মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাতে দেশ ছাড়ছেন মাহমুদউল্লাহ-মুস্তাফিজ  » «   পারিবারিক অশান্তির মূলে পরকীয়া  » «   ‘এই সুমি সেই সুমি’  » «   সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ প্রিয়া প্রকাশ  » «   খালেদার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার বিষয়ে যা বললেন আ’লীগ নেতারা  » «   পাবনায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বই পড়া ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   পাবনা জেলা বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির কমিটি গঠন শাহাদত সভাপতি রাসেল সম্পাদক  » «   কানাডায় বাংলাদেশি তরুণীর কৃতিত্ব  » «   মাথা না ধুলে ফরজ গোসল হবে?  » «   হোটেলে রুম ফাঁকা নেই, ফিরিয়ে দেয়া হলো মোদিকে  » «   ‘বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না’  » «   হবিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি,আহত ৩০  » «   পোশাক নিয়ে আলোচনায় সোহানা সাবা  » «   ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত শহীদ মিনার  » «   চুনারুঘাটে অগ্নিকান্ডে ২টি দোকান পুড়ে ছাই  » «  

বিলুপ্তির পথে কাঠঠোকরা



শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার ::  গ্রামবাংলা অতি পরিচিত চেনা কাঠঠোকরা পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে। কক্সবাজার জেলার বন, বাগান ও লোকালয়ে সর্বত্র বিচরণ করে, একাকী, জোড়ায় বা পারিবারিক দলে দেখা যেত কাঠঠোকরা । গাছের কান্ড ও ডালে হাতুড়ির মত আঘাত করে অথবা মাটিতে ঝরাপাতা উল্টে এরা খাবার সংগ্রহ করতো। এখন সেই কাঠঠোকরা আগের মতো আর চোখে পড়ে না। দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে।

কাঠঠোকরার খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া, শুয়োপোকা, বিছা, মাকড়শা, অন্যান্য পোকামাকড় এবং ফুল ও ফলের রস। শক্ত পা ও অনমনীয় লেজে ভর দিয়ে ছোট ছোট লাফ মেরে এরা গাছের কান্ড বেয়ে উপরে ওঠে, একটি গাছ থেকে অন্য ওড়ে যাওয়ার সময় উচ্চ স্বরে ডাকে- কিয়ি কিয়ি-কিয়ি-কিয়ি-কিয়িকিয়িয়িইরররর-র-র-র।

ফেব্রুয়াারি মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রজনন ঋতুতে গাছের কান্ডে গর্ত খুঁড়ে বাসা বেঁধে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, ৩টির বেশি ডিম পাড়েনা কাঠঠোকরা। পুরুষ ও মেয়ে পাখির উভয়ই বাসার সব কাজ করে। বাসায় হামলা হলে ছানারা সাপের মত হিসহিস শব্দ করে। কাঠঠোকরা দেখতে খুবই সুন্দর সুলভ আবাসিক পাখি। সব বনে ও লোকালয়ে এ পাখি গুলো দেখা যায়, তাও আবার খুব নগন্য। পাখিদের আভাসস্থল দিনদিন নষ্ট হওয়ায় কাঠঠোকরাও নিচিহ্নত হতে চলেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আলী কবির বলেন, কাঠঠোকরা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।

তিনি আরো বলেন, কাঠঠোকরার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ‘বাংলার শক্তিমান’। পাখিটি বাংলাদেশে শুধু কাঠঠোকরা নামে পরিচিত। পাখিটি লম্বাতে ২৯ সেমি, ওজন ১০০ প্রাম মত হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ সোনালী-হলুদ, দেহতলে কালো আইশের দাগ, ওড়ার পালক ও লেজ কালো, থুতনিতে কালো ডোরা, সাদা ঘাড়ের পাশে কালো দাগ, বুকে মোটা কালো আইশের দাগ, চোখে কালো ডোরা, ডানার গোঁড়ার ও মধ্য-পালক ঢাকনিতে সাদা বা ফিকে ফুটকি এবং পিঠ ও ডানার অবশেষ সোনালি। সবুজ গোলকসহ এর ঠোঁট লালচে-বাদামি, পা ও পায়ের পাতা ধূসর সবুজ এবং ঠোঁট শিঙ-রঙ এবং কালোর মিশ্রণ। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য তাদের চাঁদি এবং ঝুটির রঙে, ছেলেপাখির চাঁদি ও ঝুটি উজ্জল লাল এবং মেয়েপাখির সাদা বিন্দুসহ চাঁদির সামনের অংশ কালো ও পিছনের ঝুটি লাল। তরুণ পাখির অনুজ্জল দেহ ও চাঁদির সামনের ভাগের সাদা বিন্দু ছাড়া দেখতে মেয়েপাখির মত।

বিভাগীয় এই বন কর্মকর্তা আরো বলেন, চার উপপ্রজাতির কাঠঠোকরা বাংলাদেশে আছে। গ্রামে সাধারণত দু-ধরণের কাঠঠোকরা পাখি বেশি দেখা যায় । পুরুষ কাঠঠোকরা পাখি দেখতে মুঘল আমলের রাজাদের মত মাথার উপরে স্বর্ণের মুকুট পড়া । আর মেয়ে পাখি দেখতে রাজ্যের প্রধান সেনাপতির মত। কাঠঠোকরা নয়, বনের সব ধরনের পশু-পাখি, জীবজন্তুর আভাসস্থল ঠিক বনায়ন রক্ষার আবেদন জানান তিনি।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: