বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে মুসলিমদের ওপর গাড়ি হামলা, আহত ৩  » «   সরকারি চাকরিজীবীদের ৫% সুদে গৃহঋণের আবেদন অক্টোবরে  » «   ভারতে তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা  » «   স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন শিক্ষক  » «   বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, আর ইয়েমেনে সেই বোমা ফেলছে সৌদি  » «   রাখঢাক রাখছেন না পর্নো তারকা ডানিয়েল স্টর্মি  » «   কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলেন ইমরান  » «   মিয়ানমারে নিলামে উঠছে সুচির ভাস্কর্য  » «   এক দিনেই মিলবে পাসপোর্ট  » «   ওসমানী বিমানবন্দরে বিমানে তল্লাশি : ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার, চোরাচালানী আটক  » «   কেউ বলতে পারবে না, কারো গলা টিপে ধরেছি: প্রধানমন্ত্রী  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন ৪২ নারী গৃহকর্মী  » «   সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৫২ লাখ শিশু  » «   ‘২৩ হাজার পোস্টমর্টেম বনাম মানসিক সঙ্কট’  » «  

মান্না-খোকার আলোচিত সেই ফোনালাপ



1. phone alapনিউজ ডেস্ক::
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ফোনালাপের একটি অডিও টেপ এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে কথপোকথনের টেপটি। যেখানে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রয়োজনে লাশ ফেলার কথাও বলতে শোনা গেছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি কথোপকথনটি রেকর্ড করেছে। ইতোমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে রেকর্ডের কপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

টেলিফোনে মান্নাকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকার বাইরে আমাদের অবস্থান দুর্বল। ঢাবিতে দুই তিনটি হল দখল করে অবস্থান শক্ত করতে হবে। সরকারকে ফেলতে হলে পেট্রল বোমার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ্ডগোল পাকিয়ে ২/৩টি লাশ ফেলে দিতে হবে।’

রেকর্ডটি ফাঁস হওয়ার পর তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংলাপের অন্যতম উদ্যোক্তা রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্নার অবস্থান ও কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

অডিও টেপে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে রাজধানীতে মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য আয়োজিত গণমিছিলের পরিকল্পনা নিয়ে দুই নেতাকে কথা বলতে শোনা যায়। বিএনপি-জামায়াত জোটের চলমান আন্দোলন নিয়ে দুই নেতার দীর্ঘ কথোপকথন রয়েছে ওই টেপে। বিএনপি নেতা খোকা আট মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

একসময়ের বামধারার ছাত্রনেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আশির দশকে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পান। ওই সময় তিনি ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর দল থেকে পদ হারান মান্না। এরপর গঠন করেন নাগরিক ঐক্য।

সম্প্রতি বিএনপির টানা হরতাল-অবরোধের মধ্যে সুশীল সমাজের একাংশকে নিয়ে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক’ নামের একটি মঞ্চ গঠন করেন ড. কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ সোমবার বিকাল ৩টায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে নাগরিক ঐক্যের একটি গণমিছিল বের হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মান্না সবাইকে গণমিছিলে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হরতালের ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন তছনছ করে দিয়েছে। অগ্নিদগ্ধের আহাজারি আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে মানুষ মারা যাচ্ছে যখন-তখন। অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে গভীর সংকট তৈরি হবে। সংকটের মূল কারণ হলো—দুই নেত্রীর জেদ ও রাগ। এ জন্য সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান জরুরি।’ যে মুহূর্তে মান্নার এসব কর্মসূচি দেশের মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলতে শুরু করেছে ঠিক সেই মুহূর্তে অডিও রেকর্ডটি দেশের রাজনীতিকে নতুন করে বিতর্কের ঝড়ে ফেলেছে।

ফাঁস হওয়া কথোপকথনের প্রথম অংশ

খোকা: হ্যালো

মান্না: জ্বি, স্লামাইলাইকুম।

খোকা: হ্যাঁ, ওয়ালাইকুম, কেমন আছেন? ভালো?

মান্না: হ্যাঁ, আছি ভালো, ভালো আছেন?

খোকা: এই.. চলছে আর কি।

মান্না: ডিস্টার্ব করলাম না তো, কোন সময় যে কি তা তো বলতে পারি না।

খোকা: এখন তো এখানে বাজে রাত সাড়ে ১০টা।

মান্না: তার মানে ঘুমাতে যাননি এখনো?

খোকা: না না, আমি তো ঘুমাই অনেক রাতে। দুইটার আগে তো ঘুমাই না।

মান্না: আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা, এমনে শরীর-টরীর কি অবস্থা আপনার?

খোকা: শরীরটা আগের চেয়ে খারাপ হয় নাই, এইটাই ওরা বলে যে, ভালো।

মান্না: ওই যে কি রিপোর্ট পাওয়ার কথা যে, সেটার কি অবস্থা?

খোকা: পেয়েছি, ওইটা স্ট্যাবল আছে। ডেটরেট করে নাই।

মান্না: তাইলে তো ভালো। ওদিকের খবর-টবর তো সব বোধ হয় পেয়েছেন, যে টুকু ভাইসহ একদিন কথাও বলেছি।

খোকা: হ্যাঁ, আমাকে ফোন করলো একটু আগে, আপনার সাথে কথাটথা যেটা বললো জানালো আরকি আমাকে।

মান্না : এখন এ ব্যাপার হলো যে, ধরেন শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটা তো এখন ওরকম করে বলা যায় না। বাট দেখা যাচ্ছে যে, কূটনীতিকরা অন্যান্যরা যথেষ্ট পরিমাণে ইনিশিয়েটিভ…।

খোকা: হ্যাঁ, ইনিশিয়েটিভ তো কিছুটা হচ্ছে দেখা যায়।

মান্না: জ্বি। আবার প্রতিবেশীদেরও দৃষ্টিভঙ্গির বেশ পরিবর্তন হচ্ছে। আমি খবরটবর পাচ্ছি। এই মুহূর্তে আসলে দরকারটা হলো মাঠে যাওয়া। আমি আপনাদের অসুবিধাটা বুঝতে পারছি, যদিও আমি দেখতে পাচ্ছি যে চেষ্টা করছেন আপনারা। আমি একটা প্রোগ্রাম করলাম সোহরাওয়ার্দীতে। এখন ধারণা করছি যে, এ প্রোগ্রামটার একটা কন্টিনিউটি রাখতে হবে। কারণ, বিদেশি কূটনৈতিকরা এটার উপরও জোর দিচ্ছে যে, বিরোধীদেরকে সভা সমাবেশ ইত্যাদি করতে দিতে হবে। এটা বাধা দেয়া যাবে না। সরকারের উপর একটা চাপও রয়েছে। আমি এটা করতে পারব, দেখা যাক কতদূর কি করা যায়।

খোকা: অ্যাকচ্যুয়ালি আমাদের জেলা পর্যায়ে বা অন্যান্য দিকে নিচের দিকে যে নেতাকর্মীরা আছে ওরাতো প্রায় দেড় মাস হয়ে গেল। ওরাতো অ্যাগজস্টেড হয়ে যাচ্ছে। এখন এটা কতদিন কনটিনিউ করা যাবে। আবার না করেওতো কোন উপায় দেখছি না।

মান্না : আরও কিছুদিন তো কনটিনিউ করতেই হবে। খোকা ভাই আমি যেটা দেখতে পাচ্ছি…।

খোকা: আপনার ওপিনিয়নটা কি … আরও কিছুদিন কনটিনিউ করি, নাকি?

মান্না : হ্যাঁ, আমি যেটা বলতে শুরু করেছি ত হলো যে, এখানে মাঝখানে যে একটা গ্রে এরিয়া বা ভয়েড আছে এই জায়গাটাতে এখন আমাদের নামা দরকার। আমাদের বলতে ….. সিপিবি বা ওদের পজিশন কিন্তু বেশ ফেসিনিটিং। অনেকটা ঐদিকে আর খানিকটা এইদিকে এই রকম। তার মানে আমরা যে কয়জন আছি এই কয়জনই। তার মধ্যে আবার দ্বিধা দ্বন্দ্ব আছে। কিন্তু এখানে কাউকে টানতে হবে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্রোগ্রামটা আমি করেছি যে এইটাতে অন্যরা খুব চাঙা হইছে। বিকজ এটার সাথে পাবলিক রেসপন্সটা খুব ভাল ছিল। আমাদের তুলনায় খুবই ভাল ছিল।

খোকা: আমরা কিছু কর্মী পাঠিয়েছিলাম।

মান্না: হ্যাঁ হ্যাঁ, গেছে ওরা গেছে। যোগাযোগ হয়েছে। তার পরেও ধরেন আপনাদের এরাও যদি বোঝে যে, এখানে তারা পার্টিসিপেট করলে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের লাভ হবে তাইলে কিন্তু পার্টিসিপেশন অনেক বড় হতে পারে। ওই রকম হয়নি। হয়েছে, ওই রকম না। আপনি যাদের যাদের বলেছেন ওরা কয়েকজন আমাদের সাথে কথাও বলেছে। ওইটা ভালো আরকি। আমি এখন তিন বা ২৩ তারিখে একটা গণ মিছিলের প্রোগ্রাম করতে চাচ্ছি আমার সুবিধার জন্য। টিভির টক শোতে বলেছি, লিখেছি, ফরমাললি অ্যানাউন্স করব হয়তো, একদিন দুইদিন পরে, ভাবলাম আপনার সঙ্গে একটু আলাপ করি। কারণ এখন পরিস্থিতিটা একটু সামনে নাজুক কি, ধরেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যদি ছয় হাজার লোক থেকে থাকে, মিছিলে তো এক হাজার লোক আসতে ভয় করে। মিছিল আর ওটা ডিফ্রেন্ট জিনিস। তারপরেও এটা আনতে হবে কারণ রাস্তার ভয়টাই তো ভাঙার দরকার। এবং এইটাতে আমি কথাবার্তা বলছি, আমি মনে করি মিটিং মিছিলটা করলে পুলিশ হয়তো বাধা দেবে না। বা দিলেও আমরা তো থাকবো সেখানে। দেখা যাক কি হবে।

তো.. আপনার কাছে আমি আমি দুইটা সাপোর্ট চাইছি, একটা হল যে, মাঝে আপানি তো দূরে থেকেও যেটুকু কিছু একটা ইয়ে করেছেন, আমার উপকারও হয়েছে। যে জিনিসটা একটু বেশি আমার জন্য কষ্টসাধ্য হচ্ছে যে, মানে খুবই কমিটেড লোক আনতে হবে আর ব্যাপক একটা পাবলিসিটি করতে হবে। মানুষ জানুক যে না রাস্তায় আছে লোকজন। স্লোগানটা এরকম দেব যে, শান্তি ও সংলাপের দাবিতে গণমিছিল। মানে দুটো জিনিস কম্বাইন করা যায়। আপনি ওখান থেকে প্রোগ্রাম-টোগ্রাম দেখতে পান কিনা, সেটা হলো টকশো এখন আমরা ডমিনেট করি। ওরা রাফলি চেষ্টা-টেষ্টা করে সেটা।

আর আরেকটা ব্যাপার খোকা ভাই, আমি বলি আপনাকে সেটা হচ্ছে যে, আপনি তো দূরে থেকে যেটুকু ইনফ্লুয়েন্স করতে পারেন, আপনাদের লোকজনকে এইটা একটু বলেন, সেটা হলো যে- যদি অনেকটা নিউট্রাল পজিশনে পার্টিসিপেট করি সেটা কিন্তু ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টটাকে হেল্পই করবে। মিছিল মিটিং যদি আমি ১০ হাজার লোকের করতে পারতাম তাইলে একটা আওয়াজ উঠতো। সাড়া পেতাম। সেটা হয়তো পারবো না। কিন্তু পারবো নাই বা কেন? একবার না পারি দুবার তিনবার চেষ্টা করেও যদি পারি। ব্যানারটা যাই থাকুক। ব্যানার আর যাই হউক না কেন ব্যানারের ভেতরে অন্ততঃ বিরোধী আন্দোলনকে কোনো সমালোচনা করা হচ্ছে না।

কালকে আমি আর নূরুল কবীর আরটিভির টকশোতে ছিলাম। এর আগে ইন্ডেপিন্ডেন্ট-এ ছিলাম। মানে এটাই বলেছি যে, এই ক্রাইসিসটার গোড়া তো ৫ জানুয়ারি, সেটা বাদ দিয়ে এগুলো আলোচনা করতে হবে কেন। ওইটা করেন তার সাথে এই যে আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ঢুকেছে সেটাও আলোচনা করেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বিদেশি কূটনীতিকরা গতকালকে এই যে ব্যবসায়ীদের সাথে বসেছিল। আজকে আপনি যদি পারেন তাইলে প্রথম আলোর ফার্স্ট নিউজটা পড়ে দেখবেন, হুবহু একই কথা বলেছে তারা।

পরিস্থিতিটা বেশ ফেভারেবল আছে আমার মনে হয়। যদিও আমি জানি না যে গভমেন্টের অ্যাটিচিউটের জন্য ভাল হবে নাকি মন্দ হবে। প্রাইম মিনিস্টার আমার ব্যাপারে খুব অ্যালার্জি হয়ে গেছে। মনে করছে যে, এই সব কাজ ভেতরে ভেতরে আমি করে দিচ্ছি। নইলে ড. কামাল আর নাগরিকরা কি এগুলো পারে নাকি….? আমি এগুলো করাচ্ছি। এরকম একটা ধারণা হয়েছে।

আপনার ভাইবার ঠিক আছে, এই জন্য কথা বলতেছি। না হলে তো কথা বলতেও ভয় লাগে। আমাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে বলছে যে আপনি একটু কেয়ারফুল থাকেন। আপনাকে যদি সুবিধাজনকভাবে পায় তাহলে ইউ উইল ইন ট্রাবল। তো ওইটাও একটু কেয়ারফুল থাকার চেষ্টা করছি। সব মিলায়ে আর কি, এখন দোয়া করেন কি করা যায়। আর কোনো পরামর্শ যদি থাকে আপনার সেইটা বলেন।

খোকা: আমি আপনাকে ফোন করতাম এই জন্য যে, আমাদের গ্রোগ্রাম নিয়ে আমরা একটু দ্বিধাগ্রস্ত, এইটা কি করা যায়।

মান্না: শোনেন, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে আমি একটা কথা বলি। আই মে বি রং। কারণ এটা তো আপনার ডেফিনেট কথা ছাড়া বলা যায় না। তার পরেও আমি মনে করছি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকান অ্যাম্বাসেডর- সব কথাবার্তা সুক্ষ্মভাবে দেখেন- মনে হচ্ছে যে তারা কিছু একটা বলতে চাচ্ছে। এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সংলাপ করতে হবে। অপোজিশনকে ডেমোক্রেটিক অ্যাটমোসফেয়ার দিতে হবে। সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এটা তোমাদেরই কাজ, করতে হবে, নইলে তোমাদের ক্ষতি হবে। এখন এই কথাটা শুধু কথার মধ্যে কি?

এটার সঙ্গে যদি ইন্ডিয়ানদের একটা যোগসাজশ হয়, তাহলে এইখানে একটা চেঞ্জের এর বাতাস বয়ে যাবে। আমি বলছি আমার নলেজ অনুযায়ী বন্ধুদের পরিবর্তন হচ্ছে, এখন যদি আপনি, মানি এটার ইউজ করেন, তাবে রংটা কিন্তু শেষ হয়ে যাবে। যদি থাকে, থাকলে যেটা হবে এটা আমি বল এটা আমি বলছি না। কিন্তু যদি না থাকলে হবেই না সেটা সিউর, না থাকলে ইউ জাস্ট ডিফিটেড, আপনাদের এটা উইথ ড্র করার জায়গা নেই আর। বরং আরও ভাল করে করার চেষ্টা করতে পারেন। সেটা যদি একটু দুর্বলও হয়, তার পরও কিন্তু…।

দেখেন, এতগুলো লোক পেট্রোল বোমায় মারা গেছে, কিংবা এতো প্রপাগান্ডার পরেও মানুষের আন্দোলন, বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠেছে। (না, আন্দোলন তো জাস্টিফাইড: খোকা) মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, বিরক্ত হচ্ছে, ভালো লাগছে না। তারপরেও মানুষ বলছে না সব দমন করে ফেলো, বিএনপি খুব অন্যায় করছে।

খোকা: বলছিলাম, ধরেন আপনাদের মুভমেন্ট, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক যে একটা তৎপরতা চলছে আরকি। তারপরওতো সরকারের অবস্থানের কোন রকম কোন ইয়ে নাই, কোন রকম অবস্থানের পরিবর্তন নাই। এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের সাইড থেকে কি ম্যাডামের অবস্থান থেকে স্টেজে কি কোন কথা বলা কি ঠিক হবে যে, কি পরিস্থিতিতে আমাদেরকে এই মুভমেন্টটা কন্টিনিউ করতে হচ্ছে।

খোকা: একটা হলো যে, গভর্নমেন্ট এই ধরনের জাতীয় আন্তর্জাতিক চাপের পরও তারা আলোচনার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। এমতাবস্থায় আমাদের আন্দোলন চালায়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের জন্য কোন উপায় খোলা নাই।

মান্না: না না, খোকা ভাই না। মানে আপনি যেটা বলতে চেয়েছিলেন, সেটা বলেন। কিন্তু টোনটা একটু ডিফরেন্ট থাকতে হবে। সেটা হচ্ছে কি, একটা যে, আমরা কোন সহিংসতার মধ্যে নাই। আমাদেরকে এ রকম একটা অন্দরের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এটা একটা অবৈধ সরকার। অনির্বাচিত সরকার। আমরা তার কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করিনি। আমরা শুধু বলেছি, তুমি ভুল করেছ, কারেকশন করো।

মান্না: সেই জন্য এই আন্দোলন। সেই আন্দোলনটাকেও তারা এই এই ভাবে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। সেখানে আপনার এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের উদাহরণগুলো সব তোলেন। তোলার পর বলেন, এটা একটা ন্যায্য আন্দোলন। এই ন্যায্য আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার কোন পথ আসে না।

মান্না: ওরা যে এত সহিংসতা সহিংসতা করেছে। এই সহিংসতা তারা নিজেরাও যে করেছে কত? এটা আপনাকে ক্লিয়ার করতে হবে যে, আপনি কোনভাবেই সহিংসতার পক্ষে নন। কিন্তু ডেমোক্রেসির প্রশ্নে…

মান্না:… এই সমস্যার সমাধান হতে পারে, সরকার যদি সংলাপের উদ্যোগ নেয়, কথা বলে, এটার একটা বাস্তব সম্মত সমাধান করে। ব্যাকফুটে যাওয়ার কোন টোন থাকা যাবে না। … কিন্তু আপনার বক্তব্যটা বোঝা যাবে।

মান্না: এখন কিন্তু আমি দেখছি, সালাউদ্দিন সাহেবের যে স্টেটমেন্ট যাচ্ছে, দিজ আর ফাইন। খুবই সুন্দর স্টেটমেন্ট যাচ্ছে… আমি দেখছি। ওই জায়গাটা ধরে রেখে ম্যাডাম সমস্ত পরিবেশই বিবেচনা করছে জনগণকে বলবেন, এই কষ্টটুকু স্বীকার করতে হচ্ছে, আমরা জনগণের কষ্টের জন্য দায়ী না। দায়ী তারা। তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। সরকার… এটা তাদের মানতে হবে।

মান্না: যেমন ধরেন, আমরা এইখানে যেই ক্যাম্পেইনটা করছি। ক্যাম্পেইন মানে কথা বলছি। … সেখানে আমরা বলেছি, সমস্যাটা শুরু হয়েছে এই খানে। ৯৬’র নির্বাচনের পরে তখন আমরা সাথে ছিলাম, আমরা বলেছি, গভমেন্ট মানি না একদিনের জন্য। তুমি যাও। তারা ৩ সপ্তাহের মধ্যে মধ্যে সংসদ ভেঙে তা করে ফেলেছিলো। কিন্তু এখন তুমি কথা দিয়েছিলে, এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দিবে। কিন্তু তা করতেছো না। তুমি ৫ বছর চলতে চাও। এটাই কারণ। তুমি এটাই মিটাও। বাকি যেটা বলছো, আমরা এটারও বিরুদ্ধে। আমরা দরকার হলে সবাইকে বলবো, সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, তুমি ক্রসফায়ার করে … মেরে ফেলতে হবে। সেই রাইটও তোমার নেই।

খোকা: না না ভয়াবহ অবস্থা। এটাতো স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশের চরিত্রইতো থাকছে না আর। যেখানে সেখানে লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এই হচ্ছে, এটা কি হলো একটা দেশের?

মান্না: এইটা দুইটাতে প্লে করে ওইটা বলতে হবে, আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছি।

খোকা: হ্যাঁ, সেটাই সেটাই।

মান্না: এই জায়গাটাই একটু ইয়ে করতে হবে যে, আমরা বড় ঠেকায় পড়ে গেছি, তাই এটা করতেছি। মানুষ…. চায় না। মানুষ এখানে চায় বিনয়ী….। ওইভাবে আমি মনে করি একটা দিতে পারেন। আর বাকীটা আপনিই বুঝবেন, সেটা হলো, আসলে কতখানি ধরে রাখতে পারবেন। আর কতখানি নিতে পারবেন? ভেঙে পড়া যাবে না। তার আগে আপনার বুঝতে হবে। কিন্তু আমি এখনো ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি দেখছি না।…..

খোকা: না, সেটা না। কিছু কিছু ডিস্ট্রিক্ট থেকে বোধ হয়, একটু বিরক্ত… মানে। এখন ধরেন মুভমেন্ট চালানো, প্রতিদিন একটা হিউজ কর্মযজ্ঞ হয়। একটা মানুষ জেল জুলুম পালায়া থাকা, এই করা সেই করা, আবার অ্যাকটিভিটিজ করা, এটার জন্য… যোগান দেয়া….এগুলো একটু ইয়ে হয়ে আসছে আরকি।…

মান্না: হু হু হু।… সহসাই আপনাদেরকে দেবে না। কিন্তু আমরা যদি একটা দুইটা বড় প্রোগ্রাম করে ফেলতে পারি। তাহলে ব্রেক থ্রু হয়ে যাবে। আপনারা তখন পেছনে পেছনে নিজেদের মতই নামতে পারবেন। ওকে নামতে পারলেই কেইস শেষ।

মান্না: … এই প্রোগ্রাম আমি ডিক্লেয়ার করেছি। ড. কামাল অ্যাগ্রি করেছেন। হি উইল লিড দ্য প্রোসেশন। তিনি এখন দেশের বাইরে… যেমন ধরেন কালকে একটা প্রশ্ন করেছিলো… সরকার কি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঠেকাচ্ছে? আমি বললাম, না, এটাতো কোন প্রশ্ন হয় না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঠেকাচ্ছে না।

মান্না: কিন্তু অন্যান্য শক্তিকেও ঠেকাচ্ছে। সেটাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নয়। এই ক্যাম্পেইনগুলো করা, যতটুকু পারা যায়। তার সাথে সাথে অ্যাকশন নিবেন। আর যেটাই হোক, পাবলিকের কিলিংয়ের ঘটনা ডেফিনিটলি অ্যাভয়েড করতে হবে। এটা করা যাবে না।

মান্না: গত চার পাঁচ দিনে পেট্টোল বোমায় মৃত্যুর ঘটনা কিন্তু নেই এখন আর। এটা ভালো।

খোকা: সেটাও গভমেন্টের অপপ্রচার। তারা বলবে, আমরা কন্ট্রোল করে ফেলছি। সব ঠিক হয়ে গেছে।

মান্না: না না, তা করতে পারছে না। তা করেনি এখন পর্যন্ত। হয়তো তারা করবে। তারা ভালোবাবে খেয়ালই করেনি এখনো। … এটা আপনারা বলতে পারবেন। এটা আমাদেরকে বলতে হবে। আমি দুইটা টক শোতে বললাম। অন্যদেরকেও বলতে বলেছি। …কিন্তু আন্দোলন বাকিটা চলতে থাকবে।

খোকা: আপনার প্রোগ্রাম কি ২৩ তারিখে।

মান্না: জ্বি ২৩। ২৩।

খোকা: এটা কি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই।

মান্না: এটা প্রেস ক্লাব থেকে হয়তো মিছিল করবো। মতিঝিলের দিকে যাবো চিন্তা করছি।

খোকা: এটা কি বিকালের দিকেইতো হবে, নাকি?

মান্না: জ্বি, বিকালে। তিনটার দিকে জমায়েত। এরপর আমরা মিছিল করবো। ধরেন আমার মিছিল এক হাজার লোকেরই হলো। এক হাজার না পাঁচ হাজার সেটা বলতে পারবো না। ঢাকা শহরের সব লোককে জানাতে হবে যে, এই মিছিলটা হচ্ছে। যাতে মানুষ হতাশ হয়ে না যায়। এই জায়গাটাতো ভেঙে গেছে। এটা ধরে রাখতে হবে … স্পিরিট অব মুভমেন্ট না হলে মানুষ টিকবে না।

মান্না: … ঢাকা সিটির… মনে হয় না। আপনাদের এখানে যারা সিটিতে আছে, তাদেরকে নিজেদের মতো করে ভাবতে হবে। শহরের তারা কোথায় কিভবে কি করতে পারে? এই জন্য টিউনিং দরকার। একটু বোঝানো দরকার। গেলেইতো গুলি খাবে…… এই কথা বলেতো আপনি দেড় বছর চুপ থাকতে পারবেন না। নামতে হবেতো আপনাকে। সেটা আপনি কৌশলে নামেন, সতর্কতা, তৈরি করে নেন কিভাবে… এটা আপনি অত দূর থেকে বলবেন। এটা নিজেদেরকে ফিল করতে হবে।

মান্না: আরেকটা বিষয় আমি ওই যে বলেছিলাম। কোনভাবে ইউনিভার্সিটি… নাকি এটা ভাবেন। দ্যাট শুড বি এনি কস্ট। যদি পারা যায়। আমি জানি না। এটা আরও আগে, মাস তিনেক আগে…

খোকা: করে ওরা। বাট এটা খুবই সীমিত।

মান্না: ওটাতো ট্রাডিশনাল হয়েই গেছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগকেতেো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে…।

মান্না: ধরেন, ইউনিভার্সিটিতে একটা মিছিল হলো। ধরেন যা মারামারি বাইরে হচ্ছে। ইউনিভার্সিটিতে মারামারিতে গেলো দুই তিনটা। কি করা যাবে? কিন্তু হল…আপনারা গভমেন্টকে শেইক করে ফেললেন।

মান্না: আমি মাস তিনেক আগে… কে বলেছিলাম, যে কোনভাবেই হোক আপনি আগে ইউনিভার্সিটিতে দুই তিনটা হল দখল করেন। আগে এ রকম ছিলোতো আমাদের। এই পাঁচটা হল আমাদের। ওই তিনটা হল তোমাদের। ওই দুইটা ওদের।

মান্না: তখন উনি বলেছিলেন, না আমাদের ছাত্রদলের এ রকম স্ট্রেন্থ এখন আর নাই।

খোকা: ছাত্ররা হয়তো ছাত্র-ছাত্রের লড়াইতে কুলাইতে পারবেন। কিন্তু পুলিশ টুলিশ আইসা ইউনিভার্সিটি অথরিটি আইসা, ঢুইক্যা-ফুইক্যা রুম-টুম ইয়ে টিয়ে করে, বড় ধরনের একটা ইয়ে হয়ে যাবে।

মান্না: একটা বড় ধরনের কিছু হলেই ঘটনাই পাল্টে যাবে। গভমেন্ট সুতার উপরেই ঝুলছে এখন। যে টোনে কথা বলতে দেখছি, তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে, গভমেন্ট রিয়াল একটা শেকি পজিশনে আছে। আমি জানি না, কেরির সঙ্গে ওখানে কি কথা হচ্ছে বা হবে। দ্যাট উইল বি ভেরি ভাইটাল।

খোকা: এখানে বিভিন্নভাবেতো আমরা কিছু ইনফ্লুয়েন্স করার চেষ্টা করছি। আমি ওসমান ফারুক… যাই হোক জানা থাকলো আর কি।

মান্না: খোকা ভাই দোয়া করবেন, আবার কথা হবে। আমি আবার আপনাদের….যাব। এইরকম যদি হয় আপনাদেরও কিছু কিছু জায়গা আছে। যারা উদ্যোগী করবে। তাদের দিয়ে কথা বলাতে হবে। দলের কোন ক্ষতি হয় এমন না। যেমন আগামীকাল ওয়ালিয়ার সাহেবের উপর উনার মেয়ে করছে। সেখানে এমাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবও আছেন।

খোকা: ওই মেয়েটা কালকেতো আরটিভিতে দেখলাম আপনার প্রোগ্রাম, ভালই হয়েছে।

মান্না: ওকে তো আমি নিয়েছি। ওকে আমি একদিন বাংলাভিশনে একটা প্রোগ্রামে দেখেছি। ওই যেটা বড় প্রোগ্রামটা হয়। আমার ভাল লাগল, শুনি। এরা যখন জিজ্ঞেস করলে বললাম ওকে দাও।

খোকা: কালকে রাতে ওকে ফোনও করলাম।

মান্না: এটা যদি পারেন। ওই মেয়েটা আছে, পারভেজ আছে। এইরকম ৫টা ৭টা ছেলে মেয়ে তৈরি করেন। যারা সব জায়গায় যেতে পারে। কথা বলুক তারা। এটা কিন্তু খুব ম্যাটার করে।

খোকা:পলিটিক্স কিন্তু মাঠের থেকে চুরি হবার আরেকটা কারন টকশো। মানুষের এটেনশনটা টকশো’র দিকে চলে গেছে।

মান্না: ইন স্পাইট অফ অল দ্য প্রেসার এই জায়গাটা কিন্তু এখনো ডেমোক্রেটিক ফোর্সের প্রভাব বেশি। ধরেন যে পরিচালনা করে, যে প্রডিউশশার তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওরাও ভাবে বিএনপি’র কথা আসা দরকার। ওরাও একোমোডেট করবে। কিন্তু এইজন্য তো মানুষ নাই এখন। কেউ তো যাচ্ছে না।

মান্না: আচ্ছা, লাস্ট একটা কথা বলি। আমাকে দুই একজন এইরকম বলেছে আপনি একটু ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি হয়তো একটু ভাল ফিল করবেন। উনি একা আছেন, পরিস্থিতি কি জানান। তো আমার হয়তো ফোন করা হবে বলে মনে হয় না। আমি হয়তো শিমুলের সঙ্গে কথা বলবো। আপনি যদি পারেন আমার সালাম দিয়েন। আই এম নট বিএনপি ম্যান বাট আমি ডেমোক্রেসির কোয়েশ্চেনে ফাইট করছি।

খোকা: আমি তো বলতে পারি। আপনারা যেহেতু কামাল হোসেন সাহেবসহ আপনারা দেখা করলেন। উনি বিদ্যমান বিষয় নিয়ে আপনাদের ফোন দিতে পারেন। একটু আলোচনা করি বা এটা সেটা। এইরকম করলে কি আপনারা কি…

মান্না: মনে হয় তা পারবো না। আমি তো একা যেতে পারবো না। ড. কামাল হোসেন সাহেব তো রাজি হবেন বলে মনে হয় না। কাজেই উনাকে একটু বলেন। …. উনাকে পারসু করছেন বললে আমরা কথা বলতে পারি।

খোকা: উনি যদি ইয়ে হয়…ম্যাডাম..দাওয়াতই দিল … যে আসেন…।

মান্না: আপনার কনভেশনের জন্য একটা কথা বলি। খেয়াল করে দেখেন এই যে নাগরিক সমাজের যে উদ্যোগটা সংলাপের পক্ষে… একটা সাড়া ফেলে দিল না…এটা হলো কি….হবার পর দেখলাম বান কি-মুনের চিঠিটা…বান কি-মুনের চিঠি ও এই উদ্যোগটা কিন্তু প্রায় একই জিনিস ছিল।

খোকা: হুঁ হুঁ হুঁ… হুঁ হুঁ

মান্না: বান কি-মুনের চিঠিটা প্রথম আলোতে যেদিন প্রকাশিত হলো…. তার সাতদিন আগে মতিভাই বললেন, এই রকম একটা চিঠি আসছে…নিউজ তো করতে পারছি না বিকস ডকুমেন্ট নাই। কি কি ডকুমেন্ট দেখেন চেষ্টা করে। মানে মতি ভাই সম্ভবত জানতেন বান কি-মুন এই রকম বলছে। তার আগে হয়তো ড. কামালও জানতেন। হয়তো তাকে ফলো করে সে কাজটা করেছেন।

তাহলে হলো কি, ড. কামাল যেটাকে না বলেন আমি তা পারসু করতে চাই না।…উনি উনার মতো যা করেন…যেমন নারায়নেগঞ্জে উনি কোর্টে না দাঁড়ালে র‌্যাব-ট্যাব অ্যারেস্ট হতো না। যাকে যতখানি পাওয়া যাবে তাকে ততখানি নেওয়াই ভাল। তার বাইরে প্রেসার করতে চাই না।

খোকা: হুঁ হুঁ….

মান্না: তারপরে আওয়ামী লীগ একদম লেগে গেছে আমাদের বিরুদ্ধে। পার্লামেন্টের মধ্যেই প্রাইমমিনিস্টার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করলেন। আমাদের তো আওয়ামী লীগের মধ্যে প্লে করতে হবে। ওই জায়গাটা থাকতে হবে। কারণ, আওয়ামী লীগের অনেক লোক বিরক্ত, অনেক লোক মনে করে যে বাড়াবাড়িটা ঠিক হচ্ছে না। তারাও ভিন্ন রকম চিন্তা করে। ওরা আমাদের ব্রন্ড করে দিতে পারলে ওদের লাভ।…আপনি যদি বলেন ঠিক আছে। তবে ওটা আমি পারসু করতে চাই না।…আপনি উনাকে বলেন। দেখেন কি হয়…

খোকা: আচ্ছা আচ্ছা…..

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: