শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পাবলিক পরীক্ষার সব ফি দেবে সরকার  » «   বাচ্চারা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইভিএম, দাবি লালুপুত্রের  » «   আগামীকাল প্রাথমিকের প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা  » «   পরাজিত হওয়া মানেই হার নয়: মমতা  » «   কুলাউড়ায় ওজন বাড়াতে চিংড়িতে বিষাক্ত জেলি!  » «   শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ধর্ষণ: ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি রোজা রাখছি’  » «   কিছুটা সময় লাগলেও ইসরাইল-আমেরিকার পতন অনিবার্য: ধর্মীয় নেতা  » «   মেয়াদোত্তীর্ণ সেমাই ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি: সিলেটে ওয়েল ফুডকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   একক দল হিসেবেই ম্যাজিক ফিগারে মোদির বিজেপি!  » «   পারিবারিক কলহে সৎ মাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছেলে  » «   রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী  » «   পবিত্র কোরআন কেটে ভেতরে ইয়াবা পাচার, ৩ রোহিঙ্গা আটক  » «   গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার জন নিহত  » «   খালেদার কারামুক্তি, এবারও ‘হ্যান্ডল’ করতে পারেনি বিএনপি!  » «   বালিশ মাসুদের খোলা চিঠি  » «  

যে কারণে তিন ভাইকে বিয়ে করলেন খাদিজা!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক::খাদিজা। জন্ম দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক আফিম উৎপাদক কৃষক পরিবারে। মাত্র ছয় বছর বয়সে ফুপাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয় খাদিজার। যে কি না খাদিজার থেকে ১৫ বছরের বড়। পাখতুন সমাজের নিয়মানুযায়ী-স্বামীর মৃত্যুর পর তার ঠিক পরের ভাইকে বিয়ে করতে হয় বিধবাকে। এই নীতি মেনেই আফগান এই কিশোরীকে পেরতে হয় পর পর তিনটি দাম্পত্য। বর্তমানে তার বয়স ১৮।

সংবাদমাধ্যম ‘দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ অনুযায়ী, জন্মের আগেই খাদিজার বাবা তার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলেন। সে অনুযায়ী ৬ বছর বয়সে খাদিজার বিয়ে হয় তার থেকে ১৫ বছরের বড় এক তালেবান সদস্য জিয়া উল হকের সঙ্গে। সেই সময় মারজা শহর ছিল তালিবানদের স্বর্গ। বিয়ের আগেই জিয়া তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেন। পরে মার্কিন সেনার হাতে নিহত হন।

জিয়া মারা যাওয়ার পর ১০ বছর বয়সে তার ছোট ভাই আমিনুল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় খাদিজার। আমিনুল্লাহ পেশায় পুলিশকর্মী ছিলেন। ২০১৪ সালে তালেবানদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমিনুল্লাহও মারা যায়। খাদিজার গর্ভে তখন কন্যা সন্তান। ১৪ বছর বয়সে তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়।

প্রয়াত স্বামীদের ছোট ভাই শামসুদ্দিন। পেশায় দোভাষী। চার মাস পর বিধবা খাদিজার পুনর্বিবাহ হয় আমিনুল্লাহর ছোট ভাই শামসুদ্দিনের সঙ্গে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামসুদ্দিন জানিয়েছে, সে খাদিজাকে বিয়ে করতে চায়নি। দেশাচারই তাকে বাধ্য করেছে বড় ভাইয়ের বিধবাকে বিয়ে করতে। সে চেয়েছিল, খাদিজা অন্য কাউকে বিয়ে করুক। কিন্তু তখন কিছুই করার ছিল না।

বিয়ের পর শামসুদ্দিন তার পরিবার নিয়ে হেলমন্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গড়ে চলে যায়। সেখানে সে প্রতিদিন ২৫ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে দোভাষীর কাজ করতে থাকে। কিন্তু একদিন সেই চাকরিও চলে যায়। পরে রিকশা চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে খাদিজা ও শামসুদ্দিনের সংসারে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তালেবানরা নিয়মিত ফোন করে সেই শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তার স্বামীও নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি শোনে। যুদ্ধ আর তালেবান শাসন তাদের সমস্ত স্বপ্নকে এক ফুঁয়ে নিবিয়ে দিয়েছে।

এই কাহিনি একা খাদিজার নয়। এটা আফগান গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ পরিবারেরই ছবি। খাদিজার হাত ধরে পুত্র-কন্যা নিয়ে বাঁচতে চায় শামসুদ্দিন। আর কোনো স্বপ্ন তার সামনে নেই।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: