শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ  » «   কমতে শুরু করেছে চালের দাম  » «   কনডমের বিজ্ঞাপনে সানি লিওন, চটেছেন ভারতীয়রা  » «   সাতক্ষীরায় ১৩ রোহিঙ্গা উদ্ধার করেছে পুলিশ  » «   পরিচালক এফআই মানিকের পাশে দাঁড়ালেন অনন্ত জলিল  » «   ‘মেসির কারণেই নেইমার বার্সা ছেড়েছেন’  » «   রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন কাভানি!  » «   কাশিমপুরে পাঁচ কারারক্ষী বরখাস্ত  » «   নাটোর থেকে তিন’শ মণ পাট বোঝাই ট্রাক উধাও  » «   সাপাহারে কারিতাসের ভেলিডেশন এট ওয়ার্ড লেভেল অনুষ্ঠিত  » «   ঢামেক হাসপাতাল‘সরকারী কাজ এমনই হয়!’  » «   সাপাহারে বিদ্যুৎস্পৃৃষ্টে রাজমিস্ত্রী নিহত!  » «   যে নয়টি কারণে প্রতিদিন খেতে পারেন দই  » «   লড়াই করতে চান রোহিঙ্গারা  » «   সীতাকুণ্ডে মাইক্রোবাস চাপায় নিহত ১  » «  

রাবির ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্যবৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ



নিউজ ডেস্ক::পূর্বঘোষিত নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে ডাইনিংয়ে মূল্যবৃদ্ধির এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়।

এদিন দুপুরে খেতে গিয়ে হঠাৎ খাবারের মূল্য বৃদ্ধি করার ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তবে খাবারের দাম বাড়লেও মান বাড়েনি বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। জানা যায়, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলে চাউলের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। এতে ডাইনিং এ লোকসান হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কাউন্সিল বরাবর খাবার মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানায় ভোজনালয় শ্রমিক ইউনিয়ন।

এর প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে গত সোমবার খাবার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিল। হল প্রশাসনের এই হঠকারী সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাকি পরিস্থিতি সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাউলের মূল্য বৃদ্ধির অযুহাতে ২০১০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় ডাইনিং এ দুপুরের খাবার ১৬ থেকে ২০ টাকা এবং রাতের খাবার ১৩ থেকে ১৬ টাকায় বৃদ্ধি করে। ওই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনা প্রকার আলোচনা করেনি। এবারও একইভাবে খাবার মূল্য বৃদ্ধি করেছে হল প্রশাসন। এতে ডাইনিংবিমুখ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পাবে। হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম শোভন বলেন, ‘গরুর খাবারের আবার মান কী? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তো আমাদের গরুই মনে করে।

তা না হলে বারবার আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বাড়ালেও মান যে আগের চাইতে বহুগুণ কমেছে সেদিকে কেউ ভ্রক্ষেপ করছে না। ডাইনিং এসবচেয়ে নিম্ন মানের চাউল সরবরাহ করা হয়। আর রাজশাহীতে সবজীর দামও বেশি নয়।’ শাহ্ধসঢ়; মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মজুমদার বলেন, ‘খাবারের মান এতই খারাপ যে জেলখানর কয়েদিরাও এর চাইতে ভালো খাবার পায়। আমাদের টাকায় আমাদের খাবারের ব্যবস্থা হলেও সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে পুষ্টিহীন খাবার খাচ্ছি।’ এর সাথে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী খাবারের মান ও দাম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

খাবারের মান ছাত্রী হলগুলোতে আরও নিম্ন বলে অভিযোগ আবাসিক ছাত্রীদের। মুন্নজান হলের রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘ছাত্র হলের ডাইনিংয়ের তুলনায় আমাদের ডাইনিংয়ের অবস্থা আরও করুণ। যত দিন যাচ্ছে মেয়েদের জন্য খাবার সমস্যা ততই প্রকট আকার ধারণ করছে। ছেলেরা যেখানে-সেখানে খাবার খেতে পারে কিন্তু আমাদের সে সুযোগ না থাকায় ডাইনিংয়েই চোখ বুজে খেতে হয় নতুবা না খেয়ে থাকতে হয়।

এখন আবার খাবার মান না বাড়িয়ে মূল্য বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন।’ আবাসিক হলগুলোর খাবার মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, খাবারের মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভোজনালয় শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে আলোচনা করে প্রভোস্ট কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ভালো বলতে পারবেন।’ এটা প্রভোস্ট কাউন্সিলের একক সিদ্ধান্ত কিনা জানাতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন নি।

প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এতো কমদামে খাবার কোথাও আছে? গত ২০১০ সালে ২৫% ও ২০% হারে দুপুর ও রাতের খাবার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা ১২% ও ১৫% হারে বাড়িয়ে খাবার মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে হারে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য এটাই তো বড় সুবিধা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: