মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘সে যে এত বড় প্রতারক, তা আমার জানা ছিল না’  » «   ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি, ফেসবুকে তোলপাড়!  » «   বিশ্বকাপ সরাসরি দেখাবে যেসব টিভি চ্যানেল  » «   নিজের ঘরের মাদক ব্যবসায়ীদের ধরুন  » «   সেলিমা রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি  » «   একাদশ সংসদ নির্বাচন : বিএনপিকে নিয়ে দুই কৌশল আ’লীগের  » «   সিলেট পাসপোর্ট অফিসে রোহিঙ্গা নারী আটক  » «   মন্ত্রী-সচিবরা পাবেন ৭৫ হাজার টাকার মোবাইল  » «   রাজধানীতে নিরাপত্তা কর্মীকে খুন করে টাকা লুট  » «   চুয়াডাঙ্গার মাদক সম্রাট ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত  » «   বাসের চাপায় হাত হারিয়ে নিহত : রাজীবের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ মঙ্গলবার  » «   নয়াপল্টনে রিজভী‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুলনার ভোটারদের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা’  » «   অবশেষে খোঁজ পাওয়া গেল সৌদি যুবরাজের!  » «   সাদা চাদরে ‘সতীত্বের পরীক্ষা’ দিতে হলো না ঐশ্বর্যকে  » «   অপুর ঘরে কোন ধর্মে বেড়ে উঠছে আব্রাম?  » «  

মিশন-১০ এর অবৈধ ব্যবসা প্রচারণায় ডবলমুরিং থানার এসআই সাইদুর !



মিশন টেন এর ব্যবসার প্রচারণায় এস আই সাইদুর।

জালালউদ্দিন সাগর :: নগরীর দেওয়ানহাট এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত এমএলএম কোম্পানী (মিশন টেন) ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করার মামলার তদন্তকর্মকর্তা ডবলমুরিং থানার উপ পরিদর্শক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই কোম্পানীকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছে।

ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া খালিদ হোসেনের আত্মীয়স্বজন ও মিশনটেন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থরা এই অভিযোগ করেন।

তাঁদের অভিযোগ, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মিশনটেন কর্মকর্তা ও পরিচালকদের রোষাণলে পড়ে মিথ্যা মামলায় খালিদ হোসেনকে ফাঁসানো হয়েছে।

ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, সরকার মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম ) কোম্পানী নিষিদ্ধ করলেও ই-কমার্সের ব্যানারে মিশনটেন অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানান প্রলোভণে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও প্রশাসন ম্যানেজ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

`ই-কমার্সে’ পণ্য বিক্রির অনুমোদন থাকলেও মিশনটেন অবৈধভাবে কোম্পানীর শেয়ার বিক্রির কথা বলে ৬২০জন (ছয়শত বিশ) লোকের কাছ থেকে (প্রতিজন ২০,০০০টাকা) ছয় কোটি বেশি সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করে।

গ্রেফতার হওয়া খালিদ হোসেনের জনৈক আত্মীয় ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ) অভিযোগ করে বলেন, মিশন১০ ভাংচুর করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া খালেদ হোসেন মূলত পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ভাংচুরের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গেছেন ।

তিনি আরও বলেন, খালিদ এক সময় মিশন১০ এ ডিসট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতো। সে এবং তার পরিচিত বেশ কয়েকজন মিশন১০ থেকে বিশ হাজার টাকা করে বেশ কিছু শেয়ার কিনলেও কাগজপত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে শেয়ার না দেওয়ায় তারা পাওনা টাকা চাইতে গেলে কোম্পানীর রোষাণলে পড়েন ।

এদিকে সরকারকৃত নিষিদ্ধঘোষিত এমএলএম কোম্পানী মিশন১০ এর প্রচরণায় অংশগ্রহন করার অভিযোগ উঠেছে ভাংচুর মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে । গত বছরের ২৫ নভেম্বর মিশন১০ এর একটি ব্রান্ডিং সেমিনারে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় এই কর্মকর্তাকে অংশ নিতে দেখা যায়। ( প্রচারণায় অংশ নেয়ার একটি ছবি এই প্রতিবেদকের কাছে সংগৃহিত আছে )

সূত্র জানায়, এসআই সাইদুর রহমান মিশন১০ এর কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে মিথ্যা মামলাকে সত্য করার পায়তারা শুধুই করছেন না এই অবৈধ কোম্পানীকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণায় অংশ গ্রহন করছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য এসআই সাইদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি সিটিজিনিউজকে বলেন, আমি মামলা তদন্তের প্রয়োজনে মিশনটেন এর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম-ওদের কোনো সেমিনারে আমি কথা বলার প্রশ্নই উঠেনা।

এই প্রতিবেদকের কাছে ‘সেমিনারে অংশ গ্রহণ ও মাইকে বক্তৃতা দেয়ার ছবি সংগৃহিত আছে-এ বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, মামলার প্রয়োজনে ওই অফিসে গেলে ওরা জোর করে আমার হাতে মাইক তুলে দেয়।

মিশন১০ এর সেমিনারে অংশগ্রহনকরা একটি সুত্র জানায়, স্বতস্ফুর্তভাবে নিজ ইচ্ছায় সেমিনারে অংশগ্রহন করেন এসআই সাইদুর রহমান । এই কোম্পানীর ব্যবসায়ীক কর্মকা উনি জড়িত আছেন জানিয়ে বক্তৃতা দেন তিনি । সুত্র আরও জানায়, সেমিনারে উপস্থিত সবাইকে মিশন১০ এর কর্মকাণ্ডে সাথে যুক্ত হওয়ার আহবানও জানান তিনি ।

সিএমপি’র বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা যায়, সিনিয়র কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া পোশাক পরিহিত অবস্থায় এই ধরণের কোনো কর্মকা-ে অংশ গ্রহনের কোনো সুযোগ পুলিশের কোনো কর্মকর্তার নেই ।

ওই কোম্পানী ভাংচুরের ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হওয়ার পরেও একই কোম্পানীর ব্যবসায়ীক সেমিনারে এসআই সাইদুর রহমানের উপস্থিতির বিষয়টি ন্যায় বিচারের অন্তরায় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আত্মীয় স্বজন ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নগরীর দেওয়ানহাট ন্যাশনাল ব্যাংকের চতুর্থ তলার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান মিশন১০ ভাংচুরের ঘটনায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল কবির শিমুলসহ ১৫ জন আহত হয়।

জটিলতা না থাকার কারণে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক।

ঘটনায় খালিদ হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ডাবলমুরিং থানা পুলিশ। পরে তাকে ভাংচুর ও অর্থ লুটের ঘটনা মামলায় আদালত

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: