শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামছে সেনাবাহিনী, থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেটও  » «   ইন্টারনেটে ধীর গতি ও মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  » «   প্রার্থিতা নিয়ে শুনানি: আদালতের প্রতি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনাস্থা  » «   আওয়ামী লীগ ১৬৮ থেকে ২২০ আসনে জিতবে: জয়  » «   সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার মনোনয়ন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট  » «   আম্বানি কন্যার বিয়েতে নাচলেন হিলারি ক্লিনটন [ভিডিও ]  » «   সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রচারণার একসঙ্গে মুক্তাদির-আরিফ  » «   সহিংসতার ঘটনা খতিয়ে দেখতে সিইসির নির্দেশ  » «   ‘ইডিয়ট’ লিখে গুগলে সার্চ দিলে কেনো আসে ট্রাম্পের ছবি?  » «   বিশ্ব ভ্রমণ করবে বাংলাদেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত গাড়ি  » «   খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব ছাড়পত্র পাবে না: নিক্কি হ্যালি  » «   গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজ খালেদা ও হিরো আলম  » «   আস্থা ভোট, নেতৃত্বের পরীক্ষায় উতরে গেলেন তেরেসা মে  » «   ফোনালাপ ফাঁস: খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ  » «   নির্বাচনে এজেন্ট পাওয়া নিয়ে চিন্তায় বিএনপি  » «  

মৃত নারীর ডিম্বাশয় থেকে জন্ম নিল সুস্থ সন্তান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: এক মৃত নারীর শরীর থেকে গর্ভাশয় নিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এক ব্রাজিলীয়ান নারীর শরীরে।প্রতিস্থাপিত ওই গর্ভাশয়ের ভ্রূণকে লালন করে সেই নারী জন্ম দিলেন এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের।তিনিই হলেন বিশ্বের প্রথম যিনি মৃতর গর্ভাশয় নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করিয়ে, তা থেকে সন্তান জন্ম দিলেন। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে এই প্রতিস্থাপনের বিস্তারিত খবর সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ সাও পাওলোর গবেষকদলের প্রধান দানি এজেনবার্গ জানিয়েছেন, ‘অঙ্গ দাতা মৃত ব্যক্তি হলে গোটা প্রক্রিয়ার ঝুঁকি অনেকটা কম হয়। পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার খরচ অনেকটা কমে যায়। কারণ, দাতা মৃত হওয়ায়, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা, তার দীর্ঘ অপারেশন করার ঝক্কি থাকে না। জীবিত দাতার ক্ষেত্রে কাজটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।’

চিকিত্সকরা জানান, ৩৫ সপ্তাহ তিন দিন গর্ভধারণের পর সিজারের মাধ্যমে ওই কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া হয়েছে।জন্মের সময় বাচ্চাটির ওজন ছিল ২ কিলো ৫৫০ গ্রাম।কী ভাবে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ ল্যানসেট জার্নালে লেখা হয়েছে। মস্তিষ্কের রক্তবাহ ফেটে মৃত্যু হয়েছিল ৪৫ বছর বয়সী এক মহিলার। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টার অপারেশনের মধ্যে দিয়ে ওই মহিলার দেহ থেকে গর্ভাশয় বের করা হয়েছিল।

তার গর্ভাশয়ের ওজন ছিল ২২৫ গ্রাম। দাতা ওই মহিলা ইতিপূর্বেই তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। যে ব্রাজিলীয় মহিলার দেহে ওই গর্ভাশয়টি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল তার বয়স ছিল ৩২ বছর। জন্ম থেকেই তার দেহে গর্ভাশয় ছিল না। দেহের এই খামতিকে চিকিত্সার ভাষায় বলা হয় ‘মেয়ার রকিটান্সকি কাস্টার হাউজার সিনড্রোম’।

গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের প্রায় পাঁচ মাস পর গ্রহীতা মহিলার শরীরে অঙ্গ প্রত্যাখ্যান জনিত কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। আলট্রা সাউন্ড স্ক্যানের রিপোর্টও ছিল স্বাভাবিক। এমনকি তার নিয়মিত ঋতুস্রাবও হচ্ছিল। এই লক্ষণগুলি দেখে চিকিত্সকরা কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন।

তবে ওই ব্রাজিলীয় মহিলার গর্ভাশয় না থাকলেও ডিম্বাশয় ছিল। তাই তার ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু সংগ্রহ করে ‘আইভিএফ’ বা ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয়ে রোপন করা হয়েছিল ভ্রূণ। গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের সাত মাস দশ দিন পর এই ভ্রূণ রোপনের কাজটি হয়েছিল।

এর আগে মৃত মহিলার গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আমেরিকা,চেক প্রজাতন্ত্র ও তুরস্কের চিকিত্সক-গবেষকরা।কিন্তু তারা সে কাজে সাফল্য পাননি। অবশেষে ব্রাজিলের সাও পাওলোর চিকিত্সকদের হাতে ধরা দিল সাফল্য।

এর আগে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয় থেকে সন্তানের জন্ম হয়নি, তা নয়। কিন্তু সেই প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয়ের দাতারা ছিলেন জীবিত। জীবিত মহিলার গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছিল সুইডেনে, ২০১৩ সালে।

তখন থেকে মোট ৩৯ বার এই পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের চিকিত্সক-বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সাফল্য পেয়েছেন মাত্র ১১ বার। সেদিক থেকে দেখলে, মৃত মহিলার গর্ভাশয় থেকে সন্তানের জন্ম দেওয়া আধুনিক চিকিত্সা বিদ্যার এক অভূতপূর্ব সাফল্য।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: