শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আগামীতে শহীদুজ্জামান সরকারকে নৌকা মার্কায় ভোট দিলে নজিপুর জেলাসহ সব উন্নয়ন হবে :নাসিম  » «   মাহিরাকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা, ভাইরাল ভিডিও  » «   বরের বয়স ৮৩ কনে ৩০  » «   ‘তারেকের নেতৃত্বে বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী’  » «   চলন্ত বাসে ডাকাতি ও চালক খুন, গ্রেপ্তার ১৩  » «   প্রধানমন্ত্রী ভোট চাচ্ছেন, খালেদা জিয়া অন্ধকার প্রকোষ্ঠে : ফখরুল  » «   কিশোরের মৃত্যু, লাশ রেখে সঙ্গীদের পলায়ন  » «   এক সঙ্গে তারা  » «   অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত, ১১ প্রেমিক যুগলের জরিমানা!  » «   দুই ঘণ্টার জন্য বিমান আটকে দিলো মশা  » «   বিয়ের নামে চীনে বিক্রি হচ্ছে পাহাড়ি মেয়েরা  » «   ডেকে নিয়ে যুবকের গলাকেটে হত্যা  » «   বড়লেখার মেধাবী তোফায়েলের চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক লাভ  » «   পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে যুবলীগ নেতার ধর্ষণ  » «   সিলেটে হবে ভারতীয় হাইকমিশন অফিস  » «  

মাছের লবণ সহনশীল জিন সনাক্ত করলেন প্রফেসর ইউসুফ আলী



shrimpরেজাউল করিম, খুলনা:: মাছের লবণ নিয়ন্ত্রণকারী ও লবণ সহনশীল জিন সনাক্ত করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে চিংড়ি-জাতীয় মাছ ক্রে-ফিশের ওপর গবেষণা করে তিনি এই জিন সনাক্ত করেন। এই গবেষণার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মাত্রার অম্ল­ীয় ও ক্ষারীয় পরিবেশ থেকে ক্রে-ফিশের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং অত্যাধুনিক ডিএনএ সিকুয়েন্সারের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সকল জিনের নিউক্লিও কাঠোমোর উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এই জিন হলো জীবন রহস্যের আসল উপাদান।

 প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, সংগ্রহকৃত সকল উপাত্ত তিনি আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন-এ জমা দেন এবং অন্যান্য প্রজাতির মাছের জিনের সঙ্গে এর তুলনা করেন। হাজারো জিনের ভেতর থেকে তিনি ১০টিরও বেশি জিনের চরিত্র সনাক্ত করেছেন যেগুলো সরাসরি মাছের অভিগ্রবণ, লবণ এবং অম্ল­তা নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মাত্রার অম্ল­ীয় ও ক্ষারীয় পরিবেশে এই সকল জীনের প্রকাশমাত্রা (জিন এক্সপ্রেশন) পর্যবেক্ষণ করছেন। কারিগরি সহযোগিতা ছাড়াও তার এই গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করছে অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলীর এই গবেষণার ওপর ইতোমধ্যে তিনটি গবেষণাপত্র ইউরোপ থেকে প্রকাশিত জিন ও মেরিন জেনোমিক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আরো দুইটি গবেষণাপত্র খুব শিগগিরই প্রকাশিত হবে। তার এই গবেষণালব্ধ তথ্য বাংলাদেশের চিংড়ি মাছ বিশেষ করে গলদা ও বাগদার জীবন রহস্য উন্মোচন এবং লবণ সহনশীল জীন সনাক্ত করতে সাহায্য করবে। গলদা ও বাগদার লবণ সহনশীল জীন সনাক্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে এই চিংড়িকে ধীরে ধীরে মিঠাপানিতে অভ্যস্ত করানো সহজ হবে এবং নদী বা পুকুরের মিষ্টি পানিতেও তা’ চাষ করা যাবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাটির গুণাগুণও রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সাথে চিংড়ি চাষের কারণে পরিবেশের যে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয় তা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। নবীন জীনবিজ্ঞানী প্রফেসর ইউসুফ আলী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গলদা, বাগদা ও অন্যান্য চিংড়ি মাছের জীবন রহস্য নিয়ে আরো কাজ করতে আগ্রহী। ডক্টরেট ডিগ্রির অংশ হিসাবে তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে মাছের জিনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: