বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তিন সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী যারা  » «   ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: চিদম্বরমের সময় অমিত, অমিতের সময় চিদম্বরম গ্রেপ্তার  » «   অক্টোবর থেকে মোবাইল অ্যাপে মিলবে বিমানের টিকিট  » «   আগামীকাল জুমার নামাজের পর গণবিক্ষোভের ডাক কাশ্মীরিদের  » «   হবিগঞ্জে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নবজাতক চুরি, নারী আটক  » «   কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ  » «   ভীতি কাটাতে চা বিস্কুট খেতে খেতে ভাইভা দেবেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা  » «   তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   রাস্তার পাশে চা বানাচ্ছেন মমতা! ভিডিও ভাইরাল  » «   ঋণের টাকায় ভারত থেকে অস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ  » «   কানাইঘাটে মৃত্যুর পাঁচ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন  » «   কাশ্মীরে ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান  » «   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে আজ  » «   পুলিশের ছেলে বিশ্বের এক নম্বর ডন  » «   জাহালম কাণ্ড: ১১ তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা  » «  

ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৬



ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৬ ফাইল ছবি

সিলেটে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে পলাতক তিনজন, অপর তিনজন কারাবন্দি আছেন। সম্পূরক অভিযোগপত্রেও ফটোসাংবাদিক ইদ্রিছ আলীসহ ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

শনিবার সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী সন্ত্রাসবিরোধী ধারা যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট ৩০২ ও ৩০৪ ধারায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল সিআইডি। অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হলে পর্যবেক্ষণ আদেশে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী ধারা যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী গত ১৮ জানুয়ারি সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার জিআর শাখায় জমা দিয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার জিআর শাখা সূত্র জানায়, সম্পূরক অভিযোগপত্রের সঙ্গে মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন ২০১৩-এর ৪০-ধারায় অনুমোদনেরও আবেদন করা হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর করা আবেদন অনুমোদন করে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ছয়জন হচ্ছেন- কানাইঘাট উপজেলার ফালজুর গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন (২৫), খালপার তালবাড়ির ফয়সাল আহমেদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিরেন্দ্রনগর (বাগলী) গ্রামের হারুন অর রশিদ (২৫), কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহি ওরফে মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে ইবনে মইন (২৪), ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশিদ আহম্মেদ (২৪) ও সিলেট নগরের রিকাবিবাজারের সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)। এর মধ্যে অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে আবুল, ফয়সাল ও হারুন পলাতক। বাকি তিনজন গ্রেফতার আছেন।

মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া ফটোসাংবাদিক ইদ্রিছ আলীসহ ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছ। ইদ্রিছ আলী ছাড়াও অব্যাহতি প্রাপ্ত অন্য ৯ জন হচ্ছেন- কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের মোহাইমিন নোমান, ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া মো. সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান ওরফে গামা, আমিনুল মল্লিক, জাকিরুল্লাহ ওরফে হাসান, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আহসান, জুলহাস বিশ্বাস, মো. জাফরান হাসান ও আবুল বাসার।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১২ মে সকালে কর্মস্থলে যেতে বাসা থেকে বের হয়ে সিলেট নগরের সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে অনন্ত বিজয় দাশকে (৩২)। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদ নিয়ে ব্লগে লেখতেন। তার লেখা ও সম্পাদিত বিজ্ঞানবিষয়ক বই রয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক ছোটকাগজ ‘যুক্তি’ নামে একটি পত্রিকা নিয়মিত সম্পাদনা করতেন। সিলেটে পরিচালিত বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অনন্ত।

ঘটনার একদিন পর অনন্তের বড় ভাই রতেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত ৪ দুর্বৃত্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলা তদন্তভার সিআইডিতে স্থানান্তর হলে ফটোসাংবাদিক ইদ্রিছ আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে কোনো তথ্য না পাওয়ায় পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ আগস্ট দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন হলে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ৩০২ ও ৩০৪ ধারায় দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা অভিযোগপত্রে অনন্ত বিজয় দাশকে সুকৌশলে ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নৃশংসভাবে হত্যা করার বিষয়টি এসেছে। অপরাধের প্রকৃতি ও ধরন বিবেচনায় মামলাটির বিচার ও অভিযোগপত্র দাখিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আলোকে সমীচীন।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে সন্ত্রাসবিরোধী ধারা যুক্ত করা প্রসঙ্গে সিআইডির পরিদর্শকের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদালতে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত আসামিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী তথা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় মামলার বিচার ও অভিযোগপত্র সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আলোকে হওয়া সমীচীন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন (সংশোধন) ২০১৩-এর ৪০ ধারার বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এত ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: