রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসী স্ত্রীকে লাইভে রেখে সিলেটের স্বামীর আত্মহত্যা!  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির নীল নকশা ও তুরস্কের উদ্দেশ্য  » «   দুই নম্বরি কেন ১০ নম্বরি হলেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে থাকবে: ড. কামাল  » «   বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ  » «   আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা  » «   সিডরে নিখোঁজ শহিদুল বাড়ি ফিরলেন ১১ বছর পর!  » «   ভাওতাবাজির জন্য সরকারকে গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিৎ: ড. কামাল  » «   দিল্লির লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানের!  » «   সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল  » «   নির্বাচনী কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব করলে শাস্তি হবে: নির্বাচন কমিশনার  » «   গোলান মালভূমিতে সিরিয়ান মালিকানা জাতিসংঘে অনুমোদন  » «   শ্রীলংকার পার্লামেন্টে স্পিকারের চেয়ার দখল, সংঘর্ষে আহত একাধিক এমপি  » «   আজ মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী  » «   কে হবেন প্রধানমন্ত্রী: উত্তরে যা বললেন ড. কামাল  » «   ক্যালিফোর্নিয়া দাবানল: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯  » «  

শীর্ষ ধর্মীয় নেতার ফতোয়া সৌদিতে নারীদের বোরকা পরতে হবে না



নিউজ ডেস্ক::কিছুদিন ধরে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে সৌদি আরবে। গত বছর সৌদি আরবে বাণিজ্যিক সিনেমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এ বছরের মার্চে সৌদি আরবে প্রথম সিনেমা হল খোলা হবে। গত ডিসেম্বরে সেখানে প্রথম কোন গানের কনসার্টে মহিলা সঙ্গীত শিল্পীকে গান গাইতে দেখা গেছে। এছাড়া সৌদি আরবে স্টেডিয়ামে গিয়ে মেয়েদের খেলার দেখারও অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি, সৌদি আরবের একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বলেছেন, সেদেশে মেয়েদের ‘আবায়া’ বা বোরকা পরতেই হবে এমন কোন ব্যাপার নেই। মেয়েদের আব্রু বজায় রেখে পোশাক পরতে হবে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদের আবায়া পরতে হবে। এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বিবিসি বাংলায়।

সেখানে আরো বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মেয়েরা পা পর্যন্ত পুরো শরীর ঢেকে রাখা যে ঢিলেঢালা আচ্ছাদন ব্যবহার করে, তাকে আবায়া বলে। সেখানে আবায়া না পরে বাইরে যেতে দেখা যায় কম মহিলাকেই। সেখানে এটি পরা আইনত বাধ্যতামূলক।

কিন্তু সৌদি আরবের ‘কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলারস’ বা সবচেয়ে বয়েজ্যোষ্ঠ ধর্মীয় চিন্তাবিদদের কাউন্সিলের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলাক বলেছেন, এটার দরকার নেই।

সৌদি সমাজে যখন নানা রকম সংস্কারের চেষ্টা চলছে, তখনই একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা এ ধরণের একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা হাজির করলেন।

শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলাক শুক্রবার বলেন, “মুসলিম বিশ্বের ৯০ শতাংশ মহিলাই ‘আবায়া’ পরেন না। কাজেই আমাদেরও উচিৎ হবে না মেয়েদের এটা পরতে বাধ্য করা।”

সৌদি আরবে এই প্রথম এরকম উচ্চ পদের কোন ধর্মীয় নেতার মুখে এরকম কথা শোনা গেল।

প্রতিক্রিয়া

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক এবং আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার সমর্থনে কথা বলছেন। বিরোধিতাও করছেন অনেকে।

টুইটারে মাশারি ঘামদি নামে একজন লিখেছেন, “আবায়া আমাদের অঞ্চলের একটা ঐতিহ্য। এটি কোন ধর্মীয় ব্যাপার নয়।”

তবে আরেকজন তীব্র বিরোধিতা করে লিখেছেন, “যদি একশো ফতোয়াও জারি করা হয় তারপরও আমি আামার আবায়া ছাড়বো না। মরলেও না। হে মেয়েরা, তোমরা এই ফতোয়ায় কান দিও না।”

সৌদি আরবে মেয়েরা যখন আবায়া না পরে বাইরে যায়, তখন অনেক সময় ধর্মীয় পুলিশ তাদের এসে ভর্ৎসনা করে।

২০১৬ সালে রিয়াদের রাস্তায় এক মহিলা তার আবায়া খুলে ফেলার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সৌদি আরবে মেয়েদের কেবলমাত্র কালো রঙের আবায়ার পরিবর্তে আর বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের আবায়া পরতে দেখা যায়।

লম্বা স্কার্ট বা জিন্সের সঙ্গে খোলা আবায়া পরাও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আধুনিক তরুণীদের মধ্যে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: