রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নেতাদের শাসালেন শেখ হাসিনা  » «   যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি, দেখার কেউ নেই!  » «   নতুন চলচ্চিত্রের জন্য ইরানে অনন্ত  » «   নেইমারের জার্সি গায়ে অপু ও জয়  » «   সিসিক নির্বাচন: আ.লীগ মেয়র প্রার্থী হলেন কামরান  » «   বাসায় ঢুকে অভিনেত্রীকে শ্লীলতাহানি!  » «   আর্জেন্টিনার হার, বেরিয়ে এলো বিস্ফোরক তথ্য!  » «   দুর্ঘটনা সড়কে মৃত্যুর মিছিল, নিহত ৩০, আহত ৪৭  » «   ‘নির্বাচনে জয়ী হতে গিয়ে যেন দলের বদনাম না হয়’  » «   হাসপাতালে পরীমনি  » «   আর্জেন্টিনার হার, ‘সুইসাইড নোট’ লিখে নিখোঁজ মেসি ভক্ত  » «   সাপাহারে ট্রাক ও ভ্যানের মুখো-মুখি সংঘর্ষে নিহত-২  » «   দুর্ঘটনার দিন ঢাকাতেই ছিলাম না’  » «   ভক্তদের হতাশ করেনি ব্রাজিল : অতিরিক্ত সময়ই বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখল নেইমারদের  » «   হাসপাতালের এক্সরে রুমে রোগীর মাকে ধর্ষণের চেষ্টা!  » «  

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ



নিউজ ডেস্ক:: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। পৃথক কর্মসূচি থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই দাবিতে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওসহ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গতকাল সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও পল্টন এলাকায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়। জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে কয়েকটি ইসলামী সংগঠন। এসব সংগঠনের সমাবেশ থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন (রব) এবং তৌহিদী জনতার ব্যানারসহ আরও কয়েকটি ইসলামী দল আলাদা আলাদাভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোটা বায়তুল মোকাররম এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের দেহতল্লাশি করে মসজিদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়। নামাজের পর দৈনিক বাংলা থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ইসলামী দলগুলোর মিছিল পল্টন মোড়ের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি।
আয়োজিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানেরা আজ হতবাক। গত কয়েক দিনে আরাকান রাজ্যে বার্মার সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করেছে। তারা গর্ভবতী মায়েদের পেট চিরে বাচ্চা হত্যা করছে। এ হত্যাকাণ্ড থেকে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সে দেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সকল প্রকার নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।  মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার পর সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ তার প্রতিবাদ করলেও মিয়ানমার সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। গত ৫০ বছরে মিয়ানমার সরকার সে দেশ থেকে প্রায় ১২ লাখ মুসলমানকে বিতাড়িত করেছে। এতে বোঝা যায়, মিয়ানমার সরকার কতটা উন্মাদ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের কোনো মুসলমান বসে থাকতে পারে না। আমাদের সবাইকে এই গণহত্যার প্রতিবাদে আরও সোচ্চার হতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি নমনীয় হয়েছে। মানবিকতার খাতিরে তাদের সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে দিচ্ছে। যেহেতু তারা শুধু মাত্র বাঁচার জন্য তাদের পূর্ব পুরুষের ঘর বাড়ি ছেড়ে চলে আসছে, তাই তাদের প্রতি মানবিকতা দেখিয়ে তাদের সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে দেয়ার বিষয়টি যেন অব্যাহত রাখা হয়। তিনি ১১ই সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ১২ই সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাবি উত্থাপনের জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে আমরা মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করবো।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাত্তলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণেই বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে হবে এবং এই সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে হবে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যেভাবে বর্বরতা চালাচ্ছে তাতে কোনো পশুও পশুর ওপর এত হিংস্র আঘাত করে না। ওরা জীব-জানোয়ারকেও হার মানিয়েছে। এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসমলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের  কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. হারুনূর রশীদ ও মাওলানা নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
আলাদা প্রতিবাদ সমাবেশে খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের বলেন, নব্য হিটলার সুচির হাত মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত। সে শান্তির নোবেল পাওয়ার উপযুক্ত নয়, কাজেই সুচির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে আরাকান একসময় বাংলাদেশের অংশ ছিল। দরকার হলে বাংলাদেশের মুসলমানেরা আবারও আরাকানকে বাংলাদেশের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করবে।
খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমেদ কাশেমী বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে বিশ্বের মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ওই হায়নাদের হিংস থাবা আরও দিন দিন বাড়বে। আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও ধর্ষণের বিচার করতে হবে। রাখাইন রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন ছাড়াও সে অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ এবং ওআইসিকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। এ হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য তিনি মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে আসার জোর দাবি জানান।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা: মিয়ানমারে গণহত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশকে ঘিরে বায়তুল মোকাররম এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলে পুলিশ। পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব-৩ এর সদস্যদের সতর্ক থাকতে দেখা যায়। নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের দেহতল্লাশী করে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে বসানো হয়। এছাড়া পুলিশের রায়ট ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেন পরিস্থিতি ঘোলাটে না হয় এজন্য পুলিশ সতর্ক ছিল। যারা সমাবেশ করেছেন তারা পুলিশের কাছে আগেই মৌখিক অনুমতি নিয়েছিলেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: