শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অবশেষে বিপিএলে মাঠে নামছেন মোস্তাফিজ!  » «   ‘গণতন্ত্র অব্যাহত রাখায় অবদান রাখবে সেনাবাহিনী’  » «   সৌদিতে লিফট ছিঁড়ে আহত যুবকের মৃত্যু  » «   নায়করাজই আমাকে তার জীবনী লিখতে বলেছিলেন : ছটকু আহমেদ  » «   জীবনের শেষ চিঠিতে যা লিখে গেলেন এই তরুণী!  » «   ঝরে পড়ার হার অনেক কমেছে: শিক্ষামন্ত্রী  » «   বাংলাদেশ-বার্মা সমঝোতা ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ফিরতে শুরু করবে রোহিঙ্গারা  » «   অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি  » «   আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০  » «   বৃহস্পতিবার সারা দেশে হরতাল  » «   মাদকদ্রব্য বহনকারী প্রাইভেটকার চাপায় নিহত ১  » «   স্কুলজীবনে দেখতে যেমন ছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড মানুসী  » «   ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় হাসপাতালে বাবা ও চাচা  » «   হেলিকপ্টারে উড়ে চট্টগ্রামে মাশরাফি  » «   মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল তিন মোটরসাইকেল আরোহীর  » «  

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যক্তাকে ধর্ষণ : ভিডিও ইন্টারনেটে



নিউজ ডেস্ক::বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলাকে ধর্ষণ করে ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার খরিসাক্ষা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম আল মামুন (২৪)। তিনি নাটোর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি (এনএস) কলেজের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের ছাত্র ও পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সমশের আলীর ছেলে।

গত ২০শে জুলাই ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার পর গত ২রা আগস্ট বুধবার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী পুঠিয়া থানায় হাজির হয়ে আল মামুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া এলাকার জনৈক ব্যক্তির স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে একই উপজেলার সৈয়দপুরে গ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আল মানুনের বাড়িও সেই সৈয়দপুর গ্রামে।

সেই সুবাদে স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর সঙ্গে আল মামুনের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকরির সুবাদে আল মামুনের গ্রামে ওই নারীকে প্রায় প্রতিদিন যেতে হয় এবং তার সঙ্গে প্রায়ই সাক্ষাতও হতো। এক পর্যায়ে ফোনেও একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা বলা শুরু হয়।

এভাবে চলতে থাকলে বেশ কিছুদিন পর আল মামুন ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ায় ওই নারীও মামুনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। হঠাৎ করে গত ১৫ই মে বিকেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে সে রাজশাহী শহরে নিয়ে আসেন।

এর আগে তাকে বিয়ে করা হবে এই তথ্য অন্য আর কাউকে বলতে নিষেধ করেন আল মামুন। সেই দিন ওই যুবক রাজশাহী শহরের বিভিন্ন জায়াগায় তাকে নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে রাত হয়ে গেলে কাজী নেই ছলনা দিয়ে কাল বিয়ে হবে বলে আল মামুন ওই নারীকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়।

পরে ওই নারীকে সঙ্গে করে তার (মামুনের) এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে গিয়ে স্ত্রীর পরিচয় দেন। সে রাতেই আত্মীয়ের বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করে মামুন। তাকে ধর্ষণ করে ক্ষান্ত হয়নি সে ধর্ষণের ভিডিও নারীটির অজান্তে মোবাইলে ধারণ করে তাকে ফেলে রেখে চলে যায়।

পরের দিন সকালে ওই নারী একাই বাড়িতে চলে যায়। এরপর মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মামুন তাকে বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে আবারও শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে, নইলে সে রাতের ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

অনেক ফুসলানোর পর শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে গত ২০শে জুলাই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় মামুন। এরপর গত ২রা আগস্ট বুধবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে আল মামুনকে আসামি করে পুঠিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গত বুধবার মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছাড়া হয়েছিল। তাকে ধরতে ওই দিন রাত থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছে। এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি মামুন নাটোরের সিংড়া উপজেলার খারাসাক্ষা গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

পরে তাকে পুঠিয়া থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। সূত্র: মানবজমিন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: