বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
১৫ আগস্ট কেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস?  » «   খালেদার জন্মদিনে ফখরুল‘প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করতে হবে’  » «   রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু  » «   ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট  » «   ঢাকায় ইলিশের কেজি মাত্র ৪০০ টাকা!  » «   অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী  » «   প্রধানমন্ত্রী নয়, ইসির নির্দেশনায় চলবে প্রশাসন : নাসিম  » «   সৌদি আরবে আরও ৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  » «   মৃত পুরুষকে বিয়ে করলেন নারী, এরপর…  » «   যা করবেন সন্তানকে বুদ্ধিমান ও চটপটে বানাতে  » «   নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার  » «   কুরবানির গোশত অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া যাবে?  » «   শাহরুখের গাড়ি-বাড়ি ও ঘড়ির দাম এত?  » «   ভ্যান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে জমি, এরপর…  » «   মোবাইল ফোনে নতুন কলচার্জ নিয়ে যা বলছেন গ্রাহকরা  » «  

শাহজাদপুরে দুর্গম যমুনার চরে বাদাম চাষ



ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচরে এ বছর প্রায় ১ হাজার বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। উপজেলার কৈজুরি, সোনাতুনি, গালা, জালালপুর ইউনিয়নের দুর্গম যমুনা নদীর চরে এ আবাদ বেশি হচ্ছে । এ ছাড়া পোতাজিয়া ও রূপবাটি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী কিছু জমিতে এ বছর বাদাম চাষ করা হয়েছে। ফলন ভাল হওয়ায় বাদাম চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।

মাকড়া, বানতিয়ার, ছোট চানতারা, বড় চানতারা, কুরসি, রাউতারা ও শেলাচাপড়ি গ্রামের নদী তীরবর্তী বেলে মাটির জমিতে এ ফসল বোনা হয়েছে। বাদাম চাষে খরচ নেই বললেই চলে। তাই দিন দিন এ সব চরে বাদামের চাষ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বানতিয়ার চরের বাদাম চাষি সানোয়ার হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, কৈজুরীর শেখ ফরিদ ও হারেজ আলী জানান, চরের যে সব বালুর জমিতে অন্য কোন ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না সে সব জমিতে সাধারণত বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাদাম চাষে সেচ ও নিড়ানি দিতে হয়না। সামান্য সার ও কীটনাশক ছিটিয়ে দিলেই ফলন ভাল হয়। এতে খরচও খুব কম হয়। অপর দিকে বাজারে বাদামের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বেশি লাভ করা যায়। তাই গত কয়েক বছর ধরে শাহজাদপুরের যমুনা নদীর চর এলাকায় বাদাম চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাদাম চাষ করে চরের কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় তারা সচ্ছল হয়ে উঠছেন। এ জন্য তারা বাদাম চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন।

সরেজমিনে মাকড়া ও বানতিয়ার চর ঘুরে দেখা যায়, যত দূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কেবল বাদাম ক্ষেত আর বাদাম ক্ষেত। বাদাম চাষি সবুজ মিয়া জানায়, সে তার ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করছে। তার এ বালুর জমিতে অন্য ফসল না হওয়ায় প্রায় বছরই পতিত ভাবে পড়ে থাকত। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে সে বাদাম চাষ করছে। প্রথম বছরেই ফলন ভাল হওয়ায় সে খুবই খুশি হয়েছে। তাই আগামী বছর সে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে বাদাম চাষ করবে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মনজু আলম সরকার বলেন, আগামীতে শাহজাদপুরের চরে আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ হবে। আরো ভাল ফলন যাতে হয় সে জন্য বাদাম চাষিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলে এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ১৪ থেকে ১৫ মণ করে বাদাম উৎপাদন হবে। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে বেশ লাভবান হবে। তিনি বলেন কৃষি অফিসের পরামর্শে মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান হাসিব খান তরুণ ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলিজা খান তাদের রাউতারা গ্রামের গোহালা ও ধলাই নদীর চরের সাড়ে ১২ বিঘা জমিতে এ বছর বাদাম চাষ করেছেন। ফলন ভাল পাওয়ায় তারা আগামীতে আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: