বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
১৫ আগস্ট কেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস?  » «   খালেদার জন্মদিনে ফখরুল‘প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করতে হবে’  » «   রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু  » «   ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট  » «   ঢাকায় ইলিশের কেজি মাত্র ৪০০ টাকা!  » «   অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী  » «   প্রধানমন্ত্রী নয়, ইসির নির্দেশনায় চলবে প্রশাসন : নাসিম  » «   সৌদি আরবে আরও ৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  » «   মৃত পুরুষকে বিয়ে করলেন নারী, এরপর…  » «   যা করবেন সন্তানকে বুদ্ধিমান ও চটপটে বানাতে  » «   নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার  » «   কুরবানির গোশত অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া যাবে?  » «   শাহরুখের গাড়ি-বাড়ি ও ঘড়ির দাম এত?  » «   ভ্যান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে জমি, এরপর…  » «   মোবাইল ফোনে নতুন কলচার্জ নিয়ে যা বলছেন গ্রাহকরা  » «  

লাইলাতুল কদর : অনন্য ফজিলতপূর্ণ একটি রাত



মাওলানা মিরাজ রহমান

আরবিতে লাইলাতুল কদরের অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবিতে ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী আর ‘কদর’ শব্দের অর্থ হলো সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো- ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা ইত্যাদি। এ রজনীতে মুসলিমদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুননির্ধারণ করা হয় বলে এই রাতকে লাইলাতুল কদর নামে অভিহিত করা হয়েছে।

৬১০ সালে শবে কদরের রাতে মক্কার জাবালে নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত রাসূল (সা.)-এর নিকট সর্বপ্রথম পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। অনেকের মতে, এ রাতেই লাওহে মাহফুজে সম্পূর্ণ কোরআন অবতীর্ন হয়- যা পরবর্তিতে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ইসলামের নবী মুহাম্মদের নিকট বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট আয়াত আকারে নাজিল করা হয়। [আল-কুরআন অবতরণ, ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মুনিম খান] আর এই প্রথম কুরআন নাজিল হওয়ার রাতকে ঠিত তখন থেকেই পবিত্র রজনী হিসেবে উৎযাপনের রীতি চালু হয়।

আল্লাহ মহান পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কি জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। [সূরা কদর, আয়াত ১-৫]

এ মর্মে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অন্যত্র ঘোষণা করেছেন,  হা-মীম, শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। [সূরা দুখান, আয়াত ১-৪]

এই রাতে ফেরেশতারা এবং জিবরাঈল পৃথিবীতে অবতরণ করে ইবাদতরত সব মানুষের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতে থাকেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট একদল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। [মাযহারি]

লাইলাতুল কদরে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, সবকিছুর পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাদেরকে লিখে দেওয়া হয়, এমনকি কে কখন এবং কবে হজ করবে, তা-ও লিখে দেওয়া হয়। [বোখারি]

পবিত্র কুরআনের সুরা কদরে উল্লেখ আছে, হাজার মাস ইবাদতে যে সাওয়াব হয়, কদরের এক রাতের ইবাদত তার চেয়ে উত্তম। এছাড়া লাইলাতুল কদরের রাতে সৎ এবং ধার্মিক মুসলমানদের ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। লাইলাতুল কদরে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে মাগফিরাত, নাজাত ও ক্ষমা পাওয়ার পরম সুযোগ লাভ করে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাঁর পূর্বেকৃত সব গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন। [বোখারি]

অন্য হাদিসের বর্ননা অনুযায়ী লাইলাতুল কদরের রজনীতে যে বা যারা আল্লাহর আরাধনায় মুহ্যমান থাকবে, স্রষ্টা তাঁর ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেবেন। [তিরমিজি] অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরে জেগে জেগে রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দাও। [মুসলিম]

লাইলাতুল কদরে আমাদের কর্তব্য হলো বেশি করে দোয়া করা। হজরত আয়েশা (রা.) নবী করি কে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, লাইলাতুল কদরে আমি কী করতে পারি? তিনি বললেন, ইস্তেগফার করবে। বলবে, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। [তিরমিজি]

নবী করিম (সা.) এ-রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি সময় ও শ্রম দিতেন, যা অন্য কোনো রাতে দেখা যেত না। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি এ রাতে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, সালাত ও দোয়ার মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন। [মুসলিম] রাসূল (সা.) এজন্যে এই দশদিনে মসজিদে ইতেকাফ করতেন। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না। [বোখারি]

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: