বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত: তথ্যমন্ত্রী  » «   বুথফেরত জরিপের ফলেই ‘বিজয়োৎসব’ শুরু বিজেপির  » «   হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সৌদির পাশে থাকবে পাকিস্তান  » «   ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ  » «   মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে  » «   বালিশ দুর্নীতি: নির্বাহী প্রকৌশলী প্রত্যাহার  » «   এফআর টাওয়ার নির্মাণে ত্রুটি, তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী ৬৭ জন  » «   ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রিনলাইনকে আদালতের আল্টিমেটাম  » «   প্রখ্যাত তিন ইসলামি স্কলারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে সৌদি  » «   মৌলভীবাজারে কে এই ‘পীর’ আজাদ?  » «   ৮০ বছরের মধ্যে সাগরে ডুবে যাবে বাংলাদেশ!  » «   অনলাইনে ট্রেনের টিকিট: বিক্রি শুরুর আগেই টিকিট শেষ!  » «   আজ সিলেটের যে নয়টি এলাকায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকবে  » «   অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির দায়ে ইষ্টিকুটুম-মধুবনকে জরিমানা  » «   বুধবারীবাজার ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি রফিক উদ্দিনের জানাযায় মানুষের ঢল  » «  

রাজীবের মৃত্যুর এক বছরেও মেলেনি ক্ষতিপূরণের কানাকড়ি



নিউজ ডেস্ক:: দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডান হাত হারানো রাজীব হোসেন মারা যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো আজ বৃহস্পতিবার। ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল দুর্ঘটনার পর ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাজীব। এ ঘটনায় হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা দিলেও কোনো টাকা তো দূরে থাক কানাকড়িও মেলেনি এক বছরে। অর্থাৎ একটি টাকা পায়নি রাজীবের পরিবারের সদস্যরা।

রাজীব প্রয়াণের এই দিনে রাজীবের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করেছেন কুরআনে হাফেজ তার ছোট দুই ভাইসহ ও তার আত্মীয়-স্বজনরা। এ সময় চিফ হুইপও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান রাজীবের খালা জাহানারা বেগম।রাজীবের ছোট দুই ভাইয়ের নাম মেহেদি হোসেন ও আবদুল্লাহ। মেহেদি হোসেন তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার যাত্রাবাড়ী শাখায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। আবদুল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

রাজীবের খালা জাহানারা বেগম বলেন, ‘গত বছরের ১৭ এপ্রিল আমরা রাজীবকে হারিয়েছি। হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণের মামলা চলছে। আমরা আদালতের দিকে চেয়ে আছি। আদালত যে রায় দেবেন, আমরা তাই মেনে নেব। আদালতই এখন আমাদের শেষ ভরসা।’তিনি আরও জানান, রাজীব মারা যাওয়ার পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য-সহযোগিতা এসেছে। সেই টাকায় দুই ভাইয়ের লেখাপড়া চলছে।

হাইকোর্টে রাজীবের পক্ষে মামলা লড়ছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘রাজীবের ক্ষতিপূরণের মামলাটির শুনানি চলছে। আশা করছি, শিগগিরই শেষ হবে এবং আদালত সন্তোষজনক ও ইনসাফপূর্ণ রায় দেবেন।’

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘রাজীব মারা যাওয়ার এক বছর হয়ে গেছে, তার পরিবার এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। রাজিবের দুই ভাই এতিমখানায় অসহায় জীবনযাপন করছে। যদি এতিম এই দুই ভাই ক্ষতিপূরণের অর্থ পায়, তাহলে তাদের জীবন আরেকটু সহজ হবে।’

গত বছরের ৪ এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পর আদালত রাজীবের পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এটি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।

এদিকে রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ মে নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী নতুন এ দিন ধার্য করেন।

২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের গেটে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়ে ছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎ করেই পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিকে গা ঘেঁষে পড়ে।

দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি।

শমরিতা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সাময়িক উন্নতির পর তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে যায়। সেই থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি তার।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজীব মা আকলিমা খানমকে হারান। বাবা শোকে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েন। ছিলেন নিরুদ্দেশ। রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই পটুয়াখালীর বাউফলে নানার বাড়িতে ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে পোস্ট অফিস হাইস্কুলে ভর্তি হন। খালার বাড়ি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর রাজীব যাত্রাবাড়ীর মেসে গিয়ে ওঠেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে কম্পিউটার কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ শিখছিলেন। ছাত্র পড়াতেন। দম ফেলার ফুসরত পাননি। লক্ষ্য ছিল একটাই-নিজের পায়ে দাঁড়ানো, ভাই দুটির দায়িত্ব নেয়া।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: