শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার প্রমাণ নেই : আমু  » «   অংশ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইইউ  » «   কমলগঞ্জে ট্রাক চাপায় তরুণী নিহত,চালক পালাতক  » «   বি. চৌধুরীর চায়ের দাওয়াতে যাচ্ছে ন্যাপ–এনডিপি  » «   নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: ইসি সচিব  » «   ঈশ্বর, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন ও স্বর্গ নিয়ে যা ভাবতেন স্টিফেন হকিং  » «   আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক  » «   সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দৃষ্টান্ত: এক উঠোনে মসজিদ-মন্দির  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা দিল সৌদি  » «   দুর্গাপূজা যেভাবে হলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব  » «   সিলেটে ফোনে কথা বলা অবস্থায় যুবকের হঠাৎ মৃত্যু  » «   ইরান কখনো পরমাণু বোমা বানাবে না: রুহানি  » «   সিলেটে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «  

মন্ত্রীর ‘সতর্ক বার্তায়’ ভীত নন রানা দাশগুপ্ত



1নিউজ ডেস্ক :: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দেয়া ‘সতর্ক বার্তা’য় ভীত নন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা রানা দাশগুপ্ত। রোববার প্রিয়.কম-এর কাছে তিনি দাবি করেন, আড়াই কোটি সংখ্যালঘুর পক্ষে তার অবস্থান।
শনিবার ফরিদপুরে জন্মাষ্টমীর এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনি (রানা দাশগুপ্ত) চট্টগ্রামে কি করেন না করেন, সেটা আপনার বিষয়। আমরা যারা ফরিদপুরবাসী আবহমানকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করছি। ফরিদপুরের দিকে যদি চোখ তুলেন তাহলে ফরিদপুরবাসী এর জবাব দেবে।
গত ৬ অাগস্ট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রী মোশাররফের বিরুদ্ধে ভাজনডাঙার জমিদার সতীশ চন্দ্র গুহ মজুমদারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের তিন একর জমি দখলের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা রানা দাশগুপ্ত লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, ‘জমির বর্তমান মালিক অরুণের কাছ থেকে মন্ত্রী জোর করে বায়নানামায় সই নিয়েছেন’।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘আমি ওই সাংবাদিক সম্মেলনে আমার ব্যক্তিগত কোনো কথা বলিনি। আমি সেদিন আড়াই কোটি সংখ্যালঘু মানুষের কথা বলেছি। মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আমার কিছু বলার নেই।’
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মোশাররফ অভিযোগ করে বলেন, ‘অরুণ বাবু ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের অনুরোধে আমি অরুন বাবুর জমি কিনতে বাধ্য হয়েছি। আপনারা বুঝে দেখেন, রানা দাশগুপ্তের মতো অর্বাচীন লোক সাধারণ একটা জমি কেনার বিষয়টাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আপনি যদি অন্য কোনো রাষ্ট্রের এজেন্ট হয়ে থাকেন, অন্য কোনো এজেন্ডা যদি থাকে, দয়া করে আপনার চিটাগাং নিয়ে আপনি থাকেন। ফরিদপুরের দিকে যদি চোখ তুলেন তাহলে ফরিদপুরবাসী এর জবাব দেবে।’
এর প্রেক্ষিতে রানা দাশগুপ্ত দাবি করেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন তার বংশধর হয়ে এ ধরনের কাজ তো দূরের কথা, তা চিন্তাও করতে পারেন না তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো রক্তচক্ষুর ভয়ে আমি ভীত না। সত্য কথা বলা থেকে আমি এক পা পিছপা হব না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমি কথা বলে যাব। অতীতেও আমি অনেক হুমকি-ধমকি পেয়েছি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হওয়ার পরে। এছাড়া চট্টগ্রামের মেয়র ও সংখ্যালঘুদের জমি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় কথা বলার পরেও এ ধরনের হুমকি-ধমকি পেয়েছি। তবে সম্প্রতি আনসারউল্লাহ বাংলা টিম থেকেও হুমকি পেয়েছি।’
এদিকে গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের নামে অভিযোগ উত্থাপনকারীরা ‘ফায়দা লুটতে চাচ্ছে’ উল্লেখ করে জমির মালিক অরুণ গুহ বলেন, ‘আমি পৈতৃক বাড়িটি ন্যায্যমূল্যে এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে বিক্রি করেছি। দখলের প্রশ্ন আসছে কোত্থেকে? আমি স্বেচ্ছায় বাড়িটি বিক্রি করেছি, ন্যায্যমূল্য পেয়েছি।’
এ বিষয়ে রানা দাশগুপ্ত বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য থেকেও আমার কথার সত্যতা ফুটে ওঠেছে। ‘আমি ব্যক্তিগত কোনো কথা বলিনি আড়াই কোটি মানুষের পক্ষে কথা বলেছি। এ ঘটনায়ও জমির মালিক অরুণ গুহ আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। আমি তার কথাগুলোই সংবাদ সম্মেলনে বলেছি। পরে কেন তিনি অস্বীকার করেছেন তা জানি না।’
প্রসঙ্গত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শনিবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাপূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে এখানে এসে কিছু বিষয় নিয়ে আমি ব্যথিত হয়েছি। বাংলাদেশের কোন কোন স্থানে হিন্দু বাড়িতে আক্রমন হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করা হয়েছে, এটা কিন্তু এই স্বাধীন বাংলাদেশে চলতে দিতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যারা এই কাজে লিপ্ত তাদের ছাড় দেয়া হবে না।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম যখন অসাম্প্রদায়িক কথা বলেছেন তখন তাকে কাফের ফতুয়া দেয়া হয়েছিল। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা হলে যাদের বিরুদ্ধে যায় তারা এ ধরণের সাধু বাক্য বলে থাকেন। মন্ত্রী যা ভাল মনে করেছেন তাই বলেছেন। এ বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: