বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে মুসলিমদের ওপর গাড়ি হামলা, আহত ৩  » «   সরকারি চাকরিজীবীদের ৫% সুদে গৃহঋণের আবেদন অক্টোবরে  » «   ভারতে তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা  » «   স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন শিক্ষক  » «   বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, আর ইয়েমেনে সেই বোমা ফেলছে সৌদি  » «   রাখঢাক রাখছেন না পর্নো তারকা ডানিয়েল স্টর্মি  » «   কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলেন ইমরান  » «   মিয়ানমারে নিলামে উঠছে সুচির ভাস্কর্য  » «   এক দিনেই মিলবে পাসপোর্ট  » «   ওসমানী বিমানবন্দরে বিমানে তল্লাশি : ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার, চোরাচালানী আটক  » «   কেউ বলতে পারবে না, কারো গলা টিপে ধরেছি: প্রধানমন্ত্রী  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন ৪২ নারী গৃহকর্মী  » «   সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৫২ লাখ শিশু  » «   ‘২৩ হাজার পোস্টমর্টেম বনাম মানসিক সঙ্কট’  » «  

মা–বাবার খোঁজে ডেনমার্ক থেকে পাবনায়



নিউজ ডেস্ক:: মিন্টো কারস্টেন সনিক (৪৭) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেনমার্কের নাগরিক।সাত বছর বয়সে তিনি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট থেকে হারিয়ে যান। এরপর ঠাঁই মেলে ঢাকার একটি শিশু আশ্রমে। সেখান থেকে ডেনিশ এক দম্পতি তাঁকে দত্তক নিয়ে ডেনমার্কে যান। সেখানেই বেড়ে ওঠেন মিন্টো।

কিন্তু জন্মভূমি ও আসল মা–বাবার প্রতি অন্য রকম টান অনুভব করেন মিন্টো। সেই টানে স্ত্রী অ্যানিটি হোলমিভেনকে (৪০) নিয়ে পাবনায় এসেছেন তিনি। মা–বাবাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন পাবনার পথে পথে। ছোটবেলার ছবি দিয়ে ছাপানো লিফলেট বিতরণ করে খোঁজ করছেন পরিবারের।

এই দম্পতি আজ বুধবার দুপুরে আসেন পাবনা প্রেসক্লাবে। হারিয়ে যাওয়া মা–বাবার সন্ধান পেতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন মিন্টো। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে তাঁর বয়স ছিল ৭ বছর। যতদূর মনে পড়ে পানির ওপর নির্মিত একটি টিনের ঘরে থাকতেন। তাঁদের ঘরের ওপর দিয়ে হেলিকপ্টার গিয়ে নামত পাশের মাঠে। ওই হেলিকপ্টার দেখতে গিয়ে অথবা অন্য কোনো কারণে তিনি হারিয়ে যান। ঘুরতে থাকেন নগরবাড়ি ঘাটে।

সেখান থেকে কামরুল হোসেন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে পৌঁছে দেন ঢাকার ঠাঁটারি বাজারের এক শিশু আশ্রমে।১৯৭৮ সালে ওলে কারস্টেন ও বেনফি নামের এক ডেনিশ দম্পতি তাঁকে দত্তক নিয়ে ডেনমার্কে চলে যান।এরপর থেকেই সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। বিয়ে করেন চিকিৎসক অ্যানিটিকে। আর মিন্টো পেশায় একজন চিত্রশিল্পী। তাঁদের সংসারে ২৩ বছরের মেয়ে ও ১৮ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে তিনি নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকে ভুলতে পারেননি।তাই তাঁদের সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছেন।

মিন্টো বলেন, ‘ডেনমার্কে পালক মা–বাবা ও নিজের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খুব সুখেই আছি।কিন্তু মনের অজান্তেই অন্তর এখনো কেঁদে ওঠে জন্মদাতা বাবা-মা ও স্বজনদের জন্য। মনে হয় তাঁদের পেলেই জীবনটা পূর্ণ হবে।’

মিন্টোর বাংলাদেশি বন্ধু স্বাধীন বিশ্বাস বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মিন্টোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। সেভাবে বাংলা ভাষাও জানেন না মিন্টো। তাই বাংলায় স্পষ্ট করে কিছুই বলতেও পারছেন না। তবে দেশে এসে খোঁজ-খবর নিয়ে কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করেছেন। সে সূত্র ধরেই বাবা-মা ও স্বজনদের খুঁজতে রাস্তায় নেমেছেন তিনি।

মিন্টোর স্ত্রী অ্যানিটি হোলমিহেভ বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে চাই, মিন্টো যেন তাঁর মা–বাবাকে খুঁজে পান।’এ বিষয়ে পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তিনি (মিন্টো) পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আমরা তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রাখছি। তাঁদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: