মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার নয়  » «   দেশের উন্নতির জন্য বিলাসীতা ত্যাগের ঘোষণা ইমরানের  » «   ঈদে ৮ দিন ২৪ ঘণ্টা সিএনজি ফিলিং স্টেশন খোলা  » «   আজ আরাফার দিন, কিছু আমল যা আপনিও করতে পারবেন  » «   সিলেটে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী তাপমাত্রা, সতর্ক থাকার পরামর্শ  » «   সুনামগঞ্জে বাস চাপায় কলেজ ছাত্রী নিহত,দুই শিশুসহ আহত ৪  » «   ইরানে অভ্যুত্থান ঘটানোর সকল মার্কিন চেষ্টা ব্যর্থ হবে: জারিফ  » «   নাইজেরিয়ায় বোমা হামলায় নিহত ১৯  » «   মেঘনা তেল ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২  » «   ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা  » «   ঘন্টায় ১৮০ কিমি বেগে টোকিওর দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘শানশান’  » «   মক্কায় ভারী বৃষ্টিপাতে বন্যার আশঙ্কা  » «   ক্যারিয়ার গড়তে রাজনীতিতে আসিনি: ইমরান খান  » «   সীমান্তে ভারী অস্ত্র-সেনা বাড়াচ্ছে মিয়ানমার, সতর্ক বিজিবি  » «   সন্তান জন্ম দিতে সাইকেল চালিয়ে হাসপাতালে গেলেন মন্ত্রী  » «  

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুরআসন ধরে রাখতে মরিয়া আ.লীগ, পুনঃরুদ্ধার চায় বিএনপি



ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর সংসদীয় আসনে ভোটের উত্তাপ লেগেছে বহু আগে থেকেই। বছর খানেক আগে থেকেই আগাম গণসংযোগে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। আর এ কারণেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাড়ছে মূল্যায়ন। এ আসনটিতে শাসক আওয়ামী লীগের প্রায় এক ডজন প্রার্থী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গৌরীপুরে এখন একটাই আলোচনা কে পাচ্ছে নৌকা।

অন্যদিকে বিএনপিতেও রয়েছে একাধিক প্রার্থী। একাধিকবার জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন যেই পাবেন আসনটি ধরে রাখতে এক রকম মরিয়া তারা। অন্যদিকে আসনটি পুন:রুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।

গৌরীপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন ১৪৮, ময়মনসিংহ-৩ আসন। গৌরীপুর সংসদীয় আসনটিতে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালে বিএনপি এবং ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে টানা ৩ বার জয় পায় আওয়ামী লীগের ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির। ২০০৮ সালে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মজিবুর রহমান ফকির ২০১৬ সালের ৩ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে এ আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি সংক্ষক প্রার্থী এ আসনে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় রয়েছেন বর্তমান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ডক্টর সামীউল আলম লিটন, ময়মনসিংহ জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভিপি বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলম, গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্পাদকমন্ডলীর সাবেক সদস্য মোর্শেদুজ্জামান সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু কাউসার চৌধুরী রন্টি, উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মতিউর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আব্দুর রফিক।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান এমপি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। গৌরীপুর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এ আসনটি ধরে রাখতে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে পাশাপাশি উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছি। প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় কার্যক্রমকে বেগবান করে যাচ্ছি। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতেই এসব কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান এমপি হিসাবে দলীয় মনোনয়ন আমিই পাবো বলে বিশ্বাস করি। মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক তারুণদীপ্ত ডক্টর সামীউল লিটন এ আসনে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে ছুটে চলেছেন গৌরীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায়। গৌরীপুরে তার একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ প্রার্থী। বিভিন্ন দিবসগুলোতে ব্যতিক্রমী আয়োজনে সবার নজর কেড়েছেন কর্মীবান্ধব এ নেতা। বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক হয়ে এ শাখা-প্রশাখা বিস্তৃতির মাধ্যমে জনমত তৈরিতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, গৌরীপুরের মানুষের কাছে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র তুলে ধরছি। নৌকার বিজয়ের ধারা অক্ষুন্ন রাখতে তৃণমুলে সাধারন মানুষকে সংগঠিত করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ এবং জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করে চলেছি। দীর্ঘদিন থেকে আমি মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি, গৌরীপুরের মানুষ আমাকে চায়। আশাকরি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। মনোনয়ন পেলে অনেক বেশি ভোটের জয় পাবো বলে মনে করি।

সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি গণসংযোগে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছেন জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভিপি বাবুল।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন মাঠের কর্মী হিসাবে নৌকাকে বিজয়ী করতে দীর্ঘদিন থেকেই তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে যাচ্ছি। জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে গৌরীপুরের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডে এমনকি প্রত্যেকটি গ্রামে কমিটি গঠন করেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে বিদেশে সাফল্যের চিত্র গৌরীপুরের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার লক্ষে লিফলেট ফেষ্টুন করে এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করাসহ গানে গানে এর প্রচারনা চালিয়েছি। বঙ্গবন্ধু আত্ম জীবনী বইটি গৌরীপুরের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছে দিয়েছি। আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

গৌরীপুরে দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজ জন্মভূমি লামাপাড়া ঈদগাহ মাঠে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন জনপ্রিয় দুইবার নির্বাচিত পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। নিজস্ব কর্মী বাহিনী নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন গৌরীপুরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এবার আশাবাদী কর্মীবান্ধব জনপ্রিয় এ জনপ্রতিনিধি। দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনটিতে নৌকার বিজয়ের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকবে বলে তার বিশ্বাস।

দীর্ঘদিন থেকেই মাঠে কাজ করছেন আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছাত্রনেতা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু। ছাত্রসমাজের নয়ন মনি ছাত্র জীবন থেকেই গৌরীপুরের মানুষের কাছেও জনপ্রিয়। দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গৌরীপুরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ছাত্র জীবন থেকেই আমি গৌরীপুরের মানুষের সাথে রয়েছি। আমার ধ্যান জ্ঞান সব কিছুই এই গৌরীপুরের মানুষ। আমি সারা জীবন গৌরীপুরবাসীর সেবা করতে চাই বলে জানান আওয়ামী লীগের দু:সময়ে জেলা ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেয়া সাবেক এই ছাত্রনেতা।

তিনি বলেন, আমি সময়ের পরিক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে নৌকার বিজয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস দল থেকে এবার আমাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। দলীয় মনোনয়ন পেলে গৌরীপুরের মানুষ আমাকে রেকর্ড ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।

ব্যতিক্রমী গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে গৌরীপুরবাসীর সামনে অন্য রকম ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মোর্শেদুজ্জামান সেলিম।

সেলিম জানান, সরকারের ধারাবাকিতা রক্ষায় গৌরীপুরে নৌকাকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকমীদের সাথে নিয়ে মাঠে কাজ করছি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র গ্রামে গঞ্জে মানুষের কাছে তুলে ধরছি।

তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য মানুষের সেবা এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা। ২০০৪ সাল থেকেই আমি মাঠে কাজ করছি। ইতিমধ্যে আমি গৌরীপুরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। আর এ কারণেই আমি আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। দলীয় মনোনয়ন পেলে জয় সুনিশ্চিত।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত সাংসদ ক্যাপ্টেন মুজিবের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্র্থী হয়ে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলম। ২০১৬ সালের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আশ্বাসে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে তিনি এখন আলোচনা কেন্দ্র বিন্দুতে।

নাজনীন আলম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গৌরীপুরের মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। গৌরীপুরে আমি সব কটি ইউনিয়নে প্রতিটি মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরেছি। গৌরীপুরের সাধারন মানুষ আমাকে চায়। দলের হাইকমান্ডও আমাকে গ্রিন সিগনাল দিয়েছে। আশা করছি এবার দলীয় মনোনয়ন আমিই পাবো। মনোনয়ন পেলে গোপালগঞ্জের মত ভোটের ব্যবধানে গৌরীপুরবাসী বিজয় উপহার দিবে।

চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে প্রচারণার মাঠে নেমেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মতিউর রহমান। তিনি জানান, মানুষের জন্য কাজ করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি জানান, ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের জয়ের ধারা অব্যহত রাখতে সক্ষম হবেন।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগি নেতা ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদও এবার মাট-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তিনিও ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

দলীয় অনুকম্পা পেতে দীর্ঘদিন থেকে মাঠে সক্রিয় আছেন সাবেক ছাত্রনেতা এবং যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু কাওসার চৌধুরী রন্টি।
তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে আমার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। গৌরীপুরের মানুষ নতুন এবং তরুণ নেতৃত্ব চায়। দীর্ঘদিন থেকেই আমি তরুণমূলকে সংগঠিত করে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। গত উপ-নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন চেয়েছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে তরুণদের সাথে নিয়ে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবো।

বিএনপির ধানের শীষ পেতে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, ময়মনসিংহ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল হক, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, উপজেলা বিএনপির য্গ্মু আহ্বায়ক হাফেজ আজিজুল হক, ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডাঃ আব্দুস সেলিম, জাতীয় পাটির পার্টির প্রার্থী হিসাবে বিশিষ্ট সাংবাদিক মোরররফ হোসেন মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেতে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবু তাহের খান।

তবে বিএনপিতে এ আসন থেকে ২০০৮ সালে মনোনয়ন পান তৎকালীন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বর্তমানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসাইন। তিনি তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সেই সময় থেকেই মাঠে রয়েছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, গৌরীপুরের বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাকে নিয়ে দলে কোন কোন্দল নাই। আর যদিও আমরা প্রচারনায় আওয়ামী লীগের মত সমান সুযোগ পাচ্ছি না, তবুও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে এটি কোন বাধা হবে না।

তিনি আরো বলেন, গৌরীপুরের মানুষ ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। সুষ্ঠু ভোট হলে অবশ্যই ধানের শীষ বিজয়ী হবে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শত ভাগ নিশ্চিত।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি জানান, গৌরীপুরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই তবুও আমি মাঠে রয়েছি। তবে দলীয় কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলে কোন কোন্দল নাই। যেটা আছে সেটা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে নেতাকর্মীরা বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে একই ভাবে গৌরীপুরের মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবে। বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

মনোনয়নের জন্য মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল হক। তিনি আইনজীবি সমিতিতে দুইবার নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক।

তিনি জানান, নেত্রীর নির্দেশে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের সাথে দুঃসময়ে পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। শত বাধা উপেক্ষা করে দলীয় কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছি। মামলায় জর্জরিত দলীয় নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে। মনোনয়ন পেলে হারানো এ আসনটি পুরুদ্ধার করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

১০ম জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে উপজেলা বিএনপির একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ আজিজুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেন। এবার তিনিও মনোনয়নের জন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। তিনি এলাকায় জনসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। দলীয় এবং মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেতে এলাকায় সাধারন মানুষের সাথে সর্ম্পক রেখে চলেছেন জাতীয় পার্টি প্রধান এরশাদ এবং রওশন এরশাদের গুডবুকে থাকা এ নেতা।

তিনি জানান, আজীবন তিনি গৌরীপুরের মানুষের সেবা করতে চান। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর এদেশের বেশির ভাগ অর্জন পল্লী বন্ধু এরশাদের আমলেই হয়েছে। মানুষ জাতীয় পার্টিকে আবারো সরকারে দেখতে চায়।

এদিকে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা আবু তাহের খান দীর্ঘদিন থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জনসংযোগের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিনি এ আসনটি চাইবেন। দলীয় হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত রয়েছে। জোটের মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: