শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি, নির্বিকার প্রশাসন  » «   স্টেশন মাস্টারের ভুলে ৮ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গে রেল-সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন  » «   বিন লাদেনকে পাকিস্তানের হিরো বললেন পারভেজ মোশাররফ  » «   রোববার প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনী শুরু, পরীক্ষার্থী কমেছে  » «   ধড়পাকড়ে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন, ফিরলেন আরও ২১৫ কর্মী  » «   বাবরি মসজিদ ইস্যু: সিলেটে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম  » «   খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে ১৪০১ পৃষ্ঠার আপিল আবেদন  » «   ব্রিটেনে বিতর্কিত টু চাইল্ড লিমিট আইন বাতিলের আবেদন  » «   পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী  » «   মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বিএনপির ২ নেতা  » «   লন্ডন-আমেরিকার চাইতেও বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেশী  » «   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগুন  » «   ধাপে ধাপে জরিমানা নেবে ট্রাফিক পুলিশ  » «   আগামীকাল থেকে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে ওয়াজ মাহফিল শুরু  » «   ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে: ইনাম চৌধুরী প্রসঙ্গে মিসবাহ সিরাজ  » «  

রাজশাহী পলিটেকনিকে মিলল ছাত্রলীগের টর্চার সেল



নিউজ ডেস্ক:: রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের অপকর্ম চলছিল অনেকটা প্রকাশ্যেই। এ নিয়ে শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীরা মুখ খোলার সাহস পাননি। অনেকটা নীরবেই ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হচ্ছিলেন শিক্ষার্থীরা। ছুতো পেলেই তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অধিকাংশ সময়ই চাঁদা আদায়ে নেয়া হতো টর্চার সেলে।

এমনই একটি টর্চার সেলের সন্ধান মিলেছে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। গতকাল রোববার বিকেলে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের তদন্ত কমিটি এ টর্চার সেলের সন্ধান পায়। পলিটেকনিকের পুকুরের পশ্চিম পাশের ভবনের ১১১৯ নম্বর কক্ষে এ টর্চার সেল থেকে লোহার রড, পাইপ ও লাঠি উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করেছে পুলিশ।

গত শনিবার দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনা তদন্তে এসেছিল ওই কমিটি। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। সিসিটিভির ফুটেজও দেখেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র জানান, ওই টর্চার সেলটি ছাত্রলীগের। ওই কক্ষের সামনে ছাত্রলীগের টেন্ট। ছাত্রলীগের নেতাদের কথা না শুনলে সেখানে নিয়ে শিক্ষার্থীদের টর্চার করা হয়। এ সময় ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষক এবং অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলেন।

অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক পত্রে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের আরেক পরিচালক (পিআইডব্লিউ) এসএম ফেরদৌস আলমকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) ড. নুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী মহিলা পলিকেনিটক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওমর ফারুককে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এসএম ফেরদৌস আলম বলেন, রোববার সকালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিকেলে আমরা দুইজন ঢাকা থেকে বিমানে রাজশাহী এসেছি। আর কমিটির অপর সদস্য রাজশাহীতে ছিলেন। রাজশাহী পৌঁছেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

টর্চার সেল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস আলম বলেন, সব বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলছি। পরিপূর্ণ তদন্তের পরই কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টর্চার সেলের ওই কক্ষটিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরে এনে রড ও লাঠি দিয়ে নির্যাতন করা হতো। এখানে ফ্রি স্টাইলে মারধর চলতো। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কোনো বিষয়ে কথা বললে বা তাদের কোনো অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। এ ছাড়া যত অপকর্ম আছে তার পরিকল্পনা এখানেই করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এমনকি শিক্ষকের সামনেই ক্লাস থেকে সাধারণ ছাত্রদের ধরে এখানে এনে নির্যাতন করা হয় বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

তদন্ত কমিটির সামনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নূর উল্লাহ জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে একটি নির্দিষ্ট চত্বরে বসে এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থীদের প্রায়ই মারধর করে। এর আগে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় তার পরও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষকদের চেয়ার তুলে মারতে আসে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অবৈধ দাবি নিয়ে সব সময় ঝামেলা করে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি তদন্ত কমিটির সামনে বলেন, পরীক্ষায় শূন্য পেলেও পাস করিয়ে দিতে হবে, একদিনও ক্লাসে আসেনি এমন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে হবে- এমন সব অযৌক্তিক দাবি করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের ছেলেরা কেউই ক্লাস করে না। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকও পরে না।

অধ্যক্ষ বলেন, ওই কক্ষটি জোর করে নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা ব্যবহার করে। সেখানে বসে তারা বিভিন্ন সময় আড্ডা বা মিটিং করে। তবে শুনেছি তারা ওই কক্ষটি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করত। তবে এ নিয়ে কেউ কোনোদিন আমার কাছে অভিযোগ করেনি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: