মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইসি প্রশ্নবিদ্ধ ভোট করতে চায় না: সিইসি  » «   বিয়ানীবাজারে ‘পুলিশ প্রহরায়’ নাহিদের প্রচারণা!  » «   হবিগঞ্জে ধানের শীষ পেলেন রেজা কিবরিয়া  » «   কাতারে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম সিলেটের সাইয়্যেদ  » «   প্রিয়ডটকম-বিএনপিনিউজ২৪-সিএনএনবিডি২৪ সহ ৫৮ নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ  » «   আজ থেকে শুরু জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ  » «   নিজেকে ট্রাম্পকন্যা দাবি এক পাকিস্তানি তরুণীর!  » «   প্রতীক বরাদ্দ আজ, শঙ্কা নিয়ে শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধ  » «   আজ খালেদা জিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ  » «   নৌকা প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির যে ২৯ প্রার্থী  » «   জাপা পেলো ৩০ আসন, উন্মুক্ত ১৩২  » «   মেয়র পদে থেকেই সংসদ নির্বাচন করা যাবে: হাইকোর্ট  » «   সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করছে: প্রধান বিচারপতি  » «   প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে হিরো আলম  » «   যেসব আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পরিবর্তন  » «  

রোজা নিয়ে ৬টি ভুল ধারণা



ইসলাম ডেস্ক::পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়েছে। দেশে আজ (সোমবার) পঞ্চম রোজা অতিবাহিত হতে চলেছে। এটি বিশ্বব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সংযমের মাস। এই মাসে গোটা বিশ্বের মুসলিমগণ রোজা পালন করে থাকেন। রোজা পালন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়ষ্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়।

রোজা সহজ সরল একটি ধর্মীয় আচরণের বিষয়, এ সময় মুমিন মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো ধরণের পানাহার থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাজে ভুল ধারণা বিদ্যমান। আর এগুলো নিয়ে অনেক মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ।

ব্রিটেনের অ্যাডভান্সড (অগ্রসর) ইসলামী বিজ্ঞান এবং শরিয়াহ আইনের সদস্য ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান সে রকম প্রচলিত ৬টি ভুল ধারণা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। খবর আরটিভি অনলাইন।

চলুন জেনে নেয়া যাক, রোজা নিয়ে সেই প্রচলিত ৬টি ভুল ধারণা সম্পর্কে-

অসাবধানতা বশত কোনো কিছু খেয়ে ফেললে কী রোজা ভেঙে যায়?

ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান: আপনি যদি সত্যিই একদম ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন তাহলেও আপনার রোজা বৈধ থাকবে। যদি না আপনি বোঝার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু নামাজের আগে ওজুর সময় যদি আপনি অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এই ভুল এড়ানো সম্ভব। এ কারণে রোজা রেখে অজু করার সময় গারগল না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি শুধু কুলি করে পানি ফেলে দিন।

রোজা রেখে ওষুধ কী খাওয়া যাবে?

ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান: মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির সাথে যৌথ একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে- রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন, চোখের ড্রপ। এমসিবি বলেছে, চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙবে না। তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ। সেহেরির আগে এবং ইফতারির পর তা খেতে হবে। প্রথম কথা আপনি যদি অসুস্থ থাকেন, তাহলে ভাবতে হবে আপনি রোজা আদৌ রাখবেন কিনা? কোরআনে পরিষ্কার বলা আছে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলুন।

শুধু খাবার খেলেই নয়, অন্য কিছু কারণেও রোজা ভাঙবে

ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান: শুধুমাত্র খাবার মুখে দিলে বা পানি পান করলে রোজা ভেঙে যাবে তাই নয়। আরো কিছু আচরণে রোজা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিছু অপরাধ জিহ্বা দিয়ে হয়। যেমন কারো সম্পর্কে দুর্নাম রটানো। গুজবে অংশ নেয়া বা কাউকে গালিগালাজ করা। তাহলে রোজা কবুল নাও হতে পারে।

দাঁত ব্রাশ করলে কী রোজা ভেঙে যায়?

ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান: অনেকে মনে করেন পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়। কিন্তু ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন এটি ভুল ধারণা, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙে না। কারণ পেস্টের স্বাদ পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছায় না। তবে অনেক মানুষ অতি সাবধানী। তাদের জন্য পরামর্শ হলো- অল্প পরিমাণ পেস্ট নিন। মিন্টের গন্ধ কম এ রকম পেস্ট ব্যবহার করুন। ভয় পেলে গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহার করেন।

মুখের লালা পেটে ঢুকলে কী রোজা ভাঙে?

ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান: মুখের লালা পেটে ঢুকলে কোনো অসুবিধা নেই। মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না- এই বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। নিজের লালা খাওয়া খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। এতে অবশ্যই রোজা ভাঙে না। বরঞ্চ ইসলামে রোজার সময় মুখের লালা খাওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে অন্যের মুখের লালা নিজের মুখে ঢুকলে রোজা ভেঙে যাবে। রোজা রাখা অবস্থায় আপনার সঙ্গীকে চুম খেতে পারবেন না, অন্তরঙ্গ হওয়া যাবে না। এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে সংযত করা। সে কারণেই খাবার, পানীয় বা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে।

কাদের ওপর রোজা ফরজ?

ইসলামী চিন্তাবিদ সাব্বির হাসান: ইসলামে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণত ১৫ বছর) এবং সুস্থ ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে। এমসিবি বলছে- শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়। যদি স্বল্প সময়ের জন্য কেউ অসুস্থ হন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর অন্য সময়ে তিনি ভাঙা রোজাগুলো পূরণ করে দিতে পারেন। যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো অসুস্থতা থাকে এবং রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে রোজার মাসের প্রতিদিন ফিদা অর্থাৎ গরিবকে কিছু দান করুন। ব্রিটেনে এই ফিদার পরিমাণ নির্ধারিত করা হয়েছে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ পাউন্ড।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: