মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আইভী-শামীম ওসমান গ্রুপের সংঘর্ষ, আইভী আহত  » «   প্রতিবন্ধী শিশুকে বলাৎকার, হাসপাতালে ভর্তি  » «   অন্যরকম এক রের্কডের দারপ্রন্তে মিরপুর স্টেডিয়াম!  » «   ব্ল্যাকমেইল করে চাচিকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ভাতিজা  » «   স্বামীর পরিবর্তে বেছে নিলেন ষাঁড়!  » «   টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ১  » «   ছাত্রলীগের সম্মেলন: ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা দেখছে অনেক নেতাকর্মী  » «   অভিজিৎ হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১৩ ফেব্রুয়ারি  » «   তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের পুকুর এখন রোগ-জীবানুর আবাস্থল  » «   রাণীশংকৈলে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা  » «   বছরে বিসিবির আয় কত?  » «   যুবককে যৌন নির্যাতন!  » «   আমিশাকে পর্ণস্টার হওয়ার পরামর্শ!  » «   একনেকে ১৮ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন  » «   সংগীত‌ শিল্পী শাম্মী আক্তার আর নেই  » «  

রসিক নির্বাচন‘ভোটের আগেই বিজয়ের ঘোষণা’



নিউজ ডেস্ক::রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয় নিয়ে বিএনপি নানান অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির দাবি, নির্বাচনের আগেই এরশাদ নিজের বিজয় হওয়ার ঘোষণা, বিএনপির ভোটাদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, এটা নীল নকশা। তবে অনেকে মনে করছে এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হযেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ টক শো’তে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এ এসব কথা বলেন।

টক শো’র আলোচনার বিষয় ছিলো ‘রংপুর নির্বাচন’। এই টক শো’তে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সুনীল শুভ রায়, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। উপস্থাপনায় ছিলেন সামিয়া রহমান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, দলের ব্যর্থতা, এটা এতো সহজে বলা যায় না। হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ এর কথা আমার মনে নাড়া দিয়েছিলো। তিনি বলে ছিলেন, ‘আমার প্রার্থী এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে।’ ভোটের আগেই তিনি কি করে বিজয়ের ঘোষণা দিলেন। তার এই কথায় আমি ধারণা পেয়েছি যে, এখানের নির্বাচনটা অন্য রকম ইলেকশন হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনটা আওয়ামী লীগের জন্য নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গের নির্বাচন। নির্বাচনের ফলাফল এরশাদ আগেই ঘোষণা করেছেন। সামনের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের লাগবে। সেই কারণে গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতাদের আওয়ামী লীগের নমিনেশন দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। জনগণ ভোট দিতে গেছে। শুধু মাত্র বিএনপির যারা ভোট দিতে যাবে তাদেরকে যেতে দেওয়া হয়নি। আজকে আওয়ামী লীগ যে হেরে গেছে এটা মনে হচ্ছে না। জাতীয় পার্টির বিজয় হওয়াটা আওয়ামী লীগের বিজয় হয়েছে এটা মনে হচ্ছে।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতির শিকার হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। নির্বাচনী ক্যাম্পিং শুরুতে তিনি একাই করেছেন। তাকে জেলা কমিটি সহায়তা করেননি। স্থানীয় কমিটি তাকে সেই ভাবে সার্পোট দেয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম ক্যাম্পিংয়ে যাওয়ার পরে তার ক্যাম্পিংটা জমে উঠেছিলো। এটা দলের ব্যর্থতা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সিনিয়র সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন প্রচার প্রচারণা করার পর নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে তিন দল অংশ নিয়েছে। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। বিএনপির যে অভিযোগ করে আসছে, এই অভিযোগ আগেও তারা করে আসছে। এরশাদের রংপুর, তিনি তার দুর্গ ফিরে পেয়েছেন। গত নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির দুই জন প্রার্থী ছিলো। তখন তাদের ভোট অনেক ভালো ছিলো। দুই প্রার্থীর কারণে সেই নির্বাচনে পরাজয় হয়েছিলো। এরশাদ এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এই নির্বাচনে একজন প্রার্থী দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলো খুবই জনপ্রিয় প্রার্থী।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। বড় ধরণের (নীল নকসা) কোনো কিছু হলে তো আমরা জানি না। প্রথমে আমাদের দেখা উচিত, প্রার্থীর বৈশিষ্ট্য। আমি যতটুকু দেখেছি, তিন প্রার্থীর সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। অনেক দিক থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বেস্ট প্রার্থী। আমাদের বিদায়ী মেয়রের আচারণ সর্ম্পকে অনেক রকম অভিযোগ আছে। বিএনপির প্রার্থী দুর্বল ছিলো।

জাতীয় পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচনের কোনো সভা-সমাবেশে যাননি। তিনি শুধু নির্বাচনের ভোট দিতে গিয়েছিলেন। মশিউর রহমানও কোনো সমাবেশে যাননি। তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং নির্বাচনে দলের সমন্বয়কারী ছিলেন। মোট দশটি জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আটটিতে জিতেছে। নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাতীয় পাটি এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। এরশাদ মনে করেন, বাংলাদেশের ২০০ আসনের যে কোনো আসন থেকে এরশাদ নির্বাচন করলে তিনি বিজয় হবেন বলেও জানান তিনি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মশিউর রহমান রানা নির্বাচনের প্রচারণা করতে পারেন না। তিনি সরকারি একটি পোস্টে আছেন। আর সমন্বয়ক মানে কী? লিগেলী ভাবে সমন্বয়ক নাই। এবার নির্বাচন কমিশন ট্রেনিং ফর ট্রেইনার্স করেছে পলিন ও এজেন্ডার নিয়ে। এটা কিন্তু এবারের মতো প্রথমবার। আমরা কয়েক দিনের জন্য করতাম। কিন্তু তারা এক মাসব্যাপী করেছে। নির্বাচন কমিশনের এখনো যে সমস্যাটা আছে তা হলো, প্রপার কমপ্লিইন অফ ম্যানেজমন্টে। অভিযোগ করার যে সিস্টেমটা তার ম্যানেজমেন্ট নেই। সেই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটা এখনো গড়ে তুলতে পারিনি।

অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, নীল নকশা, রাজনীতিতে একটা আভিধানিক শব্দ। রংপুর নির্বাচনের এলাকাটি একটি লাঙলের এরিয়া। জাতীয় পার্টির প্রার্থী গতবারেই জিতে যাওয়ার অবস্থা। আমরা যেটা শুনতে পেয়েছি, এটা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর একটা বৈশিষ্ট্য। তার সাধারণ মানুষের সাথে যথেষ্ট যোগাযোগ আছে। বিএনপির যে প্রার্থী তিনি গতবারও তৃতীয় ছিলেন এবারও তৃতীয় আছেন। এটাই হলো সত্য। রাজনীতিতে অনেক কিছুই হয়। তা মোকাবেলা করে জিতে আসাই হল রাজনীতি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: