মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

শিক্ষাশেষে ২ বছর ব্রিটেনে থাকতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দফতর এক নতুন ঘোষণায় জানিয়েছে যে, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের জন্য দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এর ফলে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে’র নেয়া সিদ্ধান্তকে পাল্টে দেয়া হচ্ছে। থেরেসা মে নিয়ম করেছিলেন যে, স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার মাসের বেশি ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না। খবর বিবিসির।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নতুন পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বুঝতে এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের পেশা গড়ে নিতে সহায়ক হবে। কিন্তু মাইগ্রেশন ওয়াচ নামের একটি প্রচারণা গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে ‘পশ্চাৎমুখী’ বলে উল্লেখ করেছে।

সেসব শিক্ষার্থীরা আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতক পর্যায়ে কিংবা তার চেয়ে উঁচু কোন ডিগ্রির জন্য পড়াশুনা শুরু করবেন তারা এই পরিবর্তিত নিয়মের সুযোগ পাবেন।

কিন্তু এখানে শর্ত থাকবে তারা যেনতেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেননা। শুধুমাত্র সেইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবেন যাদের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ইতিহাস রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি পাটেল বলেন, এই সিদ্ধান্ত সরকারের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। নতুন প্রস্তাবনার আওতায়, শিক্ষার্থীরা কি ধরণের কাজ বা কয়টি কাজ করতে পারবেন তার উপর কোন বিধিনিষেধ থাকবে না। থেরেসা মে ২০১২ সালে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনেন।

থেরেসা মে অভিবাসন নীতি নিয়ে একটি বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিলো মোট অভিবাসনের পরিমাণ কমিয়ে আনা। সেখানে বরিস জনসন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বুদ্ধিদীপ্ত এবং সেরাদেরকে বৈশ্বিক ব্রিটেনে এসে বাস করতে উৎসাহী করছেন।

ইউনিভার্সিটি ইউকের প্রধান নির্বাহী অ্যালেস্টার জারভিস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে লাভবান করবে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের সুনাম ফিরিয়ে আনবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের জন্য ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব বয়ে আনে বলে প্রমাণ রয়েছে। সাথে অর্থনীতিতে যোগ করেছে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু বেশ দীর্ঘ সময় ধরে, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা শেষে কাজের সুযোগ না থাকায় যুক্তরাজ্য এসব শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে মাইগ্রেশন ওয়াচের চেয়ারম্যান আলপ মেহমেট বলেন, এই সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী। তিনি মনে করেন, এর ফলে স্নাতক ডিগ্রিধারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি পরিমাণে থেকে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনই অনেক বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে আকর্ষণ করছে। তাই নতুন করে শিক্ষা ভিসার মান কমিয়ে এটিকে পরোক্ষভাবে কাজের জন্য ভিসায় পরিণত করার কোন দরকার নেই।

ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবোট বলেন, লেবার পার্টি বরাবরই বলে আসছে যে, স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পর কাজের সুযোগ দেয়া উচিত। এতে করে তারা আমাদের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণায় অবদান রাখবে এবং এর ফলে বিশ্বের মেধাবী এবং সেরাদের আনতে পারবো আমরা। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক যে, এর আগে এই পদক্ষেপের বিপরীত পদক্ষেপ নেয়ার সময়ও মন্ত্রীরা তা সমর্থন করেছিলো।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: