বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
১৪৪ ধারা ভঙ্গের অপরাধে ৩ জনকে জরিমানা, দায়িত্বে অবহেলায় ৪ জনকে অব্যাহতি  » «   মুক্তিযোদ্ধা হতে একাত্তরে ন্যূনতম বয়স নিয়ে রুল  » «   এবার নেচে গেয়ে দর্শক মাতাবেন শামীম ওসমান  » «   বাংলাদেশ সচেতন ছাত্র ফোরামের উদ্যেগে দুঃস্থ ও এতিমদের নিয়ে তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন পালন  » «   বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাংচুর মামলার আসামী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী  » «   ভর্তি জালিয়াতি চক্রের দুইজন আটক  » «   পাবনায় আইডিবি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত  » «   তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ফ্রান্স শাখা  » «   আরব সভ্যতা টিকবে না : আদোনিস  » «   জন্মদিনে তারেকের সুস্থতা কামনা করে খালেদার টুইট  » «   তনুর পরিবারকে ঢাকায় ডেকেছে সিআইডি  » «   যৌন হয়রানির শিকার উত্তর কোরিয়ার নারী সৈন্যরা  » «   মোদির বিরুদ্ধে আঙুল তুললে কেটে ফেলা হবে, হুমকি বিজেপি নেতার  » «   কমলগঞ্জে সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা: পিইসি পরীক্ষার্থী সহ আহত ৩  » «   নাতির সঙ্গে পিএসপি পরীক্ষা দিচ্ছেন নানি  » «  

যৌথ প্রযোজনা: নতুন নীতিমালায় দশ প্রস্তাবনা



বিনোদন ডেস্ক:: যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নিয়ে বিতর্ক চলছে বহুদিন থেকেই, অনেকেই একে যৌথ প্রযোজনা না বলে, যৌথ প্রতারণা বলে থাকেন। ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের নির্মাতারা যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণ করে আসছেন, মাঝে বেশ কয়েক বছর বন্ধ থাকলেও, আবার যেন সেই জোয়ার লেগেছে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে।
১৯৮৬ সালে যৌথ উদ্যোগের চলচ্চিত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রথমবারের মতো নীতিমালা করা হয়, সেখানে উল্লেখ ছিল- যৌথ প্রযোজনার ছবিতে সব দেশের শিল্পীদের সমানভাবে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা বাধ্যতামূলক।
২০১২ সালে আগের কিছু নিয়ম পরিবর্তন করে আসে নতুন নীতিমালা, যেখানে বলা হয়- দুই দেশের নির্মাতারা আলোচনার মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিবেন। মূলত ২০১২ সালের এই নীতিমালাই বাংলাদেশের শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সাম্প্রতিক সময়ে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের শিল্পী-কলাকুশলীদের উপেক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে চলছে জোর সমালোচনা। ১৯৮৬ সালের নীতিমালায় সব দেশের শিল্পীদের সমানভাবে অংশগ্রহণের কথা বলা ছিল, ২০১২ সালের নীতিমালাতেও উল্লেখ ছিল- এই সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে দুই দেশের শিল্পীদের সংখ্যানুপাত যেন সমান রাখা হয়। এমনকি সেখানে উল্লেখ ছিল- চিত্রায়নের ক্ষেত্রেও যেন দুই দেশকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
১৯৮৬ বা ২০১২ সাল, কোনো নীতিই মানা হচ্ছে না বলে বারবারই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন বাংলাদেশের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সাম্প্রতিক কালে নির্মিত যৌথ প্রযোজনার যে কোনো সিনেমা দেখলেই অবশ্য প্রমাণ মিলবে তার। সর্বশেষ রোজার ঈদের পর ‘বস-২’ বা ‘নবাব’ নিয়ে আন্দোলনে নামে চলচ্চিত্র শিল্পী ও পরিচালকরা।
আন্দোলনের সময় তারা দাবি জানান, তাদের প্রতি যেই অন্যায় আচরণগুলো করা হচ্ছে, সেগুলো সংশোধন করে নতুন নীতিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ থাকবে। সেই সিদ্ধান্তের জের ধরেই বর্তমানে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ স্থগিত রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে কিছু নতুন প্রস্তাবনা। জেনে নেওয়া যাক, নতুন নীতিমালায় কি কি প্রস্তাবনা সংযুক্ত করা হয়েছে-
১. যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সকল চলচ্চিত্রের যে কোনো প্রচারণায় ‘যৌথ প্রযোজনার’ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম সমান গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পীদের ছবি সমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
২. বিদেশি কোন প্রযোজক বা পরিচালক যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তিনি বা তারা বাংলাদেশে এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের অনুমতি আর পাবেন না।
৩. পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে থেকে যৌথ চলচ্চিত্র পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহিত করা এবং অবশ্যই এ ধরনের ছবিটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিনয়শিল্পী, টেকনিক্যাল কর্মী, শিল্পী ও কলাকুশলী সমানুপাতিক হারে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. যদি কোনো বিশেষ কারণে বা প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে সমান হারে শিল্পী বা কলাকুশলী নিয়োগে করতে না পারা যায়, সেটা যেন অবশ্যই যৌথ প্রযোজনার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় যথাযথ যৌক্তিকতা দেখিয়ে কারণ জানানো হয়। বাছাই কমিটির মতামত সাপেক্ষে এ বিষয়ে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হবে বলে নীতিমালাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫. যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণে ইচ্ছুক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য পরীক্ষা ও পর্যালোচনাসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবে পরীক্ষা করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ বা মতামত দিতে ও নির্মাণ শেষে চলচ্চিত্র দেখে প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে দাখিলের ছাড়পত্র দিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হবেন ওই কমিটির সভাপতি। এই কমিটির প্রস্তাব বিবেচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেবে।
৬. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়া ও নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিষয়ে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোন অভিযোগ থাকলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করা যাবে। আপিল আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি আপিল কমিটি থাকবে। তথ্য সচিব হবেন এ কমিটির সভাপতি। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া বাছাই কমিটির অন্য কোনো সদস্য আপিল কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।
৭. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রের কাহিনি মৌলিক হতে হবে।
৮. শুটিং এর লোকেশন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমানুপাতিক হারে নির্ধারিত হবে। তবে কাহিনি ও চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে ও বাস্তব কোনো কারণে শুটিং এর লোকেশন সমানভাবে নির্ধারণ করতে না পারলে আগে থেকেই তা আবেদনপত্রে কারণসহ উল্লেখ করতে হবে। কাহিনির প্রয়োজনে অন্য কোনো দেশেও চিত্রায়ন করা যাবে।
৯. চূড়ান্ত অনুমোদন ও চিত্রায়নের অনুমোদনের পূর্বে আগে চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজ ও শুটিং শুরু করা যাবে না। চিত্রায়নের অনুমতি পাওয়ার কমপক্ষে ৭৫ দিন পার না হলে চলচ্চিত্র প্রিভিউর জন্য জমা দেওয়া যাবে না।
১০. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র চিত্রায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লোকেশনে চিত্রগ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে স্থান এবং তারিখ উল্লেখ করে বাংলাদেশি প্রযোজকের পক্ষ থেকে বিএফডিসিকে অবহিত করতে হবে। কোন প্রযোজক বা পরিচালক একই বছরে ইচ্ছেমতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারবেন না।
এছাড়া কিছু নিয়ম আগের নীতিমালাগুলোতে উল্লেখ ছিল যার কারণে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, সেই নীতিমালাগুলো নতুন নীতিমালাতেও বহাল রয়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: