সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রেল স্টেশনে স্ক্যানার বসানোর সুপারিশ  » «   পাবনায় আব্দুর রব বগা মিয়ার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিক উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টে বৈঠক নয় চা খাওয়া হয়েছে  » «   ব্যাগের ভেতরে তরুণীর লাশ  » «   শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বিল পাস  » «   বাড়ানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা  » «   খালেদার শুনানি, যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল  » «   স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সন্তানসহ অবস্থান  » «   বিচারিক আদালতে খালেদার নথি  » «   শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘরে করুন, রাস্তায় কেন : কাদের  » «   বাহুবল থেকে নিখোঁজ ৩ মাদ্রাসা ছাত্র ফেনীতে উদ্ধার  » «   খালেদার সঙ্গে দেখা করতে গেছেন ৪ স্বজন  » «   মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য অভিযান শুরু ১ মার্চ  » «   যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১  » «   সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রীদেবীর শেষকৃত্য  » «  

রুপা হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ



নিউজ ডেস্ক::টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও ঘার মটকে হত্যা মামলা প্রথমবারের মতো অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়েছে। পাঁচ পরিবহন শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনা মামলাটি টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে সোমবার (১৩ নভেম্বর) অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সোমবার (১৩ নভেম্বর) আদালতের বিচারক আব্দুল মান্নান ছুটিতে থাকায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগ গঠন হয়নি।

এদিকে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবুল মনসুর মিয়া আগামী ২২ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী তারিখ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১৫ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করেন।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ছোঁয়া পরিবহনের সহকারি শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীর (৫৫) বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ২০০৩) ৯ এর তিন ধারায় গণধর্ষণের অভিযোগ এবং দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ, ২০১ ধারায় লাশ গুমের অভিযোগ এবং ৩৪ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে চার্জশীটে। চার্জশীটে ৩২জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ, চিকিৎসকসহ পাঁচ থেকে ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

রুপাকে হত্যার পর ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটে চলাচলকারী ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকরা স্বাভাবিক ছিলেন। ঘটনার পরদিন থেকেই তারা স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রুপাকে সনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারি শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) কে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারি শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

বর্তমানে আসামীরা সবাই টাঙ্গাইল কারাগারে আছে। ৩১ আগস্ট রুপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তাঁরাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সাইফুর রহমান খান ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন মাথায় আঘাত জনিত কারণে রুপার মৃত্যু হয় এবং মৃত্যু আগে রুপাকে ধর্ষণ করা হয়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: