘন করে গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করেছে সরকার। আজকে যে অপমান করা হলো এর একদিন জবাব পাবে সরকার।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সংগ্রাম চলমান। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম চলবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক সরকারের পতন হবে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী বলেন, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের পরিবারকে সমবেদনা ও কবর জিয়ারত করতে যেতে চেয়েছি আমরা। কিন্তু পুলিশ আমাদের যেতে দিলো না। অন্যায় এবং অগণতান্ত্রিকভাবে এ কাজটি করেছে পুলিশ।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) এস এম আল বেরুনী বলেন, বিএনপি নেতারা আবরারের বাড়িতে গেলে গণ্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাই তাদের যেতে দেয়া হয়নি। আমরা তাদের গাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: