রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর ও ধরপাকড়ের অভিযোগ  » «   আটকে রেখে তিন সাংবাদিককে পেটালো বুয়েট ছাত্রলীগ  » «   সিরিয়ায় মসজিদ ধ্বংস করল মার্কিন জোট  » «   বাবার স্বপ্ন পূরণে বড় চাকরি ছেড়ে আপনাদের সেবায় এসেছি: রেজা কিবরিয়া  » «     » «   নির্বাচনে ‘সংঘাত’ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না: সিইসি  » «   জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২৫ সদস্যের সমন্বয়ক কমিটি  » «   আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় ১২ শিশুসহ নিহত ২০  » «   মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  » «   চমক থাকছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে  » «   দুই-তিন দিনের মধ্যে ইসিতে যাবে বিএনপি  » «   কাদের সিদ্দিকী রাজাকার, বদমাইশ : মির্জা আজম  » «   নির্বাচনের ৭ দিন আগে ব্যালট পৌঁছে যাবে: ইসি সচিব  » «   রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান ড. কামাল  » «   যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কানাডায় বোমা হামলার হুমকি  » «  

রাজন হত্যাকান্ড : পুলিশের উপস্থিতিতেই রাজনকে নির্যাতন করা হয়!



image_248400.rajonনিউজ ডেস্ক :: শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার সময়ে আগন্তুক হিসেবে একজন ঘটনাস্থলে আসেন এবং যাকে কামরুল-ময়নারা পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। ভিডিওচিত্রের বাইরে থাকা ওই আগন্তুককে ‘স্যার’ সম্বোধন করে নরপশুরা শিশু রাজনকে ভয়ও দেখায়। এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় দৈনিক সমকাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মম নির্যাতনের একপর্যায়ে রাজন ‘পুলিশও দিলাও রে বা’ বলে আকুতি জানায়। নির্যাতনের ভিডিওচিত্রের ২৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে ২৮ মিনিট ৮ সেকেন্ড পর্যন্ত পুলিশ পরিচয়দানকারী ওই আগন্তুকের উপস্থিতির অডিও শোনা যায়।

খুনিরা ওই আগন্তুককে ‘জালালাবাদের (থানার) বড় অফিসার’ বলে রাজনের কাছে পরিচয় দেয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে লোকটি চলে যাওয়ার সময় কামরুল তাকে ‘স্যার চলে যাচ্ছেন নাকি’ বলে প্রশ্নও করে।

চাঞ্চল্যকর এ মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগে জালালাবাদ থানার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের কয়েকজনের নেপথ্যে জড়িত থাকার অভিযোগের মধ্যে ‘পুলিশের’ উপস্থিতির কথা উঠল। তবে পুলিশের বিভাগীয় তদন্তে এমন কোনো তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।

ভিডিওচিত্রের ২৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের সময় শিশু রাজনকে উদ্দেশ করে কামরুলকে বলতে শোনা যায়, ‘কোন কোন খান মারছি, একটু স্যারকে বল।’ দেখার জন্য ওই আগন্তুককে ‘আপনি একটু এগিয়ে আসুন তো’ বলে অনুরোধ করা হয়। জবাবে ওই আগন্তুক কিছু বললেও তা পরিষ্কার বোঝা না গেলেও ২৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের সময় ‘ও স্যার, যাইন গিনি’ (স্যার, চলে যাচ্ছেন নাকি) বলতে শোনা যায় নির্যাতনকারীদের মুখে। এদিকে নির্যাতনের সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা না দেওয়ায় এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে ভিডিওচিত্রের ২৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেওয়া এক মুরবি্বকে ‘মারিও না’ বলতে শোনা যায়। ওই সময় কামরুলরা লোকটাকেও মারধর করার হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

বয়স্ক লোকটি এ অবস্থায় চলে যাওয়ার পরই রাজনকে ‘পুলিশও দিলাও রে বা’ বলে নরপশুদের কাছে অনুনয় করতে দেখা যায়। নির্যাতনকারীরা ‘পুলিশ’ পরিচয় দেওয়া ওই আগন্তুক আসার পর পর রাজনকে ‘ওবা দেখরায় নি রেবা, তারা মারের’ বলে উপস্থিত লোকজনের কাছে সাহায্য চাইতে দেখা যায়।

মোট ২৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওচিত্র থেকে ওই আগন্তুকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজনের এলাকার লোকজন। এদিকে দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দু’দিন আগেই ‘তিন-চার দিনের মধ্যে’ এই মামলার চার্জশিট প্রদানের কথা বললেও তা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে। তবে ‘ওপরের নির্দেশে’ খুব শিগগির মামলার চার্জশিট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সিলেট সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শিগগির কামরুলকে সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে কামরুলকে ফিরিয়ে আনার আগেই চার্জশিটের কাজ এগিয়ে রাখা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

তিন দিনের সফর শেষে ঢাকায় ফেরার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ইঙ্গিত দিলেও কামরুলকে ফিরিয়ে আনার পর চার্জশিট প্রদান ‘ভালো হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট লেখা শুরু করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তিনি জানান, তিন দিনের রিমান্ডে থাকা আলী হায়দারের শ্যালক রুহুল আমিনকে গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আগের দিন মুহিত-কামরুলদের তালতো ভাই ইসমাইলকেও কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

এই মামলায় মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম ছাড়া এই দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। বর্তমানে প্রত্যক্ষদর্শী আয়াজ আলী ও তাজউদ্দিন আহমদ বাদল নামে দু’জন রিমান্ডে আছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: