মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাতে দেশ ছাড়ছেন মাহমুদউল্লাহ-মুস্তাফিজ  » «   পারিবারিক অশান্তির মূলে পরকীয়া  » «   ‘এই সুমি সেই সুমি’  » «   সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ প্রিয়া প্রকাশ  » «   খালেদার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার বিষয়ে যা বললেন আ’লীগ নেতারা  » «   পাবনায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বই পড়া ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   পাবনা জেলা বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির কমিটি গঠন শাহাদত সভাপতি রাসেল সম্পাদক  » «   কানাডায় বাংলাদেশি তরুণীর কৃতিত্ব  » «   মাথা না ধুলে ফরজ গোসল হবে?  » «   হোটেলে রুম ফাঁকা নেই, ফিরিয়ে দেয়া হলো মোদিকে  » «   ‘বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না’  » «   হবিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি,আহত ৩০  » «   পোশাক নিয়ে আলোচনায় সোহানা সাবা  » «   ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত শহীদ মিনার  » «   চুনারুঘাটে অগ্নিকান্ডে ২টি দোকান পুড়ে ছাই  » «  

মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিল ওবায়দুল



full_1520938198_1472633167 (1)নিউজ ডেস্ক: গ্রেফতার এড়াতে টানা চারদিন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিল রিশা হত্যার প্রধান আসামী ওবায়দুল। পেশায় একজন কাটিং মাস্টার এই খুনি।

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে (১৫) নির্মমভাবে হত্যার পর প্রথমে গাইবান্ধায় বোনের বাড়ীতে আশ্রয় নেয় ওবায়দুল খান। (২৯)। পরে সেখান থেকেও সটকে পড়ে এই যুবক।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রিশার সহপাঠীদের বেঁধে দেয়া সময়ের আগেই স্থানীয়দের সহযোগীতায় এই বখাটে যুবককে গ্রেফতার করে আইন-শৃংখলা বাহিনী।

ওবায়দুলকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বর্ণনা দেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাকির হোসেন খান।
তিনি বলেন, পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় ওবায়দুলকে ধরা সম্ভব হয়েছে।

এসপি জানান, ওবায়দুলকে ধরতে সোনারায় ও এর আশপাশের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার রাত থেকে অভিযান চালানো হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওবায়দুলকে ডোমার সোনারায় বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন ওই এলাকার এক মাংস ব্যবসায়ী। তাকে একটি খাবার হোটেলে বসিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেন তিনি।

স্থানীয় সেই মাংস ব্যবসায়ীর তথ্য পেয়ে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, নীলফামারী পুলিশের এডিশনাল এসপি (সার্কেল) ফিরোজ আহমেদ জানান, ওবায়দুলকে ধরতে মঙ্গলবার রাতব্যাপী অভিযান চালায় পুলিশ। ডোমার থানার ওসি আহমেদ রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার রমনা থানার উপ-পরিদর্শক মোশারফ হোসেনসহ একদল পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

রাত ৮টার দিকে ওবায়দুলকে ধরতে ডোমার ব্র্যাক অফিসে হানা দেয় পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়।

এ সময় ডোমার ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারী সাহাদাত হোসেন ও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার শাখার ব্র্যাকের অফিস সহকারী ও ওবায়দুলের দুলাভাইয়ের ছোটভাই খুশবুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ভোররাতে সুযোগ বুঝে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে ওবায়দুল ডোমার থেকে নীলফামারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় ডোমার উপজেলার নীলফামারী ডোমার সড়কের খানাবাড়ী এলাকা হতে স্থানীয় একজনের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল ফুটওভার ব্রিজে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল। তার পেটের বাম পাশে ও বাম হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়।

টানা চার দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যায় রিশা।

এ ঘটনায় রমনা থানায় রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল খানকে (২৯) আসামি করা হয়।

অন্যদিকে খুনিকে গ্রেফতারের দাবিতে রিশার সহপাঠীরা বুধবারসহ টানা চারদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তারা ক্লাস বর্জন করে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করতে থাকে। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার শিক্ষার্থীরা রিশার খুনিকে ধরতে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: