মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইসি প্রশ্নবিদ্ধ ভোট করতে চায় না: সিইসি  » «   বিয়ানীবাজারে ‘পুলিশ প্রহরায়’ নাহিদের প্রচারণা!  » «   হবিগঞ্জে ধানের শীষ পেলেন রেজা কিবরিয়া  » «   কাতারে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম সিলেটের সাইয়্যেদ  » «   প্রিয়ডটকম-বিএনপিনিউজ২৪-সিএনএনবিডি২৪ সহ ৫৮ নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ  » «   আজ থেকে শুরু জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ  » «   নিজেকে ট্রাম্পকন্যা দাবি এক পাকিস্তানি তরুণীর!  » «   প্রতীক বরাদ্দ আজ, শঙ্কা নিয়ে শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধ  » «   আজ খালেদা জিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ  » «   নৌকা প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির যে ২৯ প্রার্থী  » «   জাপা পেলো ৩০ আসন, উন্মুক্ত ১৩২  » «   মেয়র পদে থেকেই সংসদ নির্বাচন করা যাবে: হাইকোর্ট  » «   সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করছে: প্রধান বিচারপতি  » «   প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে হিরো আলম  » «   যেসব আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পরিবর্তন  » «  

শুরু হচ্ছে গোপালগঞ্জবাসীর স্বপ্নের রেল,চলতি সপ্তাহে উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক:: রেলের হুইসালের শব্দে ঘুম ভাঙবে গোপালগঞ্জবাসীর।দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাক্সিক্ষত রেল সার্ভিস।আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এ রেলের উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যে নবনির্মিত রেললাইনে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে ইতোমধ্যে ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে রেলের কর্মকর্তারা।

এ রেল চালু হলে গোপালগঞ্জ তথা দক্ষিণাঞ্জলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে পরিবর্তন হবে মনে করছেন স্থানীয়রা।এ অঞ্চল থেকে অতি স্বল্প খরচে দ্রুত কৃষিপণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা যাবে।এ ছাড়া এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা গ্রহণে যেতে পারবে একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সহজে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) পড়াশোনা করতে আসতে পারবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিদর্শক খন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান,এক হাজার ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে গোবরা পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন এ রেললাইনটি নির্মিত হয়েছে।ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লি.ও তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লি. নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ করে। ২০১৫ সালের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং এ বছরের জুনে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।নবনির্মিত কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ চর বয়রা পর্যন্ত নতুন রেল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতু, কালভার্ট,রেলগেট-রেলক্রসিং,স্টেশন, ট্রেন চলাচলের সিগনালসহ সবকিছু প্রস্তুত।উদ্বোধনের পর গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী সরাসরি মেইল ট্রেন চলাচল করবে এ রেলপথে।

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও তমা গ্রুপ সূত্রে জানা যায়,এ প্রকল্পে এক হাজার ২৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর বয়রা পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার রেললাইনে মধুমতি নদীর ওপর একটি রেল সেতু, ৪৩টি কালভার্ট এবং ছয়টি রেল স্টেশন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭৭ বছর আগে ১৯৩৫ সালে এই জনপদের মানুষের সহজ চলাচল এবং ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেই চালু হয়েছিল ভাটিয়াপাড়া-কালুখালী রেলপথ। রেললাইনে ভাটিয়াপাড়া থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত একটি মেইল ট্রেন ও ভাটিয়াপাড়া-কালুখালী রুটে দুটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। যা এক সময় কেবি রেলপথ বলে খ্যাত ছিল।

১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাটিয়াপাড়া-কালুখালী রেলপথটি বিশ্বব্যাংকের রেল সংকোচন নীতি ও রেলওয়ের লোকসানের অজুহাতে ১৯৯৩ সালে সাময়িক এবং ১৯৯৭ সালে স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।অবশেষে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফরিদপুর-রাজবাড়ী এবং গোপালগঞ্জ জেলার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় ভাটিয়াপাড়া -কালুখালী পরিত্যক্ত রেললাইন পুনর্নির্মাণসহ কাশিয়ানী রেলস্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সম্প্রসারিত রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প ২০১০ সালে সরকারিভাবে অনুমোদন দেয়।

বাংলাদেশ সার্ভে অর্গানাইজেশনের সার্ভে অনুযায়ী শুরুতে প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত মূল্য এক হাজার ১০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ধরা হয়। এর মধ্যে এ কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া পরিত্যক্ত রেললাইন সেকশনের পুনর্বাসন ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নতুন এ রেল লাইনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কয়েক দফা নির্মাণ ব্যয় বাড়ে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নবনির্মিত রেলপথে রেল চালুর খবরে গোপালগঞ্জের মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গোপালগঞ্জ জেলা বণিক সমিতির সভাপতি মো. কাজী জিন্নাত আলী বলেন, ‘নবনির্মিত রেললাইনটি জেলার আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নে অবদান রাখবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার লাভ করবে। রেলস্টেশনকে ঘিরে বেকার মানুষ দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাসহ বেকারত্ব দূর হবে।’ প্রায় একই কথা বলেন সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বি এম ওবায়দুর রহমান।

রংপুর থেকে পড়তে আসা গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবি আইন বিভাগের ছাত্র মো. বায়েজিদ বলেন, ‘নতুন রেল চালু হচ্ছে। এটা আমাদের উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই খুশির খবর। আমরা সহজেই ট্রেনে দেশের বাড়িতে যেতে পারব। যাতায়াত ভাড়া কম লাগবে এবং যানজটের কবলে পড়তে হবে না।’

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোখলেচুর রহমান সরকার বলেন, ‘গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। যা বর্তমান সরকার করেছে। এ অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: