মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অগ্নিঝুঁকিতে ঢাকার ৪১৬ হাসপাতাল-ক্লিনিক  » «   ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ফেসবুক ‘ডিজিটাল গ্যাংস্টার’: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট  » «   মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর  » «   পাকিস্তান থেকে ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরলেন সৌদি যুবরাজ  » «   দুই বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হবে বিএনপি!  » «   মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিকী আত্মহুতি  » «   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আজ শেষ হল বিশ্ব ইজতেমা  » «   আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক  » «   ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিরুদ্ধে ১৬ অঙ্গরাজ্যের মামলা  » «   মেডিকেলের ডাস্টবিনে শিশুসহ ২৬ মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ  » «   উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ থেকে ইভিএম: ইসি সচিব  » «   হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি হিজড়াদের  » «   সব বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   অভিজিৎ হত্যা: অব্যাহতি পাচ্ছেন সাতজন, আসামি ছয়  » «  

বৃষ্টি বরণ করলো বর্ষাকে



khadomনিউজ ডেস্ক :: আষাঢ়ে প্রকৃতি ‘সজল শ্যাম ঘন দেয়া’কে সাদর সম্ভাষণ জানায়। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে উদীচীর বর্ষা উৎসবে এমন ঘটনাটিই ঘটলো। সকাল থেকে তপ্ত রোদের আবরণে ছায়া ছিল পুরো আয়োজন। সংগীতের সুর আর নূপুরের ধ্বনিতে মুখরিত আয়োজন শেষে তখন বর্ষা-কথনের পালা। সে সময়ই মেঘদূত বর্ষার বার্তা পাঠিয়ে দিলেন। কথন সংক্ষিপ্ত হলেও ছাতার আড়ালে সবাই মিলে হলো চমৎকার আড্ডা। যার মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদীচীর বর্ষা উৎসব। সর্বকণ্ঠ মিলে একসঙ্গে গেয়ে উঠলো ‘হে বর্ষা তোমায় স্বাদর সম্ভাষণ’।

ময়ূরের পেখম দোলানো বর্ষারানীকে বরণ করে নেয়া হয় নাচ-গান-কবিতার মধ্য দিয়ে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে বসে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর বর্ষা উৎসব।

বর্ষা উৎসবে ছিলো দর্শক-শ্রোতাদের উপচে পড়া ভিড়। আর আগত অনেকেরই পরনে ছিলো বর্ষার ইঙ্গিতবহ পোশাক। আকাশী-নীল শাড়ির সঙ্গে খোঁপায় বেলী ফুলের মালা আর হাতে প্রিয়জনের দেয়া কদম ফুল- সবমিলিয়ে বুধবার বর্ষাপালনে আসা প্রতিটি নারী ছিলো এক একজন বর্ষারানী! মেয়েদের সঙ্গে তাল দিয়ে ছেলেরাও পিছিয়ে ছিলো না। তারাও নীল পাঞ্জাবি আর ফতুয়া পরে ঘুরে বেড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এপার থেকে ওপার। অনেকে আবার বর্ষার কবিতার পঙক্তি আর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরেও দিনটিকে পার করছেন।

আয়োজনের শুরুটা ছিল শিল্পী প্রিয়াংকা গোপের সুরেলা কণ্ঠ সংগীতের মধ্য দিয়ে। তিনি পরিবেশন করেন রাগ মিয়াক মল্লার। শিল্পী সালমা আকবরের কণ্ঠে গীত হয় ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’। মাহমুদ সেলিম গেয়ে শোনান ‘রিমঝিম রিমঝিম’, ছায়া কর্মকার ‘আজি হৃদয় আমার’। একক কণ্ঠে আরো সংগীত পরিবেশন করেন সাজেদ আকবর, অনিমা মুক্তি গোমেজ, সোহানা আহমেদ প্রমুখ।

দলীয় সংগীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, স্বভূমি, পঞ্চভাস্কর, উস্তাদ মমতাজ আলী খান সঙ্গীত একাডেমী, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, এবং মিরপুর, গেন্ডারিয়া, কাফরুল ও সাভার শাখার শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, বেলায়েত হোসেন, কাজী মদিনা ও ঝর্ণা সরকার। ছিল দলীয় নৃত্য। পঞ্চভাস্কর ‘বসন্তে আবাসের দিন’ ও স্পন্দন ‘মন মোর মেঘের সনে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ছিল বর্ষা কথন। এতে অংশ নেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সভাপতি কামাল লোহানী, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ দ্বীজেন শর্মা, কৃষিবিদ ও উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ এবং উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার।

বৃষ্টিভেজা বর্ষা কথন পর্বের সঞ্চালনা করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। আর উদীচীর পক্ষ থেকে বর্ষার ঘোষণা পাঠ করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান ইকবাল।

ছাতা মাথায় ধরে বর্ষা কথন পর্বে কামাল লোহানী বলেন, ‘বর্ষা এলে রাস্তাঘাট ডুবে যায় কখনও কখনও। কিন্তু আজকাল রাজধানী শহর সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। কারণ পাড়া মহল্লায় যে ডোবা পুকুরগুলো ছিল, তা ভরাট করে বহুতল ভবন উঠেছে। জল নিকানোর ব্যবস্থাও তেমন নেই। তো ওই বর্ষণ যাবে কোথায়, জমে রাস্তায়। জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে তাই তাপপ্রবাহ কমে তো নাই বরঞ্চ বেড়েই যায় নিদারুণ। আমরা শহরে ‘বর্ষামঙ্গল’ অনুষ্ঠান করি। আনন্দে-উল্লাসে যে বর্ষা নিয়ে সাহিত্য হবে, সংস্কৃতি সৃষ্টি করবে তাও তো দেখা পাই না। তাই ঐতিহ্য সচেতন হতে হবে আমাদের।’

প্রতি বছরের মতো এবারও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুল তলায় ‘বর্ষা উৎসব’- এর আয়োজন করা হয়। দুই পর্বের আয়োজনের সকালে পর্বের শুরুটা ছিল দোতারা ও বাশিঁ বাদনের মধ্যে দিয়ে। বর্ষা কথনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সভাপত্বিত করেন সংগঠনের সভাপতি ড.হায়াৎ মামুদ।

সকালের পর্বে দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন ওস্তাদ মোমাতাজ আলী সংগীত একাডেমি, সুরসপ্তক, পঞ্চভাস্কর, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী । দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন নটরাজ, স্পন্দন, নৃতাক্ষ ও নৃত্যম। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, সালমা আকবর চৌধুরী, আবুবক্কর সিদ্দিক, অণিমা রায়, ইফফাত আরা নার্গিস, ও তানভির সজিব । একক আবৃত্তি পাঠ করেন লায়লা আফরোজ ও রফিকুল ইসলাম।

বিকেলের পর্বে দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন স্ব-ভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, দৃষ্টি, ধ্রুব শিশু কিশোর সংগঠন, কল্পরেখা, বাশুঁরিয়া ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী । দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন স্বাধীনতা একাডেমি ও নৃত্যজন। একক সংগীত পরিবেশন করবেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, সরদার রহমত উল্লাহ, জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, তানজিলা তমা, আনজুমান ফেরদৌস কাকলি, নারায়ন চন্দ্র শীল, সঞ্জয় কবিরাজ, এসএম মেজবা, রতনা সরকার, শ্রাবনী গুহ রায়, শহিদুল ইসলাম সৌরভ, নবনীতা জাইদ চৌধুরী, আরিফ রহমান, সমর বড়ুয়া, খগেন্দ্র নাথ সরকার, প্রমুখ।

একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন শিমুল মুস্তাফা, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, মজুমদার জুয়েল, রেজীনা ওয়ালী লীনা, নায়লা তারানানুম চৌধুরী কাকলি, ফয়জুল আলম পাপ্পু, মাসুদুজ্জামান ও আজিজুল বাশার মাসুম।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: