মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাজমিস্ত্রি সেজে খুনি ধরলেন এসআই লালবুর রহমান!  » «   আগামী ৫ জুন পবিত্র ঈদুল ফিতর!  » «   বাংলাদেশের সঙ্গে ঝামেলা করতে চাচ্ছে পাকিস্তান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ: রিজভী  » «   শ্লীলতাহানির বিচার না পেয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা, ওসি প্রত্যাহার  » «   ৩৪ পয়েন্টে ওয়াসার পানি পরীক্ষার নির্দেশ  » «   যেভাবে গণনা হবে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোট  » «   ঋণখেলাপিদের গণসুবিধার নীতিমালায় স্থিতি অবস্থার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট  » «   স্বামী- স্ত্রী পরিচয়ে পতিতাবৃত্তি, সাংবাদিক পরিচয়ে ব্লাকমেইল!  » «   পাকিস্তানের নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করল বাংলাদেশ  » «   সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দা নগরীতে হুতিদের মিসাইল হামলা  » «   সারাদেশের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট  » «   আত্মহত্যাচেষ্টার আগে শোভন-রাব্বানীর উদ্দেশে ফেসবুকে যা লিখলেন দিয়া  » «   এক সময়ের কোটিপতি এখন ভাঙারি দোকানের শ্রমিক!  » «   বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে সিরাজ  » «  

বিশিষ্টজনদের দৃষ্টিতে রসিক নির্বাচন



নিউজ ডেস্ক::রংপুর সিটি করপোরেশন ( রসিক) নির্বাচনে কোনো ধরনের গোলযোগ-সহিংসতা না হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনে ইসির প্রতি অংশীজনের আস্থা বড়বে বলে মত দিয়েছে নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

রসিক নির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দলটি অভিযোগ করলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ওই অভিযোগ ‘সঠিক নয়। রংপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে; একটি মডেল নির্বাচন হয়েছে।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখওয়াত হোসেন বলেন, ‘রংপুরে নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা প্রশংসনীয়, এ নির্বাচনে মধ্যেমে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশীজনের আস্থা বড়বে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন রংপুর নির্বাচনের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা করেছিল সেটি সফল হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে সব কিছু পর্যাপ্ত ছিল। আমাদের সময় স্থানীয় নির্বাচনে আমরা এত বেশি সক্রিয় ছিলাম না।’

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ‘উৎসবমুখর’ পরিবেশ ভবিষ্যতের জন্য ‘মডেল’ হয়ে থাকবে। কোনো ধরনের গোলযোগ-সহিংসতা না হওয়ায়, কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠায় এ ভোটের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি অংশীজনের আস্থা বাড়াবে বলেও তার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, কোনো সংহিসতা নেই, অনিয়ম নেই, কারচুপি নেই। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোয় যে চিত্র দেখেছি তা ছিল না। এক কথায় বলা যায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। প্রশাসান, সরকার এবং কমিশনের সদ ইচ্ছে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব তা প্রমানিত হল।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রংপুরে একটি সমন্বিত নির্বাচন হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য যা যা করা দরকার, তাতে সবার সহযোগিতা ছিল। এটাকে মডেল নির্বাচনও বলা যায়। এ রকম নির্বাচনই মানুষ প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে থেকে কাজ করছি। প্রার্থীদের সঙ্গে সংলাপ করেছি, এখানে সবাই অন্তরিকতা দেখিয়েছে। ছোট খাট বিষয় ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় রংপরে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। তবে রংপুরে নির্বাচনের ফল দেখে আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আগাম কোনো বিশ্লেষণ করাও ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় ভোটারদের একটি ফ্যাক্টর কাজ করে, স্থানীয় বিশেষ লোকের, নিজ এলাকার ভোটারদের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এটা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আবহে অ্যানালাইসি করা যায় না।

আগের কমিশনের উদাহরণ দিয়ে সুজনের সম্পাদক বলেন, রকিব কমিশন ২০১৩ সালে ৪ সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করেছিল। পরে ২০১৪ তে এসে বিতর্কিত নির্বাচন দিয়েছে। ফলে বলা যাবে না। স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সংসদ নির্বাচন একই হবে।

সাবেক কমিশনার শাহ নেওয়াজ নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেও ইভিএম ব্যবহার করতে পারিনি। বর্তমান কমিশন একটি কেন্দ্রে হলেও ইভিএম ব্যবহার করে সফল হয়েছে। বড় আকারে ব্যবহার করলে হয়ত সমস্যা দেখা দিত। তারপরও বলব বর্তমান কমিশন যে প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এটা পজেটিভ।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ভোটের পর নিজেদের মেয়াদের এক বছরের মাথায় রংপুরে শান্তিপূর্ণ এই ভোটকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ বলেই মনে করছে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি। এই কমিশনের অধীনেই আগামী বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।

সংসদের আগে জুনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ নির্বাচন, উত্তর-দক্ষিণে ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনেরও ভোট করতে হবে এ ইসিকে।

দলীয় প্রতীকে রসিক নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তফিজার রহমান মোস্তফা লাঙ্গল প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
তার চেয়ে ৯৮ হাজার ৮৯ ভোট কম পেয়ে হার মানতে হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। মেয়র পদে ভোটে তৃতীয় হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা। ধানের শীষ প্রতীকে তার ভোট ৩৫ হাজার ১৩৬

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: