বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ জুলাই খালেদার মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ  » «   মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বর্ষণ নেই  » «   সিলেটে দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু  » «   হরিণাকুণ্ডুতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত  » «   পুলিশের সোর্স মামুন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও  » «   ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি, সালিসে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি!  » «   আইনমন্ত্রীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী  » «   ‘এদেরকে নিয়েই মান্না সাহেব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন’  » «   রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে বাংলাদেশী যুবক  » «   বিদেশ ও জেল থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা  » «   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত রবার্ট মিলার  » «   বেবী নাজনীন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি  » «   কোটা আন্দোলন: ছাত্রলীগের হুমকিতে ক্যাম্পাস ছাড়া চবি শিক্ষক  » «   ভেবেই ক্লাব বদল করেছেন রোনালদো  » «   ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি  » «  

মিয়ানমারে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্ভাবনার হাতছানি



মিয়ানমারে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্ভাবনার হাতছানি

মিয়ানমার এদেশীয় পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে অপার সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে দু’দেশের সীমান্ত বাণিজ্য উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভার পর এ সম্ভাবনা জেগেছে।

সভায় উভয় দেশের চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসায়ীরা দু’দেশীয় পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তাই এ সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল।

এ বৈঠকে প্রতি মাসে টেকনাফের সুবিধাজনক স্থান ও মিয়ানমারের মংডু শহরের সীমান্তে বাজার বসানো, সীমান্ত বন্দর সম্প্রসারণ, ব্যবসার উন্নয়ন বিষয়ের পাশাপাশি পর্যটনসহ নির্দিষ্ট ৮ দফা নিয়ে আলোচনা হয়।

এসব আলোচনা মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের সরকারকে এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছেন। আগামী নভেম্বর মাসে মিয়ানমারে এ বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে বলেও দু দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কথা হয়।

মিয়নমারের প্রতিনিধিরা বলেন, রাখাইন প্রদেশে এখনো লবণ, চাল এবং মৎস্য স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও প্রচুর উদৃত থাকে। বাংলাদেশি আমদানিকারকগণ ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা আমদানি করতে পারবেন।

এদিকে, বাংলাদেশের উৎপাদিত এমএস রড়, বার ও সিমেন্টের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো হওয়ার পরেও চায়না থাইল্যান্ড থেকে স্বল্পমূল্যের নির্মাণ সামাগ্রী রাখাইন প্রদেশের লোকজন ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যথাযত বিপণনের মাধ্যমে রাখাইন প্রদেশে পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে পারেন।

চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী এম এন করিম বলেন, বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমার ব্যবসার বড় ক্ষেত্র হতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সে দেশের কৃষি, সিমেন্ট, বিদুৎ, লবণ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা।

তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে সরকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ গাইডলাইন দিতে পারে। একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মিয়ানমারে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে পারে সরকার। এক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে মিয়ানমারে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। সরকারের পাশাপাশি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা মিয়ানমার সফরে গিয়ে সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসায়ী চুক্তি সম্পাদন করতে পারেন।

বাংলাদেশের চেয়ে আয়তনে সাড়ে চার গুণ হলেও মিয়ানমারের লোকসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৫ কোটি। তুলা, পাট, ধান, গম, ভুট্টা, আখ, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, রাবারসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন হয় মিয়ানমারে। রাখাইন প্রদেশের গ্যাস ও জলবিদুৎ বাংলাদেশের জ্বালানি ঘাটতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মিয়ানমারের রয়েছে কয়লা, টিন, সিসা, লাইমস্টোন, মুক্তাসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকার বিপুল পরিমাণ পতিত জমিতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রেখেছে। একক চুক্তিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার একর কৃষি জমি লিজ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন করে বাংলাদেশে পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে মাছ ও চাল আমদানি ছাড়া তেমন কোনো বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারেনি। মিয়ানমার যেসব পণ্য আমদানি করে তার তালিকায় রয়েছে ওষুধ, সিমেন্ট, বিভিন্ন কেমিক্যাল, ইস্পাতসামগ্রী, হালকা ও ভারী মেশিনারিজ, ইলেকট্রিক সামগ্রী, কাগজ, তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক ও ভোজ্যতেল।

কক্সবাজার চেম্বার অফ কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু র্মোশেদ চৌধুরী খোকা জানান, এই সফর বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কুটনৈতিক সফলতার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সু-সর্ম্পক সৃষ্টির মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ঘটানোর ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যাবসায়ী মহলকেও এগিয়ে আসতে হবে। অন্যতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রামসহ দেশের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান। এজন্য সড়ক, আকাশ ও নৌপথে যোগাযোগ অপরিহার্য। টেকনাফ-ইয়াংগুন-কুনমিং ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে এশিয়ান হাইওয়ের যোগাযোগ চালু করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে। মিয়ানমারের কাছে এখন আমেরিকা, চীন, ভারতসহ বিশ্বের বড় বড় দেশ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছে।

চেম্বার নেতারা আরো বলেন, ইয়াংগুনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়েছে, চেম্বারের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহী। তবে তাদের প্রথম পছন্দ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও চীন। তাদের আগ্রহী করতে হলে কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। এজন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: