মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অবশেষে বাড়ছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স  » «   টানা দুই সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে ঝুঁকিতে পড়বে নিবন্ধন: ইসি  » «   সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করুন: বিশ্বনেতাদের প্রধানমন্ত্রী  » «   আসামের নাগরিক তালিকা সংশোধন শুরু, চলবে দুই মাস  » «   শিক্ষার উন্নয়নে মুনাফার মানসিকতা ত্যাগের আহ্বান শেখ হাসিনার  » «   ভারতে ‘গণেশ’ বিসর্জন দিতে গিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু  » «   পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চান ভারতীয় সেনাপ্রধান  » «   প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন  » «   কাশ্মীরে বিদ্রোহীদের টার্গেট এখন পুলিশ  » «   রোহিঙ্গাদের জন্য ১৩শ কোটি টাকার মার্কিন সহায়তার ঘোষণা  » «   ট্রাক চাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ৫  » «   দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই সিনহার বিরুদ্ধে মামলা হবে: দুদক চেয়ারম্যান  » «   মানব পাচারের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে: জাতিসংঘে প্রতিমন্ত্রী  » «   আরপিও সংশোধন: সরকারের দিকে তাকিয়ে ইসি  » «   রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব  » «  

ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা



নিউজ ডেস্ক:: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ৩টি দেশকে অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা বাঙালিদের প্রথমে ভোটার করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। অগ্রাধিকার পাওয়া দেশগুলো হচ্ছে- কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্য। বাকি দেশগুলোতে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম হাতে নেবে কমিশন।আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ। সভায় সভাপতিত্ব করবেন এনআইডির ডিজি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

এর আগে প্রবাসীদের ভোটার করতে একাধিক কারিগরি টিম গঠন করা হয়। এ টিমের করণীয় ছিল; পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রবাসী বাঙালিদের পাসপোর্ট দেন; সে বিষয়ে আদ্যপান্ত তথ্য সংগ্রহ করা, পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ এবং দূতবাসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে তাদের ভোটার করা, ভোটার করতে আর্থিক কত ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করা এবং প্রথম নির্বাচিত দেশগুলোতে প্রচার চালানোর পদ্ধতি জানা। ইতোমধ্যে এসব দাফতরিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন সভা করে টিম পাঠানোর মাধ্যমে ভোটার কার্যক্রম শুরু করবে কমিশন।

ইসির যুগ্ম সচিব ও এনআইডির পরিচালক (অপারেশন) আবদুল বাতেন বলেন, প্রবাসীদের ভোটার হওয়া তাদের নাগরিক অধিকার। দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে তাদের ভোটার করতে কম-বেশি সরকার কিংবা কমিশন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এই কমিশনের আগে বাংলা ভাষাভাষীদের ভোটার করার উদ্যোগটি এতো সফলভাবে অতীতের কেউ আয়োজন করতে পারেনি। এবার সব পক্ষকে এক ছাতার তলায় এনে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় শিগগিরই প্রবাসীদের ভোটার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঈদুল ফিতরের আগেই কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সৌদি আরবসহ দু-একটি দেশে টিম পাঠিয়ে প্রবাসী বাঙালিদের ভোটার কাজ শুরু করার। নানা সীমাবদ্ধতায় সেটি আটকে যায়। পরে জুনে কমিশন আরেকটি সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়; গত মাস (জুলাই) থেকে ভোটার প্রক্রিয়া আরম্ভ করার। কিন্তু সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এতে আপত্তি তোলাতে এ কার্যক্রমও থেমে যায়। তাদের মতামত ছিল পরিকল্পনামাফিক এ কাজটি করার এবং ৫টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, আগের সৌদি, মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাত এ দেশগুলোকে বাদ দিয়ে কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে এ ৩টি দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এখন আনুষ্ঠানিক সভাটি শেষে আসন্ন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে টিম পাঠিয়ে ভোটার করার কার্যক্রম শুরু করবে কমিশন। এর জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সেরে রেখে ফেলেছে ইসি।

জানা গেছে, এ কমিশনের অধীনে গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর সোনারগাঁওয়ে বিভিন্ন দূতাবাস প্রতিনিধি, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা এবং প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনের সমন্বয়ে সেমিনার হয়। এই সেমিনারের মধ্যে প্রবাসী বাঙালিদের ভোটার করার দরজা খোলে।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, মধ্যপাচ্যে, ইউরোপ এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের ১৫৭টি দেশে অন্তত এককোটি প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা ভোটার তালিকায় তাদের নাম যেমন অন্তর্ভুক্ত হয় না, তেমনি তারা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বঞ্চিত। রাষ্ট্রের পরিচিতি পত্র না থাকায় নানা সমস্যায় পড়েন এসব নাগরিক। অথচ তারা প্রতিনিয়ত অবদান রাখছে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে দেশের উচ্চ আদালত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত বলে ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ১৯ বছরেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। বর্তমান কমিশনের এই উদ্যোগে তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অবসান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। এর আগে ১/১১ ড. শামসুল হুদা কমিশনের দুজন কমিশনার এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা নিতে যুক্তরাজ্য সফর করেছিলেন। এর পেছনে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সাবেক কমিশনাররা। জটিলতা শেষে এবার স্বপ্ন পূরণের পালা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: