শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নিজেদের বিমান বাহিনী থেকে সুরক্ষা পেতেই এরদোগানের এস-৪০০ ক্রয়!  » «   জাপানে অ্যানিমেশন স্টুডিওতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ১২  » «   খাদ্য ঘাটতি পূরণ করেছি, এখন লক্ষ্য পুষ্টি: প্রধানমন্ত্রী  » «   রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মিন্নি  » «   বাংলাদেশের পতাকার আদলে অন্তর্বাস বিক্রি করছে অ্যামাজন  » «   রিফাত হত্যাকাণ্ড: এবার রিশান ফরাজীও গ্রেফতার  » «   বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কেলেঙ্কারি: সিস্টেম লস নয় দুর্নীতি  » «   বন্যার কারণে জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা স্থগিত  » «   হঠাৎ কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শক্ত পদক্ষেপ, মাঠে নামছে র‌্যাব  » «   ধসে পড়া ভবনে মিললো বাবা-ছেলের মরদেহ  » «   ইসরাইলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা  » «   ‘নয়ন বন্ডের বাড়িতে বসেই স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিন্নি’  » «   সিলেটের ২ জনসহ দেশসেরা ১২ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   বেনাপোল ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   উপজেলা নির্বাচন: সিলেটে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের তালিকা  » «  

শিহরণ জাগানো ছয় আধা-মানুষের গল্প



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পরিভাষায় তাদের বলা হয় Feral Children । বহুদিন ধরে মনুষ্য সমাজ থেকে দূরে জঙ্গলে জন্তুদের সঙ্গে বসবাস করতে করতে এক সময় তারা হারিয়ে ফেলে মানুষের স্বভাব‚ জন্তুদের মতোই হাঁটাচলা‚ খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করে তারা হয়ে ওঠে অব-মানব । এমনই ছয় চমকে দেওয়া অব-মানব নিয়ে এই লেখা।

The Chicken Boy‚ ফিজি‚ ১৯৭৮
জন্ম থেকেই একটু অন্যরকম আচরণ করত সুজিত। অতিষ্ঠ ও বীতশ্রদ্ধ হয়ে তার মা-বাবা তাকে বন্ধ করে রাখেন মুরগির খোঁয়াড়ে। পরবর্তীকালে মা সুইসাইড করেন ও আর বাবা খুন হয়ে যান। ঠাকুর্দা সুজিতের দায়িত্ব নিলেও তিনিও তাকে সেই মুরগির ঘরেই বন্দি রাখেন। তার বয়স যখন প্রায় আট বছর একদিন রাস্তার মাঝখানে খুঁজে পাওয়া যায় তাকে। মুরগির মতোই হাত ঝাপটাচ্ছে তখন সে‚ মাটি থেকে খুঁটে খাচ্ছে খাবার। হাতের তালু তথা আঙুলগুলো গেছে শরীরের ভেতরের দিকে মুড়ে। মুরগির মতোই তার বসার ভঙ্গি‚ মুখ দিয়ে শুধু অনবরত মুরগির মতো শব্দ। রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে একটি হোমে রাখা হয়। কিন্তু সেখানেও তার অতিরিক্ত হিংস্রতার কারণে বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় টানা প্রায় কুড়ি বছর।

শামদেও‚ ভারত‚ ১৯৭২
১৯৭২ সালে ভারতবর্ষের এক জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া যায় ৪ বছরের শামদেওকে। তখন সে খেলা করছিল কতগুলো নেকড়ের বাচ্চার সঙ্গে। গায়ের রঙ সম্পূর্ণ কালো‚ গা লোমে ঢাকা‚ হাতে পায়ে বড় বড় নখ। জন্তুদের মতোই রক্তের স্বাদ ছিল তার ভারি পছন্দের‚ মুরগি শিকার করা তার স্বাভাবিক এবং প্রিয় শখ। ১৯৭৮ সালে তাকে উদ্ধার করার পর আস্তে আস্তে কাঁচা মাংস খাওয়া ছেড়ে দিলেও বহুদিন কোনও কথা বলেনি সে। ১৯৭৮ সালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লক্ষণৌতে মাদার টেরেজার হোমে। কিছু সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করেতে শিখলেও ১৯৮৫ সালে মারা যাওয়ার আগে অব্দি মানুষের ভাষা শিখতে পারেনি সে।

Jungle Girl‚ কম্বোডিয়া‚ ২০০৭
২০০৭-এর জানুয়ারি এক গ্রামবাসীর খাবার চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে Jungle Girl ‘রোকোম‘ । কাঁধের দাগ দেখে তাকে তার হারিয়ে যাওয়া মেয়ে বলে শনাক্ত করেন এক পুলিশকর্মী। ১৯৯৮ সালে আট বছর বয়সে বোন এর সঙ্গে মোষ চরাতে গিয়ে জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছিল রোকোম। যখন সে ধরা পড়ে তার গা ভর্তি ময়লা‚ সম্পূর্ণ উলঙ্গ‚ ভুলে গেছে মানুষের ভাষা । দাঁরিয়ে নয় সে চলাফেরা করত চারপেয়েদের মতো। আর খিদে পেলে বা তেষ্টা পেলে ইঙ্গিতে শুধু মুখের দিকে দেখাত। ২০০৮-এর জুলাই মাসের মধ্যে খেতে‚ চান করতে ও নিজে নিজে জামা কাপড় পরতে শিখলেও আর কোনওদিনই কথা বলতে শেখেনি সে।

মারিনা চাপমান‚ কলোম্বিয়া‚ ১৯৫৯
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার এক গ্রাম থেকে ৫ বছর বয়সে অপহরণ করা হয়েছিল মারিনাকে । অপহরণের পর জঙ্গলেই মারিনাকে ফেলে রেখে চলে যায় তার অপহরণকারীরা। ৫ বছর পর এক দল শিকারী যখন তাকে উদ্ধার করে তখন সে থাকত একদ্ল কাপুচিন বাঁদরদের সঙ্গে। বাঁদরদের মতোই তখন তারও খাদ্য‚ গাছের ফলমূল‚ শিকড়‚ বেরি ইত্যাদি। তাদের মতোই চার পায়ে চলা ফেরা করে‚ গাছে চড়ে মারিনা। ভুলে গেছে মানুষের ভাষা।

উদ্ধারের পর এক পতিতালেয়ে তাকে বেচে দেয় সেই শিকারীর দল। পরবর্তীকালে একটি মাফিয়া পরিবারে দাসী হিসেবে ঠাঁই পায় সে। শেষমেশ বহু ঝড় পেরিয়ে ১৯৭৭ সালে ইউ.কে-এর ব্র্যাডফোর্ডে গিয়ে থিতু হয় মারিনা। বিয়ে হয়‚ সন্তানেরও জন্ম দেয় সে। ছোট মেয়ে ভেনেসার সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘The Girl With No Name’ বইতে নিজের কথা লিখে গেছে মারিনা।

The Monkey Boy‚ উগান্ডা‚ ১৯৯১
১৯৮৮ সালে বাবার হাতে মা কে খুন হতে দেখে মাত্র ৩ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল জন সেবুনায়া। ১৯৯১ সালে ৬ বছর বয়সে যখন খুঁজে পাওয়া যায় তাকে তখন সে প্রায় বাঁদরের মতো জীবন যাপন করে। হাঁটুতে কড়া পড়ে গেছে‚ বেঁচে আছে ফলমূল খেয়ে। হোমে পাঠিয়ে আস্তে আস্তে সুস্থ করে তোলা হয় তাকে।

কমলা ও অমলা‚ ভারত‚ ১৯২০
১৯২০ সালে নেকড়েরা বেরিয়ে যাওয়ার পর গাছের ওপর লুকিয়ে থাকা রেভারেণ্ড জোসেফ সিং জঙ্গলের ভেতরে একটা নেকড়ের গুহা থেকে উদ্ধার করেন দুই বোন কমলা ও অমলাকে। কমলার বয়স তখন আট‚ অমলার দেড়। নেকড়ের মতোই গুটিয়ে শুয়ে থাকত তারা। সেই কারণে মানুষের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশও ঘটেনি। কাঁচা মাংসই ছিল তাদের প্রধান খাদ্য। নেকড়ের মতোই গর্জন করত তারা। মানুষের দুনিয়ায় কোন রকম উৎসাহ ছিল না তাদের। তাদের ঘ্রাণ‚ শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি ছিল নেকড়েদের মতোই প্রখর। উদ্ধার হওয়ার পরের বছরই মারা যায় অমলা। পরবর্তীকালে মানুষের মতো দাঁরিয়ে হাঁটতে ও কিছু শব্দ বলতে শিখলেও শেষ পর্যন্ত ১৭ বছর বয়সে কিডিনি ফেল করে মারা যায় কমলা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: