সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
৩০০ আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির  » «   পাকিস্তানি স্নাইপারের গুলিতে ৩ ভারতীয় সেনা নিহত  » «   সংসদ নির্বাচনে মাশরাফি : কী বলছে ক্রিকেটীয় আইন?  » «   তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনঃতফসিল: ৩০ ডিসেম্বর ভোট  » «   আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর  » «   রামমন্দির নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান মুসলিমরা: আব্বাস নাকভি  » «   জ্বলছে ক্যালিফোর্নিয়া! আতঙ্কে বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড তারকারা  » «   বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, খালেদার জন্য ৩ আসনের ফরম  » «   গাজায় ইসরাইলি সেনাদের কমান্ডো হামলায় ৭ ফিলিস্তিনি নিহত  » «   খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজ দেখা করবেন বিএনপি নেতারা  » «   বিএনপির কাছে যেসব আসন দাবি করেছে শরিকরা  » «   নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে- প্রধানমন্ত্রী  » «   রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ট্রানজিট ক্যাম্প প্রস্তুত  » «   সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন কিনলেন কামরান  » «  

মাসুদা ভাট্টি ভীষণ রকম চরিত্রহীন: তসলিমা নাসরিন



নিউজ ডেস্ক:: মাসুদা ভাট্টি ভীষণ রকম চরিত্রহীন বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।নিম্নে তসলিমা নাসরিনের লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

কে মইনুল হোসেন, কী করেন, কী তাঁর চরিত্র, কী তাঁর আদর্শ আমি জানি না, তবে জানি মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা। চরিত্রহীন বলতে আমি কোনওদিন এর ওর সঙ্গে শুয়ে বেড়ানো বুঝি না। চরিত্রহীন বলতে বুঝি, অতি অসৎ, অতি লোভী, অতি কৃতঘ্ন, অতি নিষ্ঠুর, অতি স্বার্থান্ধ,অতি ছোট লোক। মাসুদা ভাট্টি এসবের সবই।

মহিলাটির জন্য ১৯৯৬ বা ১৯৯৭ সালে আমার কাছে খুব করে আব্দার করেছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। লন্ডন থেকে স্টকহোমে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশের মেয়ে। এক পাকিস্তানি লোককে বিয়ে করে এখানে ছিল। পাকিস্তানির সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। এখন ব্রিটেন থেকে ওকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন তুমিই একমাত্র বাঁচাতে পারো ওকে। ওর জন্য ব্রিটিশ সরকারকে একটা চিঠি লিখে দাও। লিখে দাও মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশে তোমার পাব্লিশার ছিল, তোমার জন্য আন্দোলন করেছে। ও যদি এখন দেশে ফিরে যায়, ওকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা’।

আমি বললাম, ‘মহিলাকে আমি চিনিই না। আর আপনি বলছেন ও আমার পাবলিশার ছিল? আমি মিথ্যে বলি না। আমি মিথ্যে কথা বলতে পারবো না।’ এরপর ওই মহিলা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি, আমাকে বাঁচান। আপনি না বাঁচালে আমি মরে যাবো জাতীয় কান্না। কাউকে কাঁদতে দেখলে নিজের চোখেও জল চলে আসে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে মাসুদা ভাট্টিকে না তাড়ানোর জন্য অনুরোধ করলাম। মহিলার জন্য মিথ্যে কথা আমাকে লিখতে হলো, লিখতে হলো, আমার পাবলিশার ছিল সে, দেশে ফিরলে তাকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা। তখন আমার খুব নাম ডাক। আমার চিঠির কারণে মাসুদা ভাট্টির পলিটিক্যাল এসাইলাম হয়ে গেল, ব্রিটেনের নাগরিকত্বও হয়ে গেল।

তারপর কী হলো? তারপর ২০০৩ সালে আমার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘ক’ যখন বাংলাদেশে বেরোলো,আমি কেন নারী হয়ে দেশের এক বিখ্যাত পুরুষের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছি, আমি কেন নারী হয়ে নিজের যৌনতার কথা লিখেছি, সারা দেশের নারী-বিদ্বেষী আর ধর্মান্ধ মৌলবাদি গোষ্ঠি উন্মাদ হয়ে উঠলো আমাকে অপমান আর অপদস্থ করার জন্য, আমাকে অবিরাম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালি তো দিতেই লাগলো, আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করলো, সেই মিছিলে সামিল হলো মাসুদা ভাট্টি।

আমার বিরুদ্ধে এ যাবৎ প্রচুর কুৎসিত লেখা লিখেছে লোকে,সর্বকালের সর্বকুৎসিত লেখাটি লিখেছে মাসুদা ভাট্টি। সবচেয়ে জঘন্য,সবচেয়ে অবিশ্বাস্য,সবচেয়ে ভয়ঙ্কর,সবচেয়ে বীভৎস সে লেখা।এত ভয়াবহ আক্রমণ আমার চরমতম শত্রুও আমাকে কোনওদিন করেনি। ক বইটি নাকি ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে শরীরে ঘিনঘিনে ঘা ওলা রাস্তায় পড়ে থাকা এক বুড়ি বেশ্যার আত্মকথন।

মাসুদা ভাট্টি আমার উপকারের জবাব ওভাবেই দিয়েছিল।ও যদি চরিত্রহীন না হয়, দুনিয়াতে চরিত্রহীন কে?আজ দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির পক্ষে লড়ছেন কারণ কেউ তাকে চরিত্রহীন বলেছে। যত অশ্লীল শব্দ বাক্য পৃথিবীতে আছে, তার সবই আমার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হচ্ছে নব্বই দশকের শুরু থেকে। আমি তো জনপ্রিয় কলাম লেখক ছিলাম তখন, জনপ্রিয় লেখক ছিলাম, কই কোনও বিশিষ্ট সম্পাদক আর কোনও সিনিয়র সাংবাদিককে তো আমার বিরুদ্ধে হওয়া লাগাতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ করতে কোনওদিন দেখিনি।

আমার মাথার দাম ঘোষণা করা হলো, আমার বিরুদ্ধে লক্ষ লোকের লং মার্চ হলো, আমার ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে দিনের পর দিন মিছিল হলো, সরকার একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করলো, আমার মত প্রকাশের বিরুদ্ধে মামলা করলো, আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল, কই দেশের কোনও সম্পাদক বা সাংবাদিক কেউ তো টুঁ শব্দ করেনি। এই যে আজ ২৪ বছর আমাকে অন্যায়ভাবে কোনও সরকারই দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, কোনও বিশিষ্ট জন তো মুখ খোলেন না। একজনের বেলায় বোবা, আরেকজনের বেলায় বিপ্লবী, এ খেলার নাম কী?

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: