রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

মাহবুবকে দিনের পর দিন নির্যাতন করতো অপহরণকারীরা



mahbub20161204135121নির্যাতনের উপর নির্যাতন। কখনো সিগারেটের ছ্যাঁকা, কখনো ঘাড়ে-মুখে-পিঠে আঘাত। কিল-ঘুষি তো আছেই। তিন দিন, তিন রাত অভুক্ত রাখা হয় মালয়েশিয়াপ্রবাসী মাহবুবকে। এরপর অপহরণকারীরা মাহবুবকে দিয়ে তার গ্রামের বাড়ি ভোলায় ভাইয়ের কাছ ১০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণে ফেলার হুমকি দেয়া হয়।

মালয়েশিয়ান দূতাবাস, বায়রা এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মালয়েশিয়া থেকে গুরুতর অবস্থায় মাহবুবকে উদ্ধার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রোববার দুপুরে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং কার্যালয়ে কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা তুলে ধরেন অপহরণের শিকার মাহবুব।

মাহবুব জানান, মালয়েশিয়ার পাহাং জেলার কুয়ান তা হাসপাতালে ক্লিনারের কাজ করতেন তিনি। ২০০৭ সালে তিনি প্রথম মালয়েশিয়ায় যান। এরপর দুইবার বাংলোদেশে এলেও সর্বশেষ ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। গত ২৬ নভেম্বর তার মালয়েশিয়ার বাসায় পুলিশ পরিচয়ে দুই মালয়েশিয়ান প্রবেশ করে। এরপর থানায় যেতে হবে বলে বাইরে এনে গাড়ি উঠান। গাড়িতে ওঠার পর দেখেন তার মতো আরো চার বাংলাদেশি।

মাহবুব বলেন, বাসা থেকে গাড়িতে ওঠার পর বুঝতে পারি অপহরণের ফাঁদে পড়েছি। কিন্তু ততোক্ষণে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর পাহাং জেলার কুনতাং পুলিশ স্টেশনের গহীন জঙ্গলে আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে আরো ১১ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে নিয়ে আসে অপহরণকারীরা।

এরপর শুরু হয় নির্যাতন। তিন দিন তিন রাত অনাহারে রাখা হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। কখনো সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়া হয়। মুখে-পিঠে-ঘাড়ে আঘাত করা হয়। এভাবেই চলে নির্যাতন। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় ১২ লাখ টাকা। তবে কয়েক দফায় দর কষাকষির মাধ্যমে তিন লাখে নেমে আসে।

 

মুক্তিপণের টাকার জন্য মাহবুবকে মারধরের আওয়াজ মোবাইলে শোনানো হয় বাংলাদেশের ভোলার চরআইচা গ্রামের বড়ভাই নাজুমল হক সবুজকে।

মাহবুব জানান, রাতারাতি টাকা ম্যানেজ করা সম্ভব না হওয়ায় বড় ভাই টাকা দিতে পারেননি। এ কারণে সারারাত ধরে চলে নির্যাতন। পরের দিনও টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন চলতেই থাকে।

মাহবুব আরো বলেন, অপহরণকারীরা সবাই বাংলাদেশি। তারা মালয়েশিয়ান দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে আমাকেসহ আরো ১১ জনকে অপহরণ করে। বাংলাদেশি হয়ে বাংলাদেশিকে অপহরণ করে ভাবতেই পারিনি।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্য রিফাত, দুলাল ও রুপচাঁদকে গ্রেফতার করেছি। তাদের মাধ্যমে পুরো অপহরণকারী চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুত সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, যারা এই অপহরণকারী চক্রের সদস্য তারা মূলত ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের জন্য মালয়েশিয়ায় যায়। এরপর অপহরণ করে আটকে রেখে দেশে থাকা চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: