মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পর্নোগ্রাফির মামলা নিয়ে ভাবছেন না কুসুম শিকদার  » «   ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আশরাফুল  » «   ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী  » «   মানববন্ধনে রিজভীচাল নেই: সরকারি গোডাউনে ইঁদুর খেলা করছে  » «   নতুন বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন ময়ূরী  » «   ‘যৌন নিপীড়ন বন্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে’  » «   মৌলভীবাজারে অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ  » «   ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়াদের অভিভাবকের নাম অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট  » «   পদ্মায় নিখোঁজ কনস্টেবলের মরদেহ ২৪ ঘন্টায় উদ্ধার হয়নি  » «   রাজধানীর পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন  » «   উপজেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ওএমএস  » «   ‘মধ্যরাতে আমাকে ঘিরে ধরে মাতালেরা, এরপর শুরু করে…’  » «   ভদ্র চালকদের জন্য পুরস্কার  » «   শাহজালালে সিগারেটসহ ৬ ভারতীয় নাগরিক আটক  » «   ৮ সন্তানকে আনতে পেরেছি আরেকজন জেলে  » «  

মাছের লবণ সহনশীল জিন সনাক্ত করলেন প্রফেসর ইউসুফ আলী



shrimpরেজাউল করিম, খুলনা:: মাছের লবণ নিয়ন্ত্রণকারী ও লবণ সহনশীল জিন সনাক্ত করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে চিংড়ি-জাতীয় মাছ ক্রে-ফিশের ওপর গবেষণা করে তিনি এই জিন সনাক্ত করেন। এই গবেষণার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মাত্রার অম্ল­ীয় ও ক্ষারীয় পরিবেশ থেকে ক্রে-ফিশের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং অত্যাধুনিক ডিএনএ সিকুয়েন্সারের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সকল জিনের নিউক্লিও কাঠোমোর উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এই জিন হলো জীবন রহস্যের আসল উপাদান।

 প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, সংগ্রহকৃত সকল উপাত্ত তিনি আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন-এ জমা দেন এবং অন্যান্য প্রজাতির মাছের জিনের সঙ্গে এর তুলনা করেন। হাজারো জিনের ভেতর থেকে তিনি ১০টিরও বেশি জিনের চরিত্র সনাক্ত করেছেন যেগুলো সরাসরি মাছের অভিগ্রবণ, লবণ এবং অম্ল­তা নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মাত্রার অম্ল­ীয় ও ক্ষারীয় পরিবেশে এই সকল জীনের প্রকাশমাত্রা (জিন এক্সপ্রেশন) পর্যবেক্ষণ করছেন। কারিগরি সহযোগিতা ছাড়াও তার এই গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করছে অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলীর এই গবেষণার ওপর ইতোমধ্যে তিনটি গবেষণাপত্র ইউরোপ থেকে প্রকাশিত জিন ও মেরিন জেনোমিক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আরো দুইটি গবেষণাপত্র খুব শিগগিরই প্রকাশিত হবে। তার এই গবেষণালব্ধ তথ্য বাংলাদেশের চিংড়ি মাছ বিশেষ করে গলদা ও বাগদার জীবন রহস্য উন্মোচন এবং লবণ সহনশীল জীন সনাক্ত করতে সাহায্য করবে। গলদা ও বাগদার লবণ সহনশীল জীন সনাক্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে এই চিংড়িকে ধীরে ধীরে মিঠাপানিতে অভ্যস্ত করানো সহজ হবে এবং নদী বা পুকুরের মিষ্টি পানিতেও তা’ চাষ করা যাবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাটির গুণাগুণও রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সাথে চিংড়ি চাষের কারণে পরিবেশের যে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয় তা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। নবীন জীনবিজ্ঞানী প্রফেসর ইউসুফ আলী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গলদা, বাগদা ও অন্যান্য চিংড়ি মাছের জীবন রহস্য নিয়ে আরো কাজ করতে আগ্রহী। ডক্টরেট ডিগ্রির অংশ হিসাবে তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে মাছের জিনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: