শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২২ আগস্ট থেকে গ্রুপ চ্যাট বন্ধ করে দিচ্ছে ফেসবুক  » «   রাজনীতিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা পুতুল?  » «   সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজী নিহত, আহত ১৭  » «   ফের পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি  » «   গভীর রাতে স্ত্রীকে মেডিকেলে নেয়ার ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  » «   মিরপুরে বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়েছে ৬০০ ঘর, ধ্বংসস্তুপে চলছে অনুসন্ধান  » «   বেফাঁস মন্তব্যে ফাঁসলেন জাকির নায়েক, হারাচ্ছেন নাগরিকত্ব  » «   কাশ্মীরে খুলছে স্কুল-কলেজ, তুলে নেওয়া হচ্ছে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা  » «   কাশ্মীর সঙ্কট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক সম্পন্ন, নাখোশ ভারত  » «   শিক্ষামন্ত্রীর স্বামীকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   চীনে টাইফুন লেকিমার আঘাত: নিহত ২৮, ঘরছাড়া ১০ লাখ  » «   কেমন হবে এবার কাশ্মিরীদের ঈদ?  » «   কেন ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি, কারণ বললেন সেতুমন্ত্রী  » «   কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী  » «   সড়ক-রেল-নৌ: সব যাত্রা পথেই ভোগান্তি  » «  

রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের ব্যবচ্ছেদ



নিউজ ডেস্ক:: নির্বাচনের বছর ২০১৮ সালে দেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) আয় বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। এই আয়ের সিংহভাগ এসেছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে। বাকি অর্থ এসেছে দলের অভ্যন্তরীণ চাঁদা ও সদস্য সংগ্রহ বা নবায়ন ফরম বিক্রি থেকে।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের হিসাব বিবরণী থেকে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বছরে আয় করেছে ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ টাকা। এ বছর দলটির ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ টাকা।

অন্যদিকে নির্বাচনের বছর বিএনপির আয় হয়েছে ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা, ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

জাতীয় পার্টির আয় ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ব্যয় ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। তাদের উদ্বৃত্ত আছে ৭৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আয় বিএনপির থেকে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি, আর সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ে ১২ গুণের চেয়েও বেশি।

গত বছর আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। ৯ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩টি ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ৩০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ৪ হাজার ২৩টি ফরম বিক্রি করে দলটির আয় হওয়ার কথা ছিল ১২ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী এ খাত থেকে ১০ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় করেছে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় এসেছে অনুদান থেকে। এ খাত থেকে তারা আয় করেছে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৫৫ টাকা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ আয় সদস্য সংগ্রহ/নবায়ন ফরম বিক্রি থেকে। এ খাত থেকে আওয়ামী লীগ আয় করেছে দুই কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫২০ টাকা। চতুর্থ সর্বোচ্চ আয় দলের অভ্যন্তরীণ চাঁদা থেকে। এ খাত থেকে আওয়ামী লীগ আয় করেছে এক কোটি ৪৫ লাখ ১৯ হাজার ৭০০ টাকা।

গত বছর দলীয় ফান্ডে কার্যনির্বাহী সদস্যরা চাঁদা দিয়েছেন ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, উপদেষ্টারা চাঁদা দিয়েছেন ১০ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা, জাতীয় কমিটির সদস্যরা চাঁদা দিয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা, সংসদ সদস্যরা চাঁদা দিয়েছে ৭৯ লাখ ২২ হাজার টাকা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা চাঁদা দিয়েছেন ১৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

নানা উৎস থেকে আয় করা টাকার সিংহভাগ ব্যয় হয়েছে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবন নির্মাণে। এ খাতে আওয়ামী লীগ ব্যয় করেছে ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা।

এর আগের বছর আওয়ামী লীগ আয় করেছিল ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৬ টাকা, ব্যয় করেছিল ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের দলীয় ফান্ডে মোট টাকা ছিল ৩২ কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৭ টাকা। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা বেড়ে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তহবিলে ৬ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মতো রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিরও আয় বেড়েছে। নির্বাচনের বছর তারা আয় করেছে ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা। এই আয়ের সিংহভাগ এসেছে দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে।

গত বছর ১২ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে বিএনপি। প্রতিটি ফরমের মূল্য ধরা হয় ৩০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে শুধু ফরম বিক্রি থেকে দলটির আয় হওয়ার কথা ছিল ১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কিন্তু অনেকে ৫ হাজার টাকা নগদ দিয়ে ফরম কিনলেও তা পূরণ করে জমা দেননি। ফলে এ খাত থেকে যে পরিমাণ আয় হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এবার দলের আয় হয়েছে ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৩ টাকা। এখন পর্যন্ত দলীয় তহবিলে মোট উদ্বৃত্ত আছে ৬ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ২৩৭টাকা। আয়ের সিংহভাগ এসেছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে।

বিএনপির ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৩ টাকা। ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে অফিস স্টাফদের বেতন, বিভিন্ন খরচ, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পোস্টার-ব্যানার-পত্রিকায় ক্রোড়পত্র, পুস্তিকা-লিফলেট ছাপানো, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সহায়তা, বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও ইফতার পার্টি আয়োজন।

দলীয় সূত্রমতে, বিএনপির সব আয়-ব্যায় দলীয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং একজন অফিস প্রধান।এই দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরে দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ওঠানো এবং আয়-ব্যায়ের হিসাব অনুমোদন হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তর চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম হক অ্যান্ড কোংয়ের মাধ্যমে নিরীক্ষা শেষে ইসিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপি।

নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও গত কয়েক বছর আয় ভালোই হচ্ছে বিএনপির। ২০১৭ সালে বিএনপির মোট আয় ছিল ৯ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা; মোট ব্যয় হয় ৪ কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ টাকা।

আয়ের দিক থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে আছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আয় করেছে। ব্যয় করেছে ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে মোট ২ হাজার ৮৬৫টি দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে জাপা। তাদের প্রতিটি ফরমের দাম ছিল ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে শুধু মাত্র ফরম বিক্রি থেকে আয় হওয়ার কথা ছিল ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু তারা ইসিতে জমা দিয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার হিসাব।

আগের বছর ২০১৭ সালে জাপা আয় দেখিয়েছিল ১ কোটি ৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৪০ টাকা, ব্যয় দেখিয়েছিল ১ কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ টাকা। আর ২০১৬ সালে আয় দেখিয়েছিল ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যয় দেখিয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৩০৩ টাকা। অর্থাৎ ২০১৬ সালে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছিল জাতীয় পার্টির।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত দলগুলোকে প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়। রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার পর এই হিসাব জমা দিতে হয়। পরপর তিন বছর হিসাব জমা না দিলে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: