সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ক্যাসিনো পঞ্চপাণ্ডবের রইল বাকি ১  » «   পুলিশের ওপর হামলা: দুই ‘জঙ্গি’ আটক  » «   সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে চালকদের প্রতিযোগিতায় যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ৭  » «   ইনস্টাগ্রামে ট্রাম্প-ওবামাকে পেছনে ফেললেন মোদি!  » «   একটি মোবাইল চার্জারের দাম ২২ হাজার টাকা  » «   বেতন বৈষম্য: কর্মবিরতিতে সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষক  » «   আবরার হত্যা: শেষ চার ঘণ্টার নৃশংসতার চিত্র  » «   সংবিধান পড়ে শোনালেন আমান, পুলিশ বলল ‘গো ব্যাক’  » «   বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু  » «   আবরার হত্যায় এবার মুজাহিদের স্বীকারোক্তি  » «   তিন সপ্তাহ ধরে কার্যালয়ে যান না যুবলীগ চেয়ারম্যান  » «   নোবেল পুরস্কার র‌্যাব-পুলিশের হাতে নয় : রিজভী  » «   বুরকিনা ফাসোতে মসজিদে ঢুকে ১৬ মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা  » «   হবিগঞ্জে পাচারকালে ১২শ’ কেজি রসুন জব্দ  » «   সৌদি-ইরান উত্তেজনা মধ্যস্ততায় তেহরানের পথে ইমরান খান  » «  

ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে নিয়ে পালালেন অধ্যক্ষ সিরাজের স্ত্রী



নিউজ ডেস্ক:: ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা যখন জেলে, তখন তার (সিরাজ) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (হিসাব) থেকে ১৮ লাখ টাকা তোলেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। ২৭ মার্চ রাফির মা শিরিন আক্তারের করা ওই মামলায় সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের এ অর্থ উত্তোলন করা হয়।

এ অর্থ অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন ও রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করতে খুনিদের পেছনে ব্যয় করা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘২৮ মার্চ সিরাজের স্ত্রী তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করেন। টাকার পরিমাণটি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

জেলে থাকার পরও সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে কিভাবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হল- জানতে চাইলে একই দিন রাত ৮টার দিকে টেলিফোনে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে থাকতে পারে। আজ (শনিবার) ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না, কিভাবে টাকাটা তুলেছে। এমনও হতে পারে সিরাজের স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। ব্যাংক খোলা হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত বলতে পারব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ওই টাকা প্রথমে অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন, পরে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়। আর সিরাজের নির্দেশেই এ টাকা তোলেন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। পরে এর একটি অংশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, ছাত্রদল নেতা নুরুদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীমকে দেন তিনি। এ টাকা পাওয়ার পরই তিনজনের নেতৃত্বে ‘সিরাজ উদ্দৌলা সাহেব মুক্তি পরিষদ’ গঠন করা হয়।

এদিকে রাফি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পর শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে শাহাদাত হোসেনের পরিকল্পনায় রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরদৌস আরা জনতা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে অধ্যক্ষের সহযোগীদের হাতে তুলে দেন। তারপরই মূলত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের প্রত্যক্ষ মদদে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন শুরু হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এমনকি যারা শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন তাদের সঙ্গে মাকসুদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

৬ আগস্ট সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে যায় রাফি। দুর্বৃত্তরা কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ওইদিনই গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মারা যান।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: