রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Sex Cams
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ক্ষুব্ধ নগরবাসী  » «   শহীদের সঙ্গে প্রেম ভাঙলো কার দোষে? মুখ খুললেন কারিনা  » «   বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেল সখীপুরের ২ হাজারের বেশি মানুষ  » «   সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় অস্ত্রের চালান নিখোঁজ  » «   মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকালে আটক ৪  » «   হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন লন্ডনের সেই মুয়াজ্জিন  » «   ঋণখেলাপিদের অর্থ কোথায় যায়  » «   ভাষা দিবসে কলাগাছের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা  » «   এক হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জিপি  » «   সেই জার্মান বন্দুকধারীর হিটলিস্টে বাংলাদেশিরা  » «   আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি আক্রান্ত  » «   আগুনে ১০ ঘর পুড়ে ছাই  » «   ঈশ্বরদীতে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২  » «   চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ সেনাসদস্য আটক  » «   ভারতে দুই স্বর্ণখনির সন্ধান, মজুত ৩৩৫০ টন  » «  

ব্যারিস্টার সুমনকে জেরা করলেন ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী



নিউজ ডেস্ক:: ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনকে জেরা করেছেন মামলার আসামি সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আ স সামশ জগলুল হোসেনের আদালতে তাকে জেরা করেন ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। তার জেরা শেষ হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আ স সামশ জগলুল হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১৭ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আ স শামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২৭ মে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত তার জবানবন্দি নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করেন এবং নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।

মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছেন নুসরাত জাহান রাফি। সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন নুসরাতকে। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি না -এমন প্রশ্নও করতে শোনা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে।

অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় গেলে মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে -এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: