সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

রাজশাহীতে মা-ছেলে হত্যায় আ.লীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড



নিউজ ডেস্ক:: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মা ও ছেলে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিনজনের ফাঁসি ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার সকালে রাজশাহীর বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে উপজেলার দেউলা গ্রামের আকলিমা বেগম (৪৫) ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে জাহিদ হাসানকে (২৫) গলা কেটে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত আকলিমা বেগমের দেবর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন মাস্টার (৫৫), পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও একই উপজেলার দেবীপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে সাবেক বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাক (৩৫)।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ আল কাফি (২২), একই গ্রামের লবির উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন (৩০), দুর্গাপুরের ক্ষিদ্রকাশিপুর গ্রামের ছাবের আলীর ছেলে রুস্তম আলী (২৬) এবং ক্ষিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির (২৩)। এরা সবাই ভাড়াটে খুনি হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।

আদালতসূত্রে জানা গেছে, জেলার বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামের নিজ বাড়িতে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে মা আকলিমা বেগম ও তার ছেলে জাহিদ হাসানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আকলিমার বড় ছেলে দুলাল হোসেন বাদী হয়ে পর দিন অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এরপর থেকে বিভিন্ন সময় নানা মোড় নেয় এই জোড়া খুনের তদন্তে। তিন দফা বদল করা হয় তদন্ত কর্মকর্তা। শেষে ২০১৮ সালের ৩১ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আসামিদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তবে ফাঁসির সাজা পাওয়ারা এই জোড়া খুনের মূল পরিকল্পনাকারী। বাকিরা ভাড়াটে খুনি।

মামলার বাদী নিহত আকলিমা বেগমের বড় ছেলে দুলাল হোসেন জানান, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা আবুল হোসেনই সব সম্পত্তির দেখাশোনা করতেন। দিনে দিনে তারা বড় হয়ে ওঠেন।

২০১৪ সালে তার ভাই জাহিদ হাসান রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে মাস্টার্স শেষ করেন। চাচা আবুল হোসেনের পর তার ভাই জাহিদ ছিল একমাত্র শিক্ষিত ব্যক্তি। বিষয়টি মেনে নিতে পারতেন না চাচা। জাহিদ পড়াশোনা শেষ করে চাচার কাছ থেকে সব সম্পত্তি বুঝে নিতে চেয়েছিলেন।

এ নিয়ে চাচার সঙ্গে পারিবারিক কলহ শুরু হয়েছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে তার মা ও ভাইকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ রায়ে সন্তষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু বলেন, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এ বছরের এপ্রিলে আলোচিত এ মামলাটি রাজশাহী জেলা জজ আদালত থেকে বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলাটিতে ৫১ সাক্ষী ছিলেন। আদালত ৪৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এরপর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ বিচারক।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: