সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
মুসলিম বিশ্ব বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জর মুখে: সৌদি বাদশাহকে এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি  » «   ‘জগাখিচুড়ি মার্কা ঐক্য টিকবে না’–কাদের  » «   ইমরানের এক টুইটেই দরজা বন্ধ!  » «   কুচকাওয়াজে হামলার প্রতিশোধে ইরানকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ৩ উৎকণ্ঠা ৩ দাবি  » «   টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই  » «   সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে: প্রধানমন্ত্রী  » «   জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ না হওয়ার কারণ দেখছি না: বনমন্ত্রী  » «   যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদলের বিজয় দাবি  » «   দেশের তিন শিশুর একটি খর্বকায়  » «   লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর হো‌টে‌লের সাম‌নে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএন‌পির বিক্ষোভ  » «   বিশ্বের চতুর্থ ভয়ঙ্করতম সংগঠন মাওবাদী!  » «   ফেঁসে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা  » «   শাবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের পানিতে মিলছে কেঁচো-জোঁক!  » «  

বুড়িচংয়ে শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে ৫ ছাত্র



নিউজ ডেস্ক::কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসেনকে স্কুল চলাকালীন সময় পিটিয়ে আহত করেছে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ৫ ছাত্র। সোমবার (১৯ মার্চ) এ ঘটনা ঘঠে।

জানা যায়, দশম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্ররা নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতো বলে মেয়েদের শ্রেণি কক্ষ পরিবর্তন করায় শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে বখাটে ছাত্ররা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এস.এস.সি পরীক্ষার পূর্বে বিদ্যালয়ের মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের ২য় তলায় ক্লাস নেয়া হতো। তাদের ক্লাসের পাশেই ছিল নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণি কক্ষ। নবম শ্রেণির ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেন মডেল টেস্টে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক জন ছেলে তাদের উত্ত্যক্ত করে আসছে। মেয়েদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ছেলেদের সতর্ক করে দেন শিক্ষকরা। কিন্তু এতেও কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে সোমবার সকাল ১০ টায় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ২৮জন শিক্ষক একটি জরুরী সভা করেন। সভায় সকল শিক্ষকদের সম্মতিক্রমে নবম শ্রেণির মেয়েদের শ্রেণি কক্ষ পরিবর্তন করে নিচ তলায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য কয়েকজন ছেলে। সভা শেষে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসেন শিক্ষদের অফিস রুমে বসা ছিল।

এসময় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোঃ হালিম, মোঃ শাহীন, মোঃ যোবায়ের, মোঃ জিহাদসহ ৫ ছাত্র অফিস রুমে এসে আমির হোসেনের কাছে নবম শ্রেণির মেয়েদের শ্রেণি কক্ষ পরিবর্তানের বিষয়টি জানতে চায়।

এসময় শিক্ষক আমির হোসেন জানান, সকল শিক্ষকদের সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ওই ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে আমির হোসেনে উপর হামলা চালায়। ছাত্ররা আমির হোসনকে এলোপাথারি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে শিক্ষক আমির হোসেন মাটিতে পরে গেলে তাঁকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্ররা। আমির হোসেনের চিৎকারে অন্য শিক্ষক ও অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসে। এসময় আমির হোসেন প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে প্রধান শিক্ষকের অফিস রুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করায় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা ক্ষেপে গিয়ে ওই ৫ ছাত্রকে ধাওয়া দেয়। কিছুক্ষন পর ওই ৫ ছাত্র বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে অন্য শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এসময় বিদ্যালয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে শিক্ষকের উপর হামলাকারী ছাত্রদের মধ্যে মধ্যে মোঃ হালিমের মাথা ফেটে যায়।

খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামসুল হক মুন্সি, মোকাম ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সি, হাজী হুমায়ূন কবির মেম্বার, আরুন কুমার পালসহ গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জরুরী সভায় বসেন।

সভায় আহত শিক্ষক আমির হোসেনসহ অটককৃত তিন ছাত্র ও তাদের অভিভাকরা উপস্থিত হয়। সভায় ঘটনাটি সমাধান না করতে পারায় আগামী শনিবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০ টায় পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আহত শিক্ষক আমির হোসেন পুলিশের কাছে লিখিত কোন অভিযোগ না করায় আটককৃত ছাত্রদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষকে মারধর করার বিষয়টি অত্যান্ত লজ্জাজনক, সংঘর্ষে বাঁধা দেওয়ার সময় ছাত্ররা আমার উপরও চড়াও হয়ে উঠে। তাঁদের সঠিক বিচার করা দরকার। আগামী শনিবার বিদ্যালয়ে পুনরায় সভার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

আহত শিক্ষক আমির হোসেন জানান, আমি এই বিদ্যালয় থেকেই পড়ালেখা করেছি। দীর্ঘ ২৭ বছর যাবত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করে আসছি। মেয়েদের অভিযোগের ভিত্তিতে সকল শিক্ষকদের সম্মতিক্রমে শ্রেণি কক্ষ পরিবর্তন করা হয়েছে।

এটা আমার একা কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার কোন ক্লাস না থাকায় আমি অফিস রুমে বসা ছিলাম, মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ জন ছাত্র হঠাৎ আমার উপর অতর্কিত হামলা চলায়। হামলায় আমি বুকে ও মুখমন্ডলে আঘাত পেয়েছি, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আমি বাড়ীতে চলে এসেছি।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ওসি (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ স্কুলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন আমাদের কাছে এদের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা অভিযোগ দিলে তারপর আইগত ব্যবস্থা নিবো।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: