রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী‘আসল প্রশ্নফাঁসকারী তো শিক্ষক’  » «   আগামী ২০ ডিসেম্বর তৈমুরের জন্মদিন : চলছে রাজকীয় আয়োজন  » «   কার চাপায় যুবক নিহত  » «   বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু  » «   ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকায় বিমান চলাচল বন্ধ  » «   হোটেলে যখন একা, তখন মেনে চলুন কিছু বিষয়!  » «   এবার মাত্র ২০০০ টাকার মধ্যে স্মার্টফোন  » «   আ’লীগের আলোচনা সভা বিকেলে  » «   অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   মেয়েকে দিয়েই অন্য মেয়েদের ফাঁদে ফেলতেন এই বাবা!  » «   বিজয় দিবসে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ২  » «   ফ্রান্স দূতাবাসে বিজয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত  » «   সামান্য সেলফির জন্যই বিপদে পড়লেন দেশ সেরা সুন্দরী!  » «   ফিলিস্তিনি ধনকুবেরকে আটক করেছে সৌদি  » «   সেনা কর্মকর্তার বাসা থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার  » «  

‘রোহিঙ্গা’ বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ



নিউজ ডেস্ক::বাংলাদেশ সফরের সময় পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করায় মায়ানমারে সোশাল মিডিয়ায় তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এবিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করছেন।

ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বললেও এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ছিলেন তখন তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। শুক্রবার ক্যাথলিক খৃস্টানদের ধর্মীয় এই নেতা ঢাকার একটি গির্জায় কয়েকজন রোহিঙ্গার দুর্দশার কথা শোনেন এবং তিনি নিজেও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন।

এই রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমারর কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রোহিঙ্গাদেরকে কোন জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না। তাদের কাছে তারা অবৈধ বাঙালি। মায়ানমার গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেননি তখন মায়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলো। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থী বৌদ্ধরাও।

কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশ থেকে রোমে ফিরে আসার পথে বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করার পর মায়ানমারের অনলাইনে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের মতো সময় মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিলো। কিন্তু এখন এই দেশটিতে লোকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন।

তিনি হচ্ছেন একটা গিরগিটির মতো, আবহাওয়ার কারণে যার গায়ের রঙ বদলে গেছে,’ ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অং সো লিন।

আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোয়ে সোয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘তার একজন সেলসম্যান বা দালাল হওয়া উচিত। একজন ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।’

মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো তিনি যাতে বিতর্কিত বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ সেরকম কিছু করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং সেখানে খৃস্টানদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

পোপ ফ্রান্সিস যখন মায়ানমারে ভাষণ দেন তখন তিনি তাতে ঐক্য, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা বললেও, রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেননি।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ইয়ে লং মিন পোস্ট করেছেন, ‘পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি মায়ানমারে এক কথা বললেন আবার অন্য একটি দেশে গিয়ে অন্য কথা বললেন। তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে তার সবখানে একই কথা বলা উচিত ছিলো।’

অন্যদিকে মায়ানমার একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মং থোয়ে চুন পোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘মানবাধিকার গ্রুপের চাপ সত্ত্বেও মায়ানমারে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ বলেন নি। তার অর্থ তিনি মায়ানমারের লোকজনকে ভালোবাসেন। এই শব্দটি তিনি বাংলাদেশে বহুবার উচ্চারণ করেন নি। মাত্র একবারই এটা বলেছেন। আমার মনে হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি একাজ করেছেন।’ বিবিসি

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: