বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের ‘বিরোধিতায়’ ১১ জেলায় বাস চালানো বন্ধ  » «   নগরীতে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পিয়াজ, ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন  » «   বলিভিয়ার অশান্তির নেপথ্যে ‘সাদা সোনা’, যা পরবর্তী বিশ্বের আকাঙ্ক্ষিত বস্তু  » «   আবরার হত্যা: পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি  » «   ‘অপকর্মে’ সংকুচিত দ. কোরিয়ার শ্রমবাজার  » «   ৩০০ টাকার পিয়াজ সরকারের দিনবদলের সনদ: ডাকসু ভিপি নুর  » «   অযোধ্যা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করছে মুসলিমরা  » «   ভাঙছে শরিক দল সঙ্কটে ঐক্যফ্রন্ট  » «   হলি আর্টিসান হামলা: রায় ২৭ নভেম্বর  » «   চাকা ফেটেছে নভোএয়ারের, ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেন ৩৩ যাত্রী  » «   হাত-পা ছাড়াই মুখে ভর করে লিখে পিইসি দিচ্ছে লিতুন  » «   প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া বিএনপির চিঠিতে আবরার হত্যার বর্ণনা  » «   ১৫০ যাত্রী নিয়ে মাঝ আকাশে বিপাকে ভারতীয় বিমান, রক্ষা করল পাকিস্তান  » «   বিমান ছাড়াও ট্রেন, ট্রাক, বাসে করে আসছে পেঁয়াজ: সিলেটে পরিকল্পনামন্ত্রী  » «   চুক্তির তথ্য জানতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল বিএনপি  » «  

যুক্তরাষ্ট্রে যাবার সময় নদীতে ডুবলো শরণার্থী বাবা-মেয়ে



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন অনলাইন ভার্সনের লিডেই রয়েছে ছবিটা, যা আপনার মনকে আদ্র করে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক নদীর জলে পড়ে থাকা বাবা আর শিশু কন্যার মৃত্যুদেহ দুটি যেন অমানবিকতার এক নির্মম দৃষ্টান্ত। তারা মারা গেছে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সময়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত সঙ্কট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষ্ঠুর অভিবাসন নীতির জলন্ত প্রমাণ এই ছবি। যেন দুটি মানব সন্তান নয়, নদীতে ভাসছে বিশ্ব মানবতা!

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী রিও গ্রান্ড নদীর জলে ওপুর হয়ে পড়ে থাকা মানুষটির বাড়ি ছিলো এস সালভাদরে, নাম অস্কার আলবার্টো মার্টিনেজ। এল সালভাদরের সরকারি কর্মকর্তারা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। রোববার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশের সময় মেয়েকে নিয়ে নদীতে পড়ে যান অস্কার। সোমবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নদীর জল থেকে তোলা হয়েছে বাবা আর মেয়ের মরদেহ। নিথর দেহদুটির ছবি তুলেছেন মেক্সিকোর সাংবাদিক জুলিয়া লি ডিউক। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট মেয়ের মুখটি তার বাবার জামার মধ্যে ঢুকে গেছে। যেন এটাই তার পরম নির্ভরতার জায়গা। তার ডান হাতটি বাবার গলা জড়িয়ে আছে।

এই ছবি আমাদের ২০১৫ সালে তোলা ৩ বছরের সিরীয় বালক আয়লান কুর্দির কথা মনে করিয়ে দেয়। যে শিশু যুদ্ধ বিগ্রহ এড়িয়ে নিরাপদ জীবনের খোঁজে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছিলো ইউরোপের কোনো দেশের উদ্দেশে। কিন্তু সাগরে নৌকাডুবে মারা যায় সে ও তার মা। তার স্তব্ধ দেহটি এভাবেই তুরস্কের সাগরতীরের বালিতে মুখ গুঁজে পড়েছিলো । সে সময় আয়লান কুর্দের এই ছবি গোটা বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছিলো। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে চলমান অভিবাসী সঙ্কটের কোনো সুরাহা যে হয়নি অস্কার ও তার মেয়ের মৃত্যুই তার প্রমাণ।

এদিকে বাবা ও মেয়ের এই মৃত্যুর ঘটনায় সালভাদরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্দ্রা হিল জনগণের প্রতি আর্জি জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন দেশেই থাকে, উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে না যায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে লোকজন আর আমেরিকার দিকে ছুটে না যায়।

তিনি অস্কার ও তার মেয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘ফের শোকে ভাসছে দেশ। আমি সমস্ত পরিবারগুলোর কাছে অনুরোধ করছি, প্রিয় বাবারা, আপনারা ঝুঁকি নিবেন না। জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’ মেক্সিকোতে থাকা সালভাদরের অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিল।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: