বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ, ফার্মেসিতেই চিকিৎসা  » «   ৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত  » «   এবার স্পেনও ছাড়ালো চীনকে, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩৮ মৃত্যু  » «   সিলেট বিভাগে বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন বন্ধ  » «   করোনা মোকাবিলায় দেশে দেশে লকডাউন  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি, করোনা বদলে দিচ্ছে রাজনীতি  » «   খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্র  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখছেন ড. কামাল  » «   করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গ্রিসে লকডাউন  » «   বান্দরবানের ৩ উপজেলা লকডাউন  » «   ইতালিতে একদিনে ৭৪৩ জনের মৃত্যু  » «   ফ্রান্সে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮৬ মৃত্যু  » «   নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত ২০ হাজার ছাড়াল  » «   সাধারণ ছুটিতে চালু থাকবে ব্যাংক  » «   করোনাভাইরাস: উৎকণ্ঠিত সিলেট, উদ্বিগ্ন মানুষ  » «  

ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থার আশঙ্কাই অবশেষে সত্যি হলো। দেশটির আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার আরও কমেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৪.৫ শতাংশে। শনিবার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু অক্টোবরে ভারতের আটটি প্রধান পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উৎপাদন সরাসরি ৫.৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসেই রাজকোষ ঘাটতি ৭.২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা গোটা বছরের আনুমানিক রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণের থেকে বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশের আর্থিক বৃদ্ধির গড় হার ৩.৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছিল। তাকে ব্যঙ্গ করে ‘হিন্দু রেট অব গ্রোথ’ তকমা দেন অর্থনীতিবিদ রাজ কৃষ্ণ। সেই তকমা জনপ্রিয় হয়েছিল।

মোদি সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর জুলাইয়ে সংসদে আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে নতুন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পাল্টা বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস আমলে অর্থনীতি কেন দ্বিগুণ হয়নি? তখন কেন হিন্দু রেট অব গ্রোথ চাপানো হয়েছিল!’ এ বার মোদির আমলেই প্রবৃদ্ধির হার ৪.৫ শতাংশে নেমে আসায় প্রশ্ন উঠছে, ‘হিন্দু রেট’-এই কি ভারত ফিরে যাচ্ছে?

জেএনইউ-এর অর্থনীতির অধ্যাপিকা জয়তী ঘোষের বলেছেন, ‘হিন্দু রেট অব গ্রোথে তো তা-ও ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার ছিল। এখন কি বৃদ্ধি আদৌ হচ্ছে? না কি অর্থনীতির সংকোচন হচ্ছে? বেকারত্বের হার, সংসারের খরচ কমে যাওয়া, গাড়ি থেকে নিত্য প্রয়োজনের জিনিসপত্রের বিক্রি কমা, একের পর এক সংস্থার ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার মতো অর্থনীতির অন্যান্য মাপকাঠি কিন্তু সে কথাই বলছে।’’

আনন্দবাজার জানায়, ভারতের অর্থনীতির এই হালের কারণ হলো বাজারে বিক্রিবাটা কমেছে। কারখানার উৎপাদনে নিন্মমুখী। বেসরকারি লগ্নি আসছে না। বিশ্ব বাজারে ঝিমুনির ফলে রফতানিতেও ভাটার টান। অর্থনীতির চারটি ইঞ্জিনই ঠিক মতো না চলায় তার ধাক্কা লেগেছে অর্থনীতিতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ আজ অর্থনীতির অবস্থাকে ‘গভীর ভাবে চিন্তাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোদি সরকার ক্ষমতায় ফিরে ৫ লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু গত ছ’বছরে অর্থনীতির অবস্থা এতখানি খারাপ হয়নি। ২০১২-১৩-র জানুয়ারি-মার্চে বৃদ্ধির হার ৪.৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। সেই অর্থ বছরে বৃদ্ধির হার মাত্র ৪.৫ শতাংশ ছিল। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাস, এপ্রিল থেকে জুনে বৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ। পরের তিন মাসে তা ৪.৫ শতাংশে নেমে আসায় এই অর্থ বছরে বৃদ্ধির হার ৬ শতাং‌শের গণ্ডি টপকাতে পারবে কি না, তা নিয়েই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে বৃদ্ধির হার মাত্র ৪.৮ শতাংশ। যা গত বছরে ছিল ৭.৫ শতাংশ। তবে মোদি সরকারের অর্থনৈতিকবিষয়ক সচিব অতনু চক্রবর্তীর দাবি, ‘আইএমএফ-ই বলেছে, এ বছর বৃদ্ধির হার ৬.১ শতাংশে পৌঁছবে। আগামী অর্থ বছরে ৭ শতাংশ হবে। শেয়ার বাজারে লগ্নির আগমনও ইতিবাচক।’

মুখ্য অর্থনৈতক উপদেষ্টা কে ভি সুব্রহ্মণ্যনের দাবি, ‘অর্থনীতির ভিত মজবুতই রয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিক থেকেই বৃদ্ধির হার বাড়তে শুরু করবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: