বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ জুলাই খালেদার মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ  » «   মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বর্ষণ নেই  » «   সিলেটে দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু  » «   হরিণাকুণ্ডুতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত  » «   পুলিশের সোর্স মামুন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও  » «   ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি, সালিসে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি!  » «   আইনমন্ত্রীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী  » «   ‘এদেরকে নিয়েই মান্না সাহেব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন’  » «   রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে বাংলাদেশী যুবক  » «   বিদেশ ও জেল থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা  » «   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত রবার্ট মিলার  » «   বেবী নাজনীন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি  » «   কোটা আন্দোলন: ছাত্রলীগের হুমকিতে ক্যাম্পাস ছাড়া চবি শিক্ষক  » «   ভেবেই ক্লাব বদল করেছেন রোনালদো  » «   ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি  » «  

‘শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্রুতা সৃষ্টি করে’



ইসলাম ডেস্ক::মদ একটি মাদকদ্রব্য। যা ইসলামে সম্পুর্ণ হারাম। মদ ও জুয়া এবং এই পর্যায়ের সমস্ত বস্তুকে ইসলামে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামে সবসমই পবিত্রতা রক্ষায় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে, এজন্যই হারাম করা হয়েছে নেশাদ্রব্যকে।

এরই পরিপেক্ষিতে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল ও অপবিত্র বস্তু হারাম করা হয়েছে।” [সূরা আরাফ

এছিাড়া পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ঈমানদাররা মদ, জুয়া, প্রতিমা, লটারি এ সবই শয়তানের কাজ। তোমরা তা থেকে দূরে থাক। আশা করা যায়, তোমরা সাফল্য লাভ করবে। (সূরা মায়িদা-৯০)।

কোরআন মজিদে অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষের সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর জিকির ও নামাজ থেকে তোমাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই তোমরা এসব থেকে বিরত থেক। (সূরা মায়িদা-৯১)।

পবিত্র কোরআন মাজিদে আরও বর্ণিত আছে, তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, দুটোর মধ্যেই রয়েছে মহাপাপ। যদিও এতে মানুষের জন্য কিছুটা উপকারও রয়েছে। এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে অনেক বড়। (সূরা বাকারা-২১৯)।

মদকে সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে। এটা কেনাবেচা এবং পান করাও হারাম। তাই আল্লাহর এই হুমুককে মানবসমাজে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। মদ খেলে মানুষের বিবেক নষ্ট হয়। ফলে সমাজে সব ধরনের অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। মাদকবিরোধী বক্তব্য মসজিদে মসজিদে ইমামদের রাখা প্রয়োজন। এতে অভিভাবকরাও সচেতন হবে আবার তরুণরাও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারবে। বুখারি শরিফের এক হাদিসে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের আলামতে রয়েছে, অজ্ঞতা ও মূর্খতা বেড়ে সমাজে ইলম হ্রাস পাবে, জেনা-ব্যভিচার প্রকাশ্য হতে থাকবে। পুরুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে, নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এমন হবে যে, পঞ্চাশজন নারীর পরিচালক হবে মাত্র একজন পুরুষ।

এছাড়া মহানবী বলেন, ‘মাদকাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।’

নবী আরও বলেছেন- “প্রত্যেক নেশার বস্তুই মাদক আর প্রত্যেক নেশার জিনিসই হারাম।” (সহীহ মুসলিম হা/২০০৩)

মদের সাথে সম্পর্কযুক্ত এমন ১০ ব্যক্তির উপর মহানবী লা’নত করেছেন ।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) রেওয়ায়েত করেছেন, রাসুল বলেছেনঃ ‘আল্লাহ লানত বর্ষণ করেছেন
১. যে নির্যাস বের করে
২. প্রস্তুতকারী
৩. পানকার
৪. যে পান করায়
৫. আমদানি কারী
৬. যার জন্য আমদানি করা হয়
৭. মদ বিক্রেতা
৮. ক্রেতা
৯. সরবরাহকারী
১০. লভ্যাংশ ভোগকারীর উপর
—(সহিহ তিরমিযী )

ইসলাম মদকে হারাম করে সেই সঙ্গে এর শাস্তি ঘোষণা করেছে; মদপানকারীকে ৪০ দোররা মারা হতো। হজরত ওমর (রা.)-এর সময় ৮০ দোররা মারা হয়।

বাংলাদেশে মাদকের বিষয়ে আইন আছে এবং শাস্তির বিধানও আছে। এখন প্রয়োজন যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ এবং মাদকের ছোবল থেকে সমাজ এবং দেশকে হেফাজত করা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: